শামীম ওসমান নিয়মিত কোরআন তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করেন


স্টাফ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:৫৪ পিএম, ০৮ জুলাই ২০২০, বুধবার
শামীম ওসমান নিয়মিত কোরআন তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করেন

নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেতা হলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। তিনি বিভিন্ন সময় সভা সমাবেশে দেয়া বক্তৃতায় দীর্ঘ ২২ বছর বছর ধরে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করে আসছেন জানিয়ে আসছেন। সেই সাথে তিনি নামাজ কাযা করে না। সবসময় তিনি আল্লাহর উপর তায়াক্কুল করেন। একই সাথে তিনি বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে ওয়াজ করে আসছেন এবং ওয়াজ করে হাদিয়াও পেয়েছেন। তার ওয়াজ শুনে দেশের প্রখ্যাত বক্তরাও প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন এবং শামীম ওসমানকে একজন নেককার ও পরহেজগার মানুষ হিসেবে জেনেছেন।

সর্বশেষ অতি সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান নিউজ ২৪ লাইভে এসে যাকাত ফান্ড তৈরীর বিষয়ে একটি প্রস্তাবনার কথা তুলে ধরেছেন। আর সেই প্রস্তাবনাটি হলো বাংলাদেশের প্রখ্যাত আলেম, দেশবরেণ্যে অর্থনীতিবিদ, সাংবাদিকদের অন্তভুক্ত করে একটি কমিটি করতে হবে। যদি এক কোটি লোক ৫ লাখ টাকা করে দেন তাহলে এটার পরিমাণ দাঁড়ায় ৫ লক্ষ কোটি টাকা। বড় কর্পোরেট হাউজ ও শিল্পপতি, সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব, সকল দলের রাজনীতিবিদ ও প্রকল্প বাস্তবায়নের কর্তৃপক্ষকে য্ক্তু করতে হবে।

উদ্দেশ্য হবে মানুষকে আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তোলা। ভূমিহীন, কর্মহীন, নি¤œবিত্ত এবং বেকার যুবকদের সুদমুক্ত ঋণ দান করেন অর্থ্যাৎ যেভাবে যাকাত দেয়া হয়। অন্য ধর্মের জন্য তহবিল করা যেতে পারে। যাকাত মানে হচ্ছে আরেকজন মানুষকে আত্মনির্ভরশীল গড়ে তুলা। এভাবে চললে আগামী ৪ বছর পরে কাউকে যাকাত দিতে হবে না। কিংবা যাকাত দেয়ার কেউ থাকবে না।

জানা যায়, মুজিব বর্ষকে কেন্দ্র করে ৫ হাজার ২৭৫ বার পবিত্র কোরআনখানি করিয়ে ভিন্নধর্মী উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি ও প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতা একেএম শামীম ওসমান।

গত ২০ মার্চ শুক্রবার নারায়ণগঞ্জ মাসদাইর কবরস্থান জামে মসজিদে জুম্মা’র নামাজ আদায় করে বিষয়টি প্রকাশ করেন শামীম ওসমান নিজেই। ওই সময়ে শামীম ওসমানের হাতে দেখা গেছে একটি পবিত্র কোরআন শরীফ। নামাজ থেকে বের হয়ে তিনি ওই কোরআন শরীফ হাতে নিয়েই বাবা, মা ও ভাইয়ের যিয়ারত করেন। শেষে কোরআন শরীফ হাতে নিয়েই ব্রিফিং করনে গণমাধ্যমকে।

সে সময় শামীম ওসমান ওই সময় বলেছিলেন, কোন কিছুর বিনিময় ছাড়াই স্বেচ্ছায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে হাফেজ সাহেব ও এতিমরা ৫২৭৫ বার কোরআনে খতম দিয়েছেন। এই খতমে কোরআন আল্লাহর নবীর নামে বখশে দেয়া হয়েছে এবং বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবার এবং সকল শহীদদের নামেও বখশে দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে বঙ্গবন্ধুর ২ কন্যার জন্য দোয়া করা হয়েছে। পাশাপাশি পৃথিবীব্যাপী যে মহামারীর আক্রমনে মানব সম্প্রদায় আজকে কঠিন মুহূর্তে উপনিত হয়েছে সেখানে একমাত্র সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ ও তার কাছে ক্ষমা ভিক্ষা ছাড়া আমাদের আর কিছুই করার নেই। তাই পবিত্র কোরআনখানির মাধ্যমে এই পন্থাকেই আমি সর্বোত্তম বলে মনে করেছি।

একই সাথে শামীম ওসমান প্রায়শই বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে গিয়ে কোরআন হাদিস আলোকে বক্তব্য রাখছেন। হাতে কোরআন শরীফ রেখেও এটা পড়ার আহবান রাখছেন তরুণ প্রজন্মের কাছে। তিনি কিভাবে হতাশা থেকে আলোর পথ দেখেছেন কোরআনের মাধ্যমে সে উদহারণও দিচ্ছেন।

২০১৮ সালের ১৮ নভেম্বর কাশিপুর ইউনিয়নের হালিম সিকদারের বাড়িতে অনুষ্ঠিত ওঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শামীম ওসমান বলেছিলেন, আমার নেত্রী প্রতিদিন কোরআন শরীফ পড়েন, তাহাজ্জুদ পড়েন। এজন্য আল্লাহ তার হাতে এত নেয়ামত দিয়েছেন। সেই নেয়ামতেই আজ বাংলাদেশের সর্বত্র উন্নয়নের মহা কর্মযজ্ঞ চলছে।

শামীম ওসমান বলেছিলেন, আমি সব সময় স্পষ্ট কথা বলি। আসলেই সত্যি করে বলছি সত্য যত ভয়ংকর বা আমার জন্য ক্ষতিকর হোক আমি তা প্রকাশ করতে ভয় পাই না। কারণ আমি একজনকেই ভয় পাই সে আমার সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ। আমি কসম খেয়ে বলছি। আমি আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পাই নাই। আর যা কাজ করি সবার আগে আল্লাহকে খুশী করতে করি। কারণ শুনেছি যে আল্লাহকে খুশী করতে কাজ করবে আল্লাহ সকল বান্দাকে তার ওপর রাজি খুশী করে দেবে। বান্দাকে খুশী করলে আল্লাহ তার ওপর খুশী হয়ে যান।

এর আগে ২০১৭ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারী সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলস্থ ডিএনসি আলিম মাদ্রাসার উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী ওয়াজ মাহফিলের শেষ দিন রাতে প্রধান অতিথি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। তবে ওই অনুষ্ঠানে তিনি সবসময়ের মত বক্তৃতা না দিয়ে ওয়াজ করেছেন। আর ওই ওয়াজ পরিবেশনের জন্য তিনি হাদিয়া হিসেবে ১০ হাজার টাকাও পেয়েছিলেন।

সেদিন শামীম ওসমান রাত সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত পবিত্র কোরআন শরীফের বিভিন্ন সূরার আয়াত বাংলায় তরজমা করে বক্তব্য রাখেন। এসময় ওই ওয়াজ মাহফিলে কয়েক হাজার মুসুল্লীর সমাগম ঘটে। বক্তব্য শেষ করার পর মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি কেন্দ্রী শ্রমিক লীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল মতিন মাস্টার শামীম ওসমানের হাতে ১০ হাজার টাকা হাদিয়া তুলে দেন।

তখন আব্দুল মতিন মাস্টার বলেছিলেন, “ওয়াজ মাহফিলে বক্তাদের হাদিয়া দিতে হয়। পবিত্র কোরআন হাসিদের আলোকে বক্তব্য দেয়ায় শামীম ওসমানকে এ হাদিয়া দেয়া হয়েছে।”

এদিকে চলতি বছরের ১ মার্চ শহরের মাসদাইর পুলিশ লাইনসে জেলা পুলিশের আয়োজনে পুলিশ মেমোরিয়াল ডে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেছিলেন, আমি ইদানীং একটু ওয়াজ মাহফিলে যাই। অনেকেই এ নিয়ে টিটকারী মারে। কিন্তু আমি দুইবেলা কোরআন শরীফ পড়ি। বাইশ বছর ধরে তাহাজ্জুদ ছাড়ি নাই।

২০১৯ সালের ২ মার্চ নারায়ণগঞ্জ শহরের ২নং রেল গেট সংলগ্ন মিড টাউন শপিং কমপ্লেক্সের সামনে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্যের এক পর্যায়ে শামীম ওসমান বলেছিলেন ‘‘আমি ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করি, তাহাজ্জুদ পড়ি। আল্লাহর ৫ ওয়াক্ত নামাজের কসম শেখ হাসিনার মতো এত আল্লাহ ভক্ত মানুষ আমি আগে দেখি নাই।’’

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর