আইভীর পর আলোচনায় বিভা


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:৫৯ পিএম, ০৩ জুলাই ২০২০, শুক্রবার
আইভীর পর আলোচনায় বিভা

নারায়ণগঞ্জে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে যার মধ্যে সিটি করপোরেশন এলাকায় সব থেকে বেশি আক্রান্ত। শুধু আক্রান্ত নয় মৃত্যের সংখ্যাও বেশি। আবার সে হিসেবে সুস্থ্য হয়েছেনও বেশি। যার জন্য সিটি করপোরেশন এলাকায় কঠোর অবস্থানে রয়েছেন প্রশাসন। ফলে কর্মহীন হয়ে অসহায় জীবন যাপন করেছেন নগরবাসীরা। আর তাদের সহযোগিতায় সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর পরে জোরালো ভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন প্যানেল মেয়র-১ আফসানা আফরোজ বিভা। তবে সে তুলনায় নাম মাত্রও দেখা যায়নি প্যানেল মেয়র-২ মতিউর রহমান মতিকে।

উল্লেখ্য ৮ মার্চ বাংলাদেশে ৩জন করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হয়। যার মধ্যে ২জন ছিলেন নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা। তাদের একজন ইতালি থেকে দেশে ফিরেছেন আর অন্যজন তার সংস্পর্শে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন। তারপর বন্দর উপজেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম নারী মারা যায়। এরপর থেকে ধারাবাহিক ভাবে আক্রান্ত বেড়ে চলেছে। পরবর্তীতে ২৫ মার্চ সরকার সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা দেয়। এতে করে নারায়ণগঞ্জে যানবাহন, দোকান, গার্মেন্টস, শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সব কিছু বন্ধ হয়ে যায়। ফলে কর্মহীন হয়ে পড়েন সিটি এলাকার বাসিন্দারা। শুধু তাই নয় আক্রান্ত হোক আর না হোক মারা গেলেই করোনা সন্দেহে স্বজন থেকে শুরু করে এলাকাবাসী লাশের শেষকৃত্যের জন্য এগিয়ে আসে না। এতে করে একদিকে অনহারী অন্যদিকে চিকিৎসেবা সহ বিভিন্ন কিছু নিয়ে নগর ব্যবস্থা হ-য-ব-র-ল হয়ে যায়।

এমন পরিস্থিতিতে মেয়র আইভীর নির্দেশ অনুযায়ী মাঠে নামেন প্যানেল মেয়র-১ আফসানা আফরোজ বিভা। সিটি করপোরেশন এলাকায় কেউ মারা গেলে তার বাড়িতে ছুটে যান। তাদের শান্তনা দেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। শুধু তাই নয় কেউ আক্রান্ত কিংবা অসুস্থ হলেও মেডিকেল টিম নিয়ে ছুটে যাচ্ছেন বাড়ি বাড়ি। তেমনি সরকারি ত্রাণ সামগ্রী অসহায় অনহারী মানুষের ঘরে নিয়ে পৌঁছে দিচ্ছেন বিভা। এছাড়াও নিজ উদ্যোগে ওয়ার্ডের বিভিন্ন পর্যায়ে খাদ্য সামগ্রীও বিতরণ করছেন। প্যানেল মেয়র হওয়ায় নিজের ওয়ার্ডের বাইরে গিয়েও তিনি একই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। যেকোন প্রয়োজনে ফোনে জানালেও ছুটে যাচ্ছেন প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে। হোক সেটা ওষুধ কিংবা খাদ্য সামগ্রী।

কাউন্সিলের সচিব মাসুদ রানা জানান, আফসানা আফরোজ বিভার ২ বছরের কম বয়সী আবু রাফিউ দারাজ নামে ছেলে আছে। যাকে সারাদিনে তিনি কোন সময় দিতে পারেন না। প্রতিদিন সকাল ১০টায় ঘর থেকে বের হন আর রাত ৮ কিংবা ৯টায় বাসায় ফিরেন। এর মধ্যে দুপুরে একটি অফিসে রান্না হয় সেখানে খাবার খায়। গত ২৬ মার্চ থেকে ধারাবাহিক ভাবে তিনি চালিযে যাচ্ছেন।

মাসুদ রানা বলেন, ‘দারাজ অনেক ছোট। মায়ের জন্য প্রতিদিনই কান্না করে। ম্যাডামের স্বামী হাসান আহমেদ তাকে সারাদিন দেখাশোনা করেন। প্রতিদিন সকালে বের হতে গেলেই ধরে রাখে। আর কান্না শুরু করে। যা দেখলে যে কারো মন খারাপ হয়ে যাবে। শুধু মাত্র করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষকে সেবা দিতে তিনি এভাবে সন্তানকে রেখে বের হন। সন্তান ও পরিবারের কথা চিন্তা করেই তিনি দুপুরেও বাসায় যান না। একেবারে রাতে বাসায় যান। কোন কোন দিন রাতে কেউ মারা গেলেও বের হয়ে যান। একজন নারী হয়ে এভাবে কাজ করতে পারেন সেটা অকল্পনীয়।

এদিকে মেয়র আইভীর দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ সামগ্রী পেয়ে অসহায় ও অনহারীদের ঘরে নিয়ে রাতে পৌছে দেন প্যানেল মেয়র-২ মতিউর রহমান মতি। কিন্তু এরপর আর কোন কার্যক্রম দেখা যায়নি। এমনকি নিজ এলাকার আক্রান্ত ও মৃতদের বিষয়ে তেমন কোন কার্যক্রম দেখা যায়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওয়ার্ডের বাসিন্দা জানান, কাউন্সিলর একদিন দেখা গিয়েছে ত্রাণ দিতে। তারপর আর তার চেহারা কেউ দেখে সেটা বলতে পারবে না। সিদ্ধিরগঞ্জে এখন পর্যন্ত কয়েকজন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন। তাদের সহযোগিতায় তো দূরের কথা এলাকাবাসীর জন্য ওই বাড়ি লকডাউন করতেও এগিয়ে আসেননি। নির্বাচন করে প্রথমে কাউন্সিলর পরে প্যানেল মেয়র-২ হয়েছেন জনসেবা করবেন এজন্য। কিন্তু করোনার ভয়ে জনসেবা বাদ দিয়ে ঘরে বসে আছেন।’

অন্যদিকে প্যানেল মেয়র-৩ মিনোয়ারা বেগম সক্রিয় থাকলেও মিডিয়াতে তেমন ভাবে আসছেন না।

ওয়ার্ডবাসী জানান, করোনা সংক্রামণ ছড়ানোর আগেই এক দুইদিন বের হয়েছেন। কিন্তু এরপর থেকে কোন কার্যক্রম কিংবা ত্রাণ দিতেও দেখা যায়নি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর