খালেদার মুক্তি : নারায়ণগঞ্জের রিজভীর অনশনে মৃত্যু কী মনে রাখবে দল


সিটি করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ১০:৩৩ পিএম, ২৫ মার্চ ২০২০, বুধবার
খালেদার মুক্তি : নারায়ণগঞ্জের রিজভীর অনশনে মৃত্যু কী মনে রাখবে দল

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পেয়েছেন। তারা সাজা ৬ মাসের জন্য স্থগিত করে বয়স বিবেচনায় তাকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য যখন দল ও নেতাকর্মীরা আন্দলন সংগ্রাম করে ব্যর্থ ও দলের আইনজীবীরাও আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যর্থ তখন নেত্রীর মুক্তির জন্য আমরণ অনশন করতে গিয়ে মারা যান দল পাগল রিজভী হাওলাদার যার বাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলাতে।

টানা ৭৭৬ দিন কারাভোগের পর ২৫ মার্চ মুক্তির পর যেখানে দলের নেতাকর্মীরা এখন তাকে ঘিরে রেখেছেন সেখানে রিজভীর এই মৃত্যু সংবাদ খালেদা জিয়া পাবেন কিনা বা তার এই ত্যাগ দল কিংবা জিয়া পরিবার স্মরণ রাখবে কিনা সেটি প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। এই রিজভী হাওলাদার নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা হলেও তিনি নিয়মিত বিএনপির নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে দলের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিতেন।

খালেদা জিয়া কারাগারে যাবার পর নিজে না খেয়ে দিনের পর দিন তিনি খালেদা জিয়ার জন্য খাবার ও ফল নিয়ে নাজিমউদ্দিন রোডের কারাগারের বাইরে অবস্থান করেছেন। একদিনও পুলিশ তাকে নিরাপত্তা ব্যরিকেডের আশেপাশে থাকতে দেয়নি। কিন্তু রিজভী হাল ছাড়েন নি। সর্বশেষ নিজে কাফনের কাপড় পড়ে দলীয় কার্যালয়ের নীচে আমরণ অনশনে নামেন। এখন ঘোষণা দেন দলের কেউ যদি তার জন্য কিছু করতে নাই পারে আর খালেদা জিয়াকে যদি মুক্তি দেয়া না হয় তাহলে তিনি অনশন করতে করতে নেত্রীর জন্য মরে যাবেন তবুও আন্দোলন থেকে পিছু হটবেন না। ঠিক তাই হয়েছে।

২৩ নভেম্বর দিবাগত রাতে ঢাকার নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের প্রধান ফটকের বাইরে অনশনরত অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

রিজভী হাওলাদারের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফলের ছোট্টকান্দা গ্রামে। সে আজহার হাওলাদারের ছেলে তবে তিনি ছোটবেলা থেকেই নারায়ণগঞ্জের কুতুবপুরে বসবাস করতেন। প্রায় ১ যুগের বেশি সময় ধরে নিয়মিত নারায়ণগঞ্জ থেকে তিনি দলীয় কার্যালয়ে আসতেন শুধুমাত্র দল ও জিয়া পরিবারকে ভালোবেসে।

ছাত্রদলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী জানান, দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি হবার পর থেকেই তিনি নিয়মিত নিজে না খেয়ে সেই টাকা দিয়ে ম্যাডামের জন্য খাবার নিয়ে ফল কিনে নিয়ে কারাগারের গেটে দাঁড়িয়ে থাকতেন। কান্না করতেন। নিয়মিত না খেয়ে কাফনের কাপড় পড়ে নেত্রী বের না হলে জীবন দিয়ে দেবেন বলে তিনি ঘুরে বেড়াতেন। তিনি হটাত অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হলে সেখানে তার অবস্থা কিছুটা গুর”ত্বর মনে হলে ডাক্তাররা তাকে ঢাকা মেডিকেলে রেফার্ড করেন। ঢাকা মেডিকেলে যাবার সময় দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে সে পড়ে যায় এবং শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর