‘আমরা চাই না এমন কঠিন মুহূর্তে ভক্ত দর্শনার্থীরা মন্দিরে আসুক’


স্টাফ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:১১ পিএম, ১৬ মে ২০২০, শনিবার
‘আমরা চাই না এমন কঠিন মুহূর্তে ভক্ত দর্শনার্থীরা মন্দিরে আসুক’

‘সুনশান নিরবতা, ভক্ত কিংবা দর্শনাথী কেউ নেই। ফটকে ঝুলছে তালা। শোনা যাচ্ছে না মন্দিরা, ঘণ্টা কিংবা শঙ্খ ধ্বনি। প্রবেশ করতে গেলেই বলা হচ্ছে মন্দির বন্ধ। মন্দিরে গিয়েও ফিরে আসছেন অনেক ভক্ত দর্শনার্থী। মন্দিরে প্রবেশ করতে না পারলেও সকলের প্রার্থনা এ করোনার মহামারী থেকে দেশ ও মানবজাতির মুক্তি পায়। এদিকে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা বলছেন পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সীমিত ভক্ত দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে মন্দির খুলে দেওয়ার জন্য আবেদন করা হবে।

১৬ মে শনিবার দুপুরে শহরের বিভিন্ন এলাকার মন্দিরগুলো ঘুরে দেখা গেছে এ দৃশ্য। তবে প্রতিটি মন্দিরেই পূজারী থাকায় নিয়মিত পূজা অর্চনা হচ্ছে বলে জানান মন্দির কমিটির লোকজন।

দেওভোগ লক্ষ্মী নারায়ণ জিউর আখড়া মন্দিরে পূজারী দিপঙ্কর চক্রবর্তী নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘ঈশ্বরের পূজা অর্চনা নিয়মিত হচ্ছে। পূজার কাজ বন্ধ নেই। তবে আগে যেখানে কম করে হলেও ২০ থেকে ২৫জন ভক্ত উপস্থিত থাকতো সেখানে এখন ১জনও নেই।’

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই না এমন কঠিন মুহূর্তে ভক্ত দর্শনার্থীরা মন্দিরে আসুক। আর মন্দিরে আসতে গিয়ে রাস্তায় কিংবা কোন আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে গিয়ে আরো আক্রান্ত হোক। এজন্যই মন্দির বন্ধ রাখা হয়েছে। ভক্ত দর্শনার্থীদের জন্য আমরা সার্বক্ষনিক ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি যাতে এ মহামারী দূর হয়ে যায়। সমগ্র মানব জাতি এ করোনার মহামারী থেকে মুক্তি পায়।’

এদিকে মন্দিরে যেতে না পারা নারী শঙ্করী সাহা নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘প্রতি মাসেই কিছু পূজা অর্চনা থাকে যেগুলো মন্দিরে গিয়ে করতে হয়। ফ্ল্যাট বাসায় বন্দির থাকায় সেইসব পূজা অর্চনাও বন্ধ রয়েছে। ঘরে বসেই ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি যাতে দ্রুত আমাদের এর থেকে মুক্তি দেয়। সবাই যেন আবারও মন্দিরে যেতে পারি।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সভাপতি রঞ্জিত মন্ডল নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জের সকল মন্দির বন্ধ রাখার ঘোষণা হয়। এরপর থেকে এখনও পর্যন্ত সেই নির্দেশনা মেনে চলছি। অনেকেই পূজা আর্চনার জন্য মন্দিরে আসতে পারছেন না। আর ভক্ত দর্শনার্থী ছাড়া মন্দিরও প্রাণের স্পন্দন থাকে না। এটা আমাদেরও খুব কষ্ট দেয়।’

তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে সীমিত আকারে দোকান, মার্কেট, পোশাক শিল্প ইত্যাদি খুলে দেওয়া হয়েছে। আমরাও মন্দিরগুলোতে স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা করবো এবং সীমিত সংখ্যক ভক্ত দর্শনার্থী যেন মন্দিরে গিয়ে পূজা অর্চনা করতে পারে সেজন্য জেলা প্রশাসক, ইউএনও সহ উর্ধ্বতনদের কাছে আবেদন করবো। তবে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া মন্দির খোলা হবে না। কারণ এটা আমাদের ভক্ত ও দর্শনার্থীদের মঙ্গলের জন্যই করা হয়েছে।’

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর