rabbhaban

দুর্গাপূজায় বিচলিত হিন্দু সম্প্রদায়! সর্বোচ্চ নিরাপত্তার আশ্বাস


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:৪৩ পিএম, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার
দুর্গাপূজায় বিচলিত হিন্দু সম্প্রদায়! সর্বোচ্চ নিরাপত্তার আশ্বাস

বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে আগামী ৩ অক্টোবর সারা দেশের মতো নারায়ণগঞ্জে শারদীয় দুর্গাপূজা। আর পূজাকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরি করার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা ও পুলিশ প্রশাসন।

একই সঙ্গে জেলা ও মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদকে বিভিন্ন দিক নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। পূজাকে ঘিরে কোন প্রকার বিশৃঙ্খলা কিংবা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি চেষ্টা করা হলে কাউকে ছাড়া না দেওয়ার হুশিয়ারী দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী স্বাত্ত্বিক পূজাকারী দুটি মণ্ডপকে পুরস্কার দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসক জসিমউদ্দিন।

শারদীয় দুর্গা পূজা উপলক্ষে মঙ্গলবার ১৭ সেপ্টেম্বর বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে পূজা উদযাপন কমিটি ও প্রশাসনের অন্যান্য দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রস্তুতিমূলক সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন।

সভায় নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রঞ্জিত মণ্ডল নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন যাবত সকল ধর্মের মানুষ এক সাথে ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছি। কখনো কোন সমস্যার সৃষ্টি হয়নি। তবে কিছু দুষ্ট চক্র থাকে যারা বিশৃঙ্খলা কিংবা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায় তাই আমরা সাময়িক বিচলিত। এজন্য প্রশাসনের বাড়তি নজরদারী কামনা করছি। এছাড়াও আমরা প্রতি মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, সিসি টিভি ক্যামেরা লাগনো হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘পূজা মন্ডপে যাওয়ার রাস্তায় বৈদ্যুতিক বাতি, রাস্তা মেরামত, বিসর্জন ঘাট মেরামত করা সহ বিভিন্ন সমস্যার কথা প্রশাসনকে জানিয়েছি। তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন সার্বিক ভাবে সহযোগিতা ও নিরাপত্তা দিবেন।’

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন মণ্ডপে যেন উচ্চ শব্দে গান না বাজানো হয়। এছাড়াও গানগুলো যেন ধর্মীয় সংঙ্গীত হয়। প্রতিটি মণ্ডপে যেন স্বেচ্ছাসেবক ও মণ্ডপ কমিটির লোকজন উপস্থিত থাকবে। এলাকাবাসীকে নিয়ে যেসব সভা করে পূজার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। এছাড়াও প্রতিটি মণ্ডপে যেন স্বাত্ত্বিক পূজা হয়। যেসব মণ্ডপে স্বাত্ত্বিক পূজা হবে সেসব পূজা মণ্ডপের মধ্যে দুটি মণ্ডপকে পুরস্কারও দিবেন আশ্বাস দিয়েছেন।

জেলা প্রশাসক আমাদের আরো আশ্বাস দিয়েছেন যে, বিদ্যুতের সমস্যার বিষয়ে ডিপিডিস ও সিটি করপোরেশনকে বলবেন। তারা যেন পূজার সময় রাস্তায় বৈদ্যুতিক বাতির ব্যবস্থা করে দেয়। বিসর্জনের ঘাট সংস্কার করে দিবেন। নিরাপত্তার জন্য জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট, যেকোন পরিস্থিতির জন্য ফায়ার সার্ভিস সহ সরকারি অন্যান্য দপ্তর প্রস্তুত থাকবে।

পুলিশের বরাত দিয়ে রঞ্জিত মণ্ডল বলেন, নিরাপত্তার জন্য কঠোর বলয় তৈরি আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। র‌্যাব, পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ ও আনসার সহ নিরাপত্তা বাহিনী নিয়োজিত থাকবে পূজার আগের দিন থেকে দশমী পর্যন্ত। প্রতিটি মন্দিরে একজন পুলিশ ও ৫জন আনসার থাকবে। আর যেসব ঝুঁকিপূর্ণ মণ্ডপ থাকবে সেখানে পুলিশ ও আনসার প্রয়োজন অনুসারে বাড়িয়ে দেওয়া হবে। পূজাকে ঘিরে কোন প্রকার বিশৃঙ্খলা কিংবা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি চেষ্টা করা হলে কাউকে ছাড়া না দেওয়ার হুশিয়ারী দেয়।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর