সেলিম ওসমানের থাবা বাঘের চেয়ে ভয়ংকর (ভিডিও)


স্টাফ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:৫৪ পিএম, ০৩ জুলাই ২০২০, শুক্রবার
সেলিম ওসমানের থাবা বাঘের চেয়ে ভয়ংকর (ভিডিও)

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন শহর ও বন্দর অংশ নিয়ে গঠিত। আর এ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান। তবে সেলিম ওসমানের আসনে বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান এমএ রশিদকে বন্দরের এমপি ঘোষণা দেন জেলা আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদ বাদল ওরফে ভিপি বাদল। আর তাতেই ক্ষোভ প্রকাশ করে আওয়ামীলীগের সেক্রেটারীকে ব্যাঙ্গ করে নেতার পরিবর্তে ‘লেতা’ বলে আখ্যায়িত করেছেন এমপি সেলিম ওসমান।

বৃহস্পতিবার ২ জুলাই দুপুরে শহরের খানপুর এলাকায় ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য আইসিইউ ইউনিট উদ্বোধন উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এমপি সেলিম ওসমান বলেছেন, ‘আজকে একটি পত্রিকায় দেখলাম আমার ছবি সহ একটি সংবাদ প্রকাশ হয়েছে বন্দরের একটি ঘটনায়। তিনি চাষাঢ়া রেলওয়ে হেড কোয়ার্টারে থাকতেন। একজন এমপি সাহেবের আশীর্বাদে ওনি বলে এখন লেতা (নেতা)। ওনি নাকি এখন লেতা। এ লেতা বন্দরে গিয়ে বললো, ‘সেলিম ওসমান বন্দরের এমপি না। বন্দরের উপজেলা চেয়ারম্যান বন্দরের এমপি।’

প্রশ্ন থাকবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে, এমপি সিট বদলায় দিতে পারে এটি কি করে সম্ভব হতে পারে। দুই দিনের যোগি না ভাতেরে অন্য বইলেন না। আমরা দেশটা স্বাধীন করেছি। আমরা মুক্তিযোদ্ধা। হাজার বার বলি সেলিম ওসমানের থাবা বাঘের চেয়েও ভয়ংকর। বাঘের চেয়েও ভয়ংকর সেলিম ওসমানের থাবা।’

তিনি বলেন, মতলব থেকে থেকে এসে নেতা হয়েছেন। ধানমন্ডিতে অট্টালিকা করেছেন। দুই নাম্বার স্কুল বানিয়েছেন। কত টাকার মালিক হয়েছেন সেলিম ওসমান দেখিয়ে দিবে। দেখবো আপনি আমাকে সরাতে পারেন কি না। ওনাকে আবার মতলব ফিরে যেতে হবে। আপনি আওয়ামী লীগ করেন যাই করেন সেটা দেখার বিষয় না।

এ সময় সেলিম ওসমান আরও বলেন, ‘আমাকে কেউ মাইরা ফেলতে পারবে না। আমি মুক্তিযুদ্ধের সময় মরি নাই, পঁচাত্তরে মরি নাই, এক-এগারোতে মরি নাই আমি শহীদ না, গাজী। আমি সংসদ সদস্য না জনগণের গোলাম। জীবন যতদিন থাকবে ততদিন জনগণের গোলাম থাকবো। দেখি মতলব পার্টি আমাকে সংসদ সদস্য থেকে সরায়ে দেন। ওনাকে আবার মতলবে ফিরে যেতে হবে। উনি কত পয়সার মালিক হয়েছেন সেটা সেলিম ওসমান দেখে দিবে নে। উনি আওয়ামী লীগ করেন আর যাই করেন না কেন!’

আওয়ামী লীগের দুর্নীতিপরায়ণ নেতাদের সমালোচনা করে জাতীয় পার্টির এই সাংসদ বলেন, ‘প্রকাশ পেয়ে যাচ্ছে যে, আওয়ামী লীগের লোকজনও শেখ হাসিনার নেতৃত্ব মানছে না। চাল চুরি করছে। মেডিকেল কলেজে এক মাসে ২০ কোটি টাকা খাবারের বিলে খরচ করছে। আশেপাশের লোক যেভাবে চুরি করছেন তাতে আমার প্রধানমন্ত্রী, আমার আপা আজকে মানসিক রোগী হয়ে যাচ্ছেন। এই চুরি বন্ধ করতে হবে। এই সমস্ত হারামিরা যারা মৃত্যুকে ভয় পায় না তাদের সাথে যুদ্ধ করতে হবে আমাদের।’

উল্লেখ্য ২ জুলাই স্থানীয় দৈনিক সময়ের নারায়ণগঞ্জ পত্রিকায় ‘সেলিম ওসমানকে মানেন না ভিপি বাদল!’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়। যেখানে সেলিম ওসমান ও শহিদ বাদলের ছবি ব্যবহার করা হয়।

জানা যায়, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও আওয়ামীলীগের ৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বন্দর ফরাজিকান্দা গুডলাক ক্লাবের আয়োজনে গত ২৯ জুন বৃক্ষরোপণ ও ত্রাণ সামগ্রী বিতরন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। আর এই কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এক পর্যায়ে জেলা আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী শহিদ বাদলবলেন,‘বন্দরে আওয়ামী লীগের কোনো এমপি নেই। বন্দর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এমএ রশিদ ভাই বন্দরের এমপি’।

এ বক্তব্য নিয়ে বন্দরে তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা সমালোচনা সৃষ্টি হয়। তাহলে কি শামীম ওসমানের বড় ভাই এমপি সেলিম ওসমানকে এমপি মানতে চান না শহিদ বাদল। এমন প্রশ্ন উঠে সকলের মনে।

এ সংবাদকের সূত্র ধরেই শহিদ বাদলের বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে বৃহস্পতিবার দুপুরে এমপি সেলিম ওসমান বক্তব্য রাখেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর