paradise

আশুরায় প্রস্তুত নারায়ণগঞ্জ, ঐতিহ্য হারাচ্ছে তাজিয়া মিছিল


সিটি করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:৫১ পিএম, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার
আশুরায় প্রস্তুত নারায়ণগঞ্জ, ঐতিহ্য হারাচ্ছে তাজিয়া মিছিল

পবিত্র আশুরা পালনে প্রস্তুত রয়েছে নারায়ণগঞ্জ। ২১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার এ দিনে নারায়ণগঞ্জে বের হবে তাজিয়া মিছিল। শহরের বিভিন্ন স্থানে বসবে মেলা। নারায়ণগঞ্জেও তাজিয়া মিছিল বের হবে। তবে আগের তুলনায় বর্তমানে তাজিয়ার সংখ্যা কমে যাচ্ছে। আয়োজকদের আশঙ্কা দিন দিন এ ঐতিহ্যটুকু হারিয়ে যাবে। ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জে তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে।

শহরের উত্তর র‌্যালী বাগান সূত্রে জানা গেছে, তাদের তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। আগে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাজিয়া মিছিল বের হলেও এখন শুধুমাত্র শহরের র‌্যালিবাগান, কুমুদিনী, খোয়ারপট্টি, দেওভোগ এলাকা থেকে বের হয়।

একটা সময় ছিল নারায়ণগঞ্জ শহরে পবিত্র আশুরার দিন শহরে বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রচুর সংখ্যক তাজিয়া মিছিল বের হত। ‘হায় হোসেন, হায় হাসান’ স্লোগানের সঙ্গে সঙ্গে তাজিয়া মিছিলের সামনে পেছনে থাকতো ঢাকঢোল আর বাদ্য বাজনা। হাতে তলোয়ার, বড় ছুরি নিয়ে শিয়া অনুসারীরা গায়ে রক্তাক্ত করে তুলতো কারবালা প্রান্তরের সেই ঘটনার ঘটনা স্মরণ করতো। কে কার চেয়ে বেশী বড় পরিসরে আয়োজন করবে তা নিয়ে চলতো রীতিমত প্রতিযোগিতা। কিন্তু কালের বিবর্তনে নারায়ণগঞ্জে সেই চিত্র পাল্টে যাচ্ছে। এখন আর আগের মত বের হয় না তাজিয়া মিছিল। হয়না সে উৎসব। দিন দিন সে উৎসবে ভাটা পড়ে যাচ্ছে। ম্লান হচ্ছে ঐতিহ্য। বুধবার পবিত্র আশুরার দিন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভারতবর্ষ উত্তর প্রদেশে শিয়া ও সুন্নী জামায়াতের তৈমূরনং নামে এক বাদশা ৬০০ বছর আগে থেকে তাজিয়া মিছিল শুরু করে। এর মূল উদ্দ্যেশ ছিল ইতিহাসকে জানানো আর অমুসলিমকে মুসলিম রূপান্তর করা। তার ধারাবাহিকতায় ১৮১ বছর আগে বাংলাদেশে শুরু হয় তাজিয়া মিছিল। বাংলাদেশে এ উৎসব করে মূলত পালন করে থাকে পাকিস্তানি আটকে পড়া অবাঙ্গালীরা। কিন্তু ধীরে ধীরে সে উৎসব সকলের জন্য পরিণত হয়। নারায়ণগঞ্জে প্রায় অর্ধশত বছর আগে থেকেই তাজিয়া মিছিল বের হয়। তখন শহর ও শহরতলীর বিভিন্ন এলাকাতে রীতিমত প্রতিযোগিতা শুরু হত। কে কার চেয়ে বড় তাজিয়া মিছিল বের করবে তা নিয়ে চলতো আয়োজন। আশুরার কয়েকদিন আগে থেকেই এলাকাতে প্রচারণা চলতো। সঙ্গে চলতো ঢোল পেটানো। তবে এখন আর আগের সেই ঐতিহ্য নেই। বিভিন্ন ধরনের খেলার আয়োজনও কমে গেছে। যুবকেরা হায় হোসেন, হায় হোসেন উচ্চারণ করে নিজেদের গায়ে চাবুক আর ছুরির আঘাত করে রক্তাক্ত করে। মুখে কেরোসিন নিয়ে শূন্যে ছুঁড়ে আগুন ধরায়। তবে তাজিয়া মিছিলের পরিমাণ কমছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
rabbhaban
আজকের সবখবর