নারায়ণগঞ্জে জামাই ষষ্ঠী


সিটি করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:৫৩ পিএম, ২৯ মে ২০২০, শুক্রবার
নারায়ণগঞ্জে জামাই ষষ্ঠী

সন্তানদের মঙ্গল কামনায় করোনা ভাইরাসের মধ্যেও নারায়ণগঞ্জে সন্তান অধিষ্ঠাত্রী ও সন্তানদাত্রী এবং রক্ষাকর্ত্রী ষষ্ঠীদেবীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। যাকে জামাই ষষ্ঠীও বলা হয়। সনাতন ধর্মীবলম্বীরা জানান, ঘরোয়া পরিবেশে কোন অতিথিদের আমন্ত্রণ ছাড়াই পূজা অর্চনা করা হয়েছে।

২৮ মে বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের বিভিন্ন ঘরে ঘরে এ পূজা করা হয়। মন্দিরগুলো বন্ধ থাকায় এবার সনাতন ধর্মাবলম্বীরা কেউ মন্দিরে যেতে পারেননি।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মতে, ষষ্ঠীদেবী বা ষষ্ঠীঠাকুর হলেন বঙ্গীয় ও বহির বঙ্গীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী এক পৌরাণিক দেবী। ইনি মূলতঃ সন্তানদাত্রী ও তাহার রক্ষাকর্ত্রী দেবী; তার কৃপায় নিঃসন্তান দম্পতিদের সন্তান লাভ হয় এবং তিনিই সন্তানের রক্ষাকর্ত্রী, পুরাণ মতে যেহেতু তিনি আদিপ্রকৃতির ষষ্ঠাঙ্গ অংশভুতা তাই তাহার নাম ষষ্ঠী দেবী। সনাতন হিন্দু শাস্ত্রানুসারে হিন্দু বর্ষপঞ্জীর প্রতিমাসের শুক্লষষ্ঠী তিথিতে বিভিন্ন নামে ষষ্ঠীদেবী পূজিত হন। তাই সন্তান ও মেয়ে জামাইয়ের মঙ্গল কামনাতেই জ্যৈষ্টের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে শাশুড়িরা যে বিশেষ ষষ্ঠীর পুজো করেন সেটাই জামাইষষ্ঠী নামে পরিচিত। এ পূজা উপলক্ষে মিষ্টি, আম, কাঠাল, লিচু সহ ফলফলাদির ব্যাপক চাহিদা থাকে।

কিন্তু এই বছর লকডাউন অনেক কিছুই কেড়ে নিয়েছে। চরম মন্দার কবলে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। ফল মিষ্টি সবজি মাছ ও হাতপাখা গড়ার কালিগররা। করোনার ছোঁবলে সরকারি লকডাউনের যাতাকলে এবার জামাই ষষ্ঠীর বাজার মন্দা, ফলে জৌলুশ হারিয়েছে জামাইষষ্ঠীর।

পূজারী রনি চক্রবর্তী বলেন, ‘বিগত বছর গুলোতে প্রায় ঘরে ঘরে কিংবা মন্দিরে ষষ্ঠীপূজা অনুষ্ঠিত হতো। কিন্তু এবার লকডাউনের কারণে মন্দিরগুলো বন্ধ। তাছাড়া অনেকেই বাড়িতে অতিথিদের আমন্ত্রণ করছেন না। জামাইয়ের সুস্থতার জন্য নিজ বাড়িতে থাকতেই পরামর্শ। ফলে অনেক ঘরেই ষষ্ঠীপূজা অনুষ্ঠিত হয়নি। হাতেগুনা কয়েকজন নিয়ম রক্ষার জন্য পূজা করেছেন। সেটাও সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে ব্যবস্থা করেই।’

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর