করোনা টেস্ট ফি বাতিল স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি


প্রেস বিজ্ঞপ্তি | প্রকাশিত: ০৮:১৭ পিএম, ০৪ জুলাই ২০২০, শনিবার
করোনা টেস্ট ফি বাতিল স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি

করোনা টেস্ট ফি বাতিল, স্বাস্থ্যখাতে লুটপাট ও চরম অব্যবস্থাপনা এবং সীমান্তে নির্বিচারে মানুষ হত্যার প্রতিবাদে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) বেলা ১১টায় ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড এলাকায় আয়োজিত এ মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি শিব্বির আহমাদ এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ সারোয়ার হোসেন।

মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি মাওলানা আনোয়ার হোসেন জিহাদী বলেন, এতদিন বিনামূল্যে করোনা ভাইরাসজনিত রোগ কোভিড-১৯ এর শনাক্তকরণ পরীক্ষা করা হলেও এবার নির্ধারণ হলো সরকারি হাসপাতাল বা বুথে নমুনা নিলে-২০০ টাকা, বাড়ি থেকে নমুনা নিলে-৫০০ টাকা। করোনা সংক্রমণে যখন দেড় লাখ অতিক্রম করলো তখন সরকার এর টেস্ট করতে ফি নির্ধারণ করলো। টেস্ট করতে গিয়ে পদে পদে ভোগান্তি তো আছেই; তারপর আবার এই দুর্যোগের সময় করোনা টেস্টে ফি নির্ধারণ করাতে নি¤œ আয়ের লোকের হাসপাতালে যাওয়ার সম্ভাবনা আরো কমে গেল। সবাই টেস্ট করাতে না গেলে সমাজের আসল চিত্রটা জানা যাবে না। আর টেস্ট করানোর দায়টা তো স্বাস্থ্য বিভাগের। জনগণ বুথে এসে নমুনা দিয়ে সরকারকে সহযোগিতা করছে। তাহলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনিই বলেন যে আপনাকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছে, তার কাছ থেকে উলটো পয়সা নেবেন? আর এই সিদ্ধান্তটা অসাংবিধানিক। সংবিধানে সবার জন্য স্বাস্থ্য সেবার কথা বলা আছে। করোনা টেস্টে ফি আরোপের মাধ্যমে এখন এই সেবাটা আর সবার থাকলো না। অনতিবিলম্বে করোনা টেস্ট ফি বাতিল করতে হবে।

স্বাস্থ্যখাতের চলমান পরিস্থিতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতে অবকাঠামো দুর্বল, এটা নতুন কথা নয়। কিন্তু এখন কোভিড-১৯ সংকটের কারণে এটা আরও ব্যাপকভাবে প্রকাশ হলো বা জানা গেলো। দেখা যাচ্ছে, যেসব জিনিস ক্রয় করা হচ্ছে, সেটার জন্য বাজারের যে মূল্য, তার থেকে পাঁচ থেকে দশ গুণ বেশি মূল্য দেখানো হচ্ছে। বিভিন্ন সময় স্বাস্থ্য খাতে কেনাকাটায় দুর্নীতির সাথে যে ঠিকাদার বা সরবরাহকারীরা জড়িত থাকে, এখন করোনাভাইরাস দুর্যোগের সুযোগ নিয়ে সেই শ্রেনী আর নগ্নভাবে তা করছে। স্বাস্থ্য খাতে যে দুর্নীতি হয়, তা কোভিড-১৯ এর প্রেক্ষাপটে তা আমাদেরকে আরো স্পষ্ট করে দিয়েছে যে কতটা দুর্নীতি হয়। কেনাকাটার ক্ষেত্রেই দুর্নীতিটা বেশি হচ্ছে। আজ স্বাস্থ্যখাতে যতো অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি হচ্ছে এর সম্পূর্ণ দায় মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর। তার অস্বাস্থ্যকর নেতৃত্বের জন্যই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দিন দিন ভাগাড়ে যাচ্ছে। স্বাস্থ্যখাতে যতো অনিয়ম দুর্নীতি হচ্ছে তাতে স^াস্থ্যমন্ত্রীর অযোগ্যতাই প্রকাশ পায়। আমরা একটি স্বাধীন দেশে অযোগ্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেখতে চাই না। তাই আজকের মানববন্ধন থেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছি এবং যেসকল দুর্নীতিবাজ দুর্নীতি করে স্বাস্থ্যখাতকে কলুষিত করতেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা সভাপতি শিব্বির আহমাদ বলেন, বাংলাদেশ-ভারতের বন্ধুত্বের ‘বসন্তকাল’ চলছে। কিংবা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে কাজ করছে দুই দেশের সরকার-এমন সব কথার ফুলঝুড়ি হরহামেশাই শোনা যায়। কিন্তু বাস্তব চিত্রটা ভিন্ন।

মানববন্ধনে আরো উপস্থিত ছিলেন, ইশা ছাত্র আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার সহ-সভাপতি আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হান্নান, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুহাম্মাদ আনোয়ার হোসেনসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর