ভিপি বাদল ‘লেতা’ বাঘের চেয়েও ভয়ঙ্কর সেলিম ওসমানের থাবা


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১১:০৯ পিএম, ০২ জুলাই ২০২০, বৃহস্পতিবার
ভিপি বাদল ‘লেতা’ বাঘের চেয়েও ভয়ঙ্কর সেলিম ওসমানের থাবা

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন শহর ও বন্দর অংশ নিয়ে গঠিত। আর এ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান। তবে সেলিম ওসমানের আসনে বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান এমএ রশিদকে বন্দরের এমপি ঘোষণা দেন জেলা আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদ বাদল ওরফে ভিপি বাদল। আর তাতেই ক্ষোভ প্রকাশ করে আওয়ামীলীগের সেক্রেটারীকে ব্যাঙ্গ করে নেতার পরিবর্তে ‘লেতা’ বলে আখ্যায়িত করেছেন এমপি সেলিম ওসমান।

বৃহস্পতিবার ২ জুলাই দুপুরে শহরের খানপুর এলাকায় ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য আইসিইউ ইউনিট উদ্বোধন উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এমপি সেলিম ওসমান বলেছেন, ‘আজকে একটি পত্রিকায় দেখলাম আমার ছবি সহ একটি সংবাদ প্রকাশ হয়েছে বন্দরের একটি ঘটনায়। তিনি চাষাঢ়া রেলওয়ে হেড কোয়ার্টারে থাকতেন। একজন এমপি সাহেবের আর্শিবাদে ওনি বলে এখন লেতা (নেতা)। ওনি নাকি এখন লেতা। এ লেতা বন্দরে গিয়ে বললো, ‘সেলিম ওসমান বন্দরের এমপি না। বন্দরের উপজেলা চেয়ারম্যান বন্দরের এমপি।’ প্রশ্ন থাকবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে, এমপি সিট বদলায় দিতে পারে এটি কি করে সম্ভব হতে পারে। দুই দিনের যোগি না ভাতেরে অন্য বইলেন না। আমরা দেশটা স্বাধীন করেছি। আমরা মুক্তিযোদ্ধা। হাজার বার বলি সেলিম ওসমানের থাবা বাঘের চেয়েও ভয়ংকর। বাঘের চেয়েও ভয়ংকর সেলিম ওসমানের থাবা।’

উল্লেখ্য ২ জুলাই স্থানীয় দৈনিক সময়ের নারায়ণগঞ্জ পত্রিকায় ‘সেলিম ওসমানকে মানেন না ভিপি বাদল!’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়। যেখানে সেলিম ওসমান ও শহিদ বাদলের ছবি ব্যবহার করা হয়।

সংবাদটিতে বলা হয়, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের একজন প্রভাবশালী নেতা হলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান। তার বদৌলতে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের অনেকেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ঠিক তেমনি একজন হলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল। এর আগে জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ পেয়েছিলেন শামীম ওসমানের বদৌলতে। ছাত্র জীবনে নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজের ভিপি ছিলেন। এখানেও শামীম ওসমানের কারণেই ভিপি হন। আর ছাত্রজীবন থেকেই শামীম ওসমানের সহযোগি হিসেবে রাজনীতি করে আসছেন এবং সবসময় শামীম ওসমানের কথামতোই রাজনীতি করে আসছেন।

কিন্তু জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই একটু এঁকেবেঁকে চলার চেষ্টা করছেন। নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে নিজেকে আলাদাভাবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু বরাবরই তিনি হোঁচট খেয়ে আবার শামীম ওসমানের সাথেই ভিড়ছেন। তবে আবু হাসনাত শহীদ বাদল কখনও সরাসরি শামীম ওসমানের বিরোধীতা করেননি। তিনি প্রায় সময়ই বিরোধে শামীম ওসমানের বড় ভাই নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি সেলিম ওসমানের সাথে। কিন্তু সেই বিরোধ বেশিদন জিইয়ে রাখতে পারেননি। বরাবরই তাকে সেলিম ওসমান ও শামীম ওসমানের কাছে ফিরে আসতে হয়েছে।

এবারও নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল এমপি সেলিম ওসমানের বিরুদ্ধাচরণ করেছেন। সেলিম ওসমানকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি হিসেবে মানতে চান না।

জানা যায়, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও আওয়ামীলীগের ৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বন্দর ফরাজিকান্দা গুডলাক ক্লাবের আয়োজনে গত ২৯ জুন বৃক্ষরোপণ ও ত্রাণ সামগ্রী বিতরন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। আর এই কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এক পর্যায়ে জেলা আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী শহিদ বাদলবলেন,‘বন্দরে আওয়ামী লীগের কোনো এমপি নেই। বন্দর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এমএ রশিদ ভাই বন্দরের এমপি’।

এ বক্তব্য নিয়ে বন্দরে তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা সমালোচনা সৃষ্টি হয়। তাহলে কি শামীম ওসমানের বড় ভাই এমপি সেলিম ওসমানকে এমপি মানতে চান না শহিদ বাদল। এমন প্রশ্ন উঠে সকলের মনে।

এ সংবাদের সূত্র ধরেই শহিদ বাদলের বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে বৃহস্পতিবার দুপুরে এমপি সেলিম ওসমান বক্তব্য রাখেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর