করোনায় নাই শাহআলম ও মনির কাশেমী


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:০৫ পিএম, ১৫ মে ২০২০, শুক্রবার
করোনায় নাই শাহআলম ও মনির কাশেমী

প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস দিন দিন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেই যাচ্ছে। দিন দিন বেড়েই চলছে আক্রান্তের সংখ্যা। সেই সাথে মৃত্যুর সংখ্যাও বেড়ে চলছে। মাঝখানে দুই একদিন আক্রান্তের হার কম থাকলেও দুই একদিন পরেই সেটা আবার পুষিয়ে নিচ্ছে। এমতাবস্থায় সারা নারায়ণগঞ্জজুড়েই একটি অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়ে। আর এই অচলাবস্থা মোকাবেলায় বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক দলের নেতারা দিনরাত পরিশ্রম করে গেলেও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন (সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা) এলাকায় এখনও ঘুমিয়ে রয়েছেন কয়েকজন নেতা।

যারা বিভিন্ন সময় এই এলাকার সংসদ সদস্য হতে চেয়েছিলেন। সবশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও সংসদ সদস্য হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচন শেষে জনগণের কল্যাণে তাদের কোনো ভূমিকা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। নির্বাচনের সময় জনগণের কল্যাণে তাদের আশ^াসের ফুলঝুড়ি থাকলেও নির্বাচনের পর সারাবিশ^ব্যাপী দুর্যোগ সৃষ্টিকারী প্রাণঘাতি ভাইরাস করোনাকালে তারা নিখোঁজ রয়েছেন।

এদের তালিকায় রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির বিলুপ্ত কমিটির সহ সভাপতি শাহ আলম ও জমিয়ত উলামার জেলা সভাপতি মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী। শাহ আলম নির্বাচনের পর জেলা বিএনপির পদ পদবী থেকে নিজেকে সড়িয়ে নিয়েছিলেন।

জানা যায়, গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন শাহ আলম। নির্বাচনের সময় বিএনপির নেতৃত্বে গড়ে উঠা ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীকে সুযোগ দিতে গিয়ে শাহ আলমকে মনোনয়ন বঞ্চিত করা হয়। শাহ আলম একই সাথে তিনি জেলা বিএনপিরও সহ সভাপতি ছিলেন। কিন্তু নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার পর পরই জেলা বিএনপির পদ থেকে তিনি পদত্যাগ করেন।

সেই সাথে রাজনীতি থেকেও নিজেকে গুটিয়ে নেন। নির্বাচনের পর রাজনৈতিক কোনো কর্মসূচিতে তার দেখা মিলেনি। পাশাপাশি তার সংশ্লিষ্ট এলাকার সাথেও তিনি যোগাযোগ কমিয়ে দিয়েছেন। এলাকার জনসাধারণের কল্যাণে তার কোনো ভূমিকা লক্ষ্যণীয় হয়ে উঠছে না। বর্তমান সময়ে প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস মোকাবেলাতেও এলাকার জনগণের কল্যাণে তার কোনো ভূমিকা নেই। রাজনীতি করতে গিয়ে যারা একসময় শাহ আলমের ঘনিষ্ট হিসেবে কাজ করেছেন করোনা কালিন সময়ে তাদের সাথেও কোনো যোগাযোগ রক্ষা করছেন না তিনি। প্রায় অনেকটা নিখোঁজই রয়েছেন তিনি।

এর আগে প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় প্রাদুর্ভাবের শুরুতে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণের উদ্যোগ নেয় বিএনপি। আর এই লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে নারায়ণগঞ্জে শাহ আলমের দেখা মিলেনি।

এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শাহ আলমের মনোনয়ন বাতিল করে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের মনোনয়ন দেয়া হয় জমিয়ত উলামার জেলা সভাপতি মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীকে। নির্বাচনের পূর্ববর্তী সময়ে তার দেখা না মিললেও নির্বাচনের সময়ে হঠাৎ করে তিনি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন এলাকায় আবির্ভাব হয়ে মনোনয়ন দাবি করেন। সবশেষ তিনি মনোনয়নও পেয়ে যান।

তবে নির্বাচনে মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী সফল হতে পারেনি। সেই সাথে নির্বাচনের পর পরই পূর্বের মতোই এলাকা থেকে উধাও হয়ে যান তিনি। নির্বাচন চলাকালিন সময়ে মনির হোসাইন কাসেমীর সরবতা লক্ষ্য করা গেলেও নির্বাচন পরবর্তী সময়ে তার কোনো ভূমিকা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের সময়েও মনির হোসাইন কাসেমী নিখোঁজ রয়েছেন। করোনা ভাইরাসকে কেন্দ্র করে তার কোনো কার্যক্রমের দেখা মিলছে না।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর