ডিসি এসপির নির্দেশে গুলি ছুড়লে আমরা দিব তাজা রক্ত : আবদুল আউয়াল


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১০:০৭ পিএম, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, শুক্রবার
ডিসি এসপির নির্দেশে গুলি ছুড়লে আমরা দিব তাজা রক্ত : আবদুল আউয়াল

নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় বালুর মাঠ এলাকায় প্যারাডাইস ভবনে ‘ব্লু পিয়ার’ নামক রেস্টুরেন্ট কাম মদের বার বন্ধে আগামী এক সপ্তাহের সময় বেধে দিয়েছেন ডিআইটি মসজিদের খতিব ও নারায়ণগঞ্জ জেলা উলামায়ে পরিষদের সভাপতি আব্দুল আউয়াল। অন্যথায় নারায়ণগঞ্জের তৌহিদি জনতাকে নিয়ে মদের বার উচ্ছেদ করার হুশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

৭ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার জুমআর নামাজ শেষে ডিআইটি রেল কলোনী জামে মসজিদের সামনে গণ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা উলামায়ে পরিষদের উদ্যোগে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

প্রসঙ্গত শহরের চাষাঢ়ায় বালুর মাঠ এলাকায় প্যারাডাইস ভবনে ‘ব্লু পিয়ার’ নামক রেস্টুরেন্ট উদ্বোধনে এবার আনুষ্ঠানিকভাবেই মদ বিয়ার বিক্রি শুরু হয়েছে। সম্প্রতি উদ্বোধনের সময়ে মালিক পক্ষ মূলত রেস্টুরেন্ট ব্যবসার কথা জানালেও ৪ ফেব্রুয়ারী থেকে সেখানে কিছুটা গোপনে মদ ও বিয়ার বিক্রি শুরু হয়েছে নিশ্চিত হওয়া গেছে। রাতে মদ পান শেষে অনেকেউ উল্লাস করতে করতে বের হয়।

মাওলানা আব্দুল আউয়াল বলেন, আমরা প্রশাসনের কথায় আশ্বস্ত হয়েছিলাম তারা বলেছিলেন আমাদের সামনে রেখে মদের বার উচ্ছেদ করবেন। কিন্তু গতকালকে তারা দুঃখ প্রকাশ করে বলেন উচ্চ মহল থেকে নাকি অনুমতি নিয়ে এসেছে। প্রশাসন তাদের দুর্বলতা প্রকাশ করেছেন। ডিসি এসপি যেরকম সরকারি নির্দেশে তৌহিদি জনতার গ্যাস গুলি ছুড়তে পারে তেমনিভাবে আমরা ইমান রক্ষার দাবীতে বুকের তাজা রক্ত ঢালতে জানি।

তিনি আরও বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই মদের বার উচ্ছেদ না হলে নারায়ণগঞ্জের তৌহিদি জনতা তছনছ করে ফেলবে। আমরা প্রশাসনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বার বার বলছি অনতিবিলম্বে তা বন্ধ করেন। সিটি কর্র্পোশেনের মেয়র নাকি মদের বারের জন্য লাইসেন্স দিয়েছেন। তিনি কিভাবে এই মদের বারের লাইসেন্স দিলেন।

মাওলানা আব্দুল কাদির বলেন, যে সর্ষে দিয়ে ভুত তাড়াবেন সেই সর্ষের মধ্যই যদি ভুত থাকে তাহলে ভুল তাড়ানো সম্ভব হবে না। প্রধনমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোনার বাংলা গড়তে চাচ্ছেন। মাদক ব্যাবসায়ী দিয়ে সোনার বাংলা গড়ে তুলা যাবে না। সোনার বাংলা গড়তে হলে সোনার মানুষ লাগবে।

অনৈসলামিক কার্যকলাপ প্রতিরোধ কমিটির আমির আতিকুর রহমান নান্নু মুন্সি বলেন, প্রশাসন আপনারা চুপ থাকেন। আমরা কয়েকজন গিয়ে তাদের আস্তানা উচ্ছেদ করে ফেলি। আপনাদের সাহায্য সহযোগিতা আমাদের লাগবে না। কথা হলো সমাবেশ হলে কিছু লোকের ভাগ্য খুলে যায়। কিন্তু এই ভাগ্য বেশিদিন থাকে না। সবসময়ই আমরা একসঙ্গে ছিলাম একসাথে থাকবো। ইসলামী হুকুমাত প্রতিষ্ঠা করার জন্য যে কোনো বাতিল শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে যাবো। আমরা কাউকে পরোয়া করি না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আপনি জানেন না কাদিয়ানীরা কি বলছে। আমরা যদি ঢাকার দিকে রওয়ানা করি তাহলে জানেনই কি হতে পারে। আপনার গদি থাকবে কি থাকবে না সেটা দেখার বিষয় না। আপনি যতদিন ইচ্ছা ক্ষমতায় থাকেন আমাদের কোনো সমস্যা নেই। আমাদের দাবী কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা করতে হবে।

ইসলামী আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখার সভাপতি মুফতি মাসুম বিল্লাহ বলেছেন, নারায়ণগঞ্জ শহরের এই জায়গায় মদের বার হবে কল্পনাও করতে পারেনি। কাদের ইঙ্গিতে এখানে মদের বার হচ্ছে আমরা জানতে চাই। আমরা রক্ত নিয়ে প্রস্তুত আছি এই মদের বারকে উচ্ছেদ করতে। আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী এই অভিশাপ চাই না।

মুফতি মাসুম বিল্লাহ বলেন, আমাদের জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচন এলে মসজিদে গিয়ে সুন্দর সুন্দর বুলি ছাড়েন। কিন্তু নির্বাচন শেষে নিজেদের ক্ষমতাকে কুক্ষীগত করে রাখার জন্য নিজেরা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার জন্য এসকল অন্যায় কাজে প্রশ্রয় দিয়ে থাকেন। সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আপনি কি করেছেন। এখানে মদের বারের অনুমোদন দিয়ে হাজার হাজার তৌহিদী জনতার মনে আঘাত দিয়েছেন।

জেলা উলামায়ে পরিষদ নেতা মুফতি হারুনুর রশিদ বলেন, আমরা প্রথমেই ঘোষণা দিয়েছিলাম এখানে মদের বার হবে না। প্রশাসন আমাদেরকে বলেছিলেন তারা এখানে মদের বার করতে দিবে না। আমরা আমাদের রাহাবার আউয়াল সাহেবের কথায় শান্ত ছিলাম। কিন্তু এখন শুনি মদের বার নাকি চালু হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের মানুষ কি পারে সেটা গত ১ তারিখ দেখিয়ে দিয়েছে। মদের বার বন্ধ না হলে উৎখাত করে দেয়া হবে।

মুফতি হারুনুর রশিদ বলেন আমরা প্রশাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রশাসন ও শামীম ওসমান বিভিন্ন সভা সমাবেশে মাদকের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা দিয়ে থাকেন। কিন্তু তারা কি মাদক ব্যবসায়ীদের মদদদাতাদের দেখেন না। এসকল মদদদাতাদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হয় না। এখানে মদের বার থাকলে আমরা শান্ত থাকবো না। আউয়াল সাহেবের নেতৃত্বে আমরা মদের বার উচ্ছেদ করেই ছাড়বো।

জেলা উলামায়ে পরিষদ নেতা মাওলানা ইসমাঈল হোসেন সিরাজী বলেন, যারা একমুখে দুই কথা বলে আমরা তাদেরকে মুনাফেক বলি। প্রথমে বলা হয়েয়ে এখানে মদের বার হবে না। এখন শুনি এখানে মদের বার হয়েছে। তাহলে কি তারাই নেশাগ্রস্থ হয়ে গেছে। এখানে মদের বারওয়ালা থাকবে না। যদি মদের বার বন্ধ করা না হয় তাহলে আমরা তৌহিদী জনতাকে নিয়ে এই মদের বার উচ্ছেদ করবো।

কাদিয়ানীদের প্রসঙ্গে মাওলানা ইসমাঈল হোসেন সিরাজী বলেন, কাদিয়ানীরা ইসলামের শত্রু। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের শত্রু। নারায়ণগঞ্জে কাদিয়ানীরা থাকবে না। প্রয়োজন হলে তাদের বিরুদ্ধে আমরা আবার মুক্তিযুদ্ধ করবো। আমরা আবার সংগ্রাম করবো।

উলামায় পরিষদ নেতা মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান বলেন, আমাদের মাঝে মাঝে কেউ খোঁচা দিয়ে দেখে আমরা হুঙ্কার দেই কিনা। আসরের নামাজের পরে নোটিশ দিয়ে আমরা কি পরিমাণ লোক আনেছি, আপনারা কি বুঝেন না আমরা কি চাই। আপনারা কি আমরা আবার হাতে লাঠি নিয়ে মাঠে নামি। আমরা লাঠি নিলে কোন কিছু দিয়েই আমাদের আটকাতে পারবেন না। আউয়াল সাহেব হুঙ্কার দিলে কাদির সাহেব হুঙ্কার দিলে উনাদের খুঁজে পাওয়া যাবে না।

মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান প্রশাসনকে সম্মান করি, এমপিদের সম্মান করি ও মেয়রদের সম্মান করি। আপনারা সম্মানের জায়গায় থাকুন। আমরা মাঠে নামলে আপনাদের গর্জন করার সাহস থাকবে না। আজকে এমপিরা কোথায়, এতবড় সমাবেশ করছি কাদিয়ানীদের নিয়ে আপনাদের কোনো বক্তব্য নাই, মেয়রের কোনো বক্তব্য নাই। স্পষ্ট বক্তব্য আমরা চাই। সেলিম ওসমান বক্তব্য দিবেন, শামীম ওসমান বক্তব্য দিবেন, মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী বক্তব্য দিবেন আপনারা কাদিয়ানীদের পক্ষে নাকি মসুলমানদের পক্ষে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা উলামায়ে পরিষদের সভাপতি আব্দুল আউয়ালের সভাপতিত্বে এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন উলামায়ে পরিষদ নেতা মাওলানা আবু সাঈদ খালেদ, উলামায়ে পরিষদ নেতা ইসমাঈল হোসাইন সিরাজী, মুফতি হারুনুর রশিদ, মুফতি দেলোয়ার হোসাইন ও রহমত উল্লাহ বুখারী সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর