১৩ রোজা : অপব্যয় অপচয় ও কৃপণতা নিষিদ্ধ


প্রেস বিজ্ঞপ্তি | প্রকাশিত: ০৮:০০ পিএম, ০৬ মে ২০২০, বুধবার
১৩ রোজা : অপব্যয় অপচয় ও কৃপণতা নিষিদ্ধ

ইসলামে অপচয় ও অপব্যয়ের পাশাপাশি কৃপণতাকেও জোরালোভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কেননা কৃপণতা মানুষকে আল্লাহতায়ালা তথা জান্নাত থেকে দূরে সরিয়ে শয়তান তথা জাহান্নাম পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। অন্যদিকে অপচয় ও অপব্যয় মানুষকে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দেয়ার পাশাপাশি চির অভাবগ্রস্থ করে তোলায় সর্বজ্ঞানী আল্লাহ তা থেকে বিরত থাকার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন।

কৃপণতা প্রসঙ্গে কুরআন মজিদে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমাদেরকে কিসে জাহান্নামে নিক্ষেপ করেছে? তারা বলে, আমরা মুসল্লীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না এবং আমরা অভাবগ্রস্তদের আহার্য দান করতাম না (৭৪: ৪২-৪৪)।

এ প্রসঙ্গে নবী করীম বলেছেন-কৃপণ ব্যক্তি আল্লাহ্? থেকে দূরে, জান্নাত থেকে দূরে এবং মানুষ থেকে দূরে থাকে। কিন্তু জাহান্নামের নিকটবর্তী থাকবে।

তিনি আরো বলেছেন, তোমরা কৃপণতা থেকে বেঁচে থাকবে। কেননা এ কৃপণতা তোমাদের পূর্ববর্তীদের ধ্বংস করে দিয়েছে। তাদের উসকিয়ে দিয়েছে যেন তারা রক্তপাত ঘটায় এবং হারামকে হালাল জানে।

ব্যয়ের ক্ষেত্রে কৃপণতা যেমন দোষণীয় তেমনি অপচয়-অপব্যয়ও দোষণীয়। সম্পদ কমে যাবে এ চিন্তায় নিঃস্ব ও বিপদগ্রস্ত মানুষকে সহায়তা না করার জন্য কৃপণরা দোষী। আর অপচয়কারীরা দোষী এ কারণে যে, তারা নিজের অপ্রয়োজনে ব্যয় করছে, অথচ নিঃস্ব ও বিপদগ্রস্তদের প্রয়োজন মিটাতে সহায়তা করেনি।

অথচ কুরআন মজিদ ও হাদিসে ক্ষুধার্তকে খাদ্যদান, বস্ত্রহীনকে বস্ত্রদান, অভাবগ্রস্তকে সাহায্য দান, অনাথ-ইয়াতীমদের লালন-পালন, নিঃস্ব ব্যক্তির উপার্জনের ব্যবস্থা করা, বিপদগ্রস্ত মানুষকে সহায়তা করা মুসলিমদের কর্তব্য বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

কুরআন মজিদে আল্লাহতায়ালার খাঁটি বান্দাদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা প্রসঙ্গে ইরশাদ হয়েছে, `এবং যখন তারা ব্যয় করে তখন অপচয় করে না কার্পণ্যও করে না, বরং তারা আছে এতদুভয়ের মাঝে মধ্যম পন্থায়` (২৫: ৬৭)। কুরআন মজিদে আরো বর্ণিত হয়েছে, `এবং আহার করবে ও পান করবে। কিন্তু অপচয় করবে না। তিনি অপচয়কারীদেরকে পছন্দ করেন না।` (৭ : ৩১)। অপচয়ের মতো অপব্যয়কে নিষিদ্ধ করে কুরআন মজিদে বর্ণিত হয়েছে, `আর কিছুতেই অপব্যয় করবে না। যারা অপব্যয় করে তারা শয়তানের ভাই এবং শয়তান তার প্রতিপালকের প্রতি অতিশয় অকৃতজ্ঞ।` (১৭ : ২৬-২৭)।

ইসলাম ব্যয়ের ক্ষেত্রে মধ্যম পন্থাকে গ্রহণ করেছে, মহানবী সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ব্যয় করার ক্ষেত্রে মধ্যম পন্থা অবলম্বন করা বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক।

অপর এক হাদিসে নবী করিম বলেছেন, যে ব্যক্তি ব্যয় করার ক্ষেত্রে মধ্যম পন্থা অবলম্বন করে সে কখনো দরিদ্র ও অভাবগ্রস্ত হয় না। অথচ অপচয় শুধু আমাদের পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও কর্মক্ষেত্রেই নয়, ধর্মীয় ক্ষেত্রেও তা জোরেশোরে চলছে। মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা অপ্রয়োজনীয় জৌলুস ও চাকচিক্যে ভরপুর। ইমাম গাযালী (রহ.) মসজিদের সৌন্দর্য বর্ধনে অতিরিক্ত ব্যয় অসঙ্গত মনে করেছেন। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা যদি মসজিদে চিত্র-বিচিত্র কারুকার্য কর এবং কুরআন মজিদের ওপর স্বর্ণ-খচিত কর, তবে তোমাদের জন্য এটা গভীর পরিতাপের বিষয়। ইসলামে পানি পর্যন্ত অপচয় না করার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছেথ তা যদি ওজুর ক্ষেত্রেও হয়। এ প্রসঙ্গে সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) থেকে একটা হাদিস বর্ণিত হয়েছেথ তিনি বলেন, একদিন নবী করীম সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাআদ (রা.)-এর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি ওজু করছিলেন। নবী করিম বললেন, হে সাআদ অপচয় করছ কেন! সাআদ বললেন, ওজুতে কি অপচয় হয়? নবী করিম বললেন, হ্যাঁ, প্রবহমান নদীতে বসেও যদি তুমি অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করথ তা অপচয়। (ইবনে মাজাহ)।

হাদিসে এসেছে, মানুষের জীবনে কিছু কিছু সময় আছে যখন সঞ্চয় করা জরুরি। তখন সঞ্চয় না করে ব্যয় করা অপচয়। যেমন বিবাহ করা, স্ত্রীর মোহর দেয়া, সন্তানের ভরণ-পোষণ ও লেখাপড়ার খরচ নির্বাহ এবং নিজের বৃদ্ধ বয়সের আর্থিক নিরাপত্তার জন্য সঞ্চয় করা আবশ্যক। তাই এসব জরুরি ব্যয় নির্বাহের জন্য সঞ্চয় না করে ব্যয় করা অপচয়। অনুরূপভাবে, রোগ, জরা, ব্যাধি, দুর্যোগ, দুর্বিপাক ইত্যাদি ধরনের আকস্মিক বিপদাপদের প্রতি লক্ষ্য রেখে কিছু সঞ্চয় করে রাখাও আবশ্যক। এসব দুর্বিপাকের কথা চিন্তা না করে ব্যয় করাও অপচয়। আবার সঞ্চিত অর্থ বিনিয়োগ না করে অলসভাবে রেখে দেয়াও অপচয়।

এমনকি কোনো সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার না করাও অপচয়। যে ব্যক্তি যে কাজে অধিক পারদর্শী তাকে দিয়ে সে কাজ না করিয়ে অন্য কাজ করানো কিংবা অধিক পারদর্শী লোককে কোনো কাজে নিয়োগ না করে তুলনামূলক কম জানা ও অদক্ষ লোককে নিয়োগ করাও ধর্মীয় দৃষ্টিতে অপচয় বলে হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর