ঈদুল আজহায় নারায়ণগঞ্জ নামাজে মানতে হবে নিয়ম


সিটি করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ১০:০১ পিএম, ১৫ জুলাই ২০২০, বুধবার
ঈদুল আজহায় নারায়ণগঞ্জ নামাজে মানতে হবে নিয়ম

আসন্ন ঈদুল আজহার নামাজ নারায়ণগঞ্জবাসীকে ঈদগাহের পরিবর্তে নিকটবর্তী মসজিদে আদায় করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সে হিসেবে আগামী ঈদেও নারায়ণগঞ্জ ঈদগাহ মাঠে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে না। তবে মসজিদে নামাজের জন্য বিভিন্ন নিয়ম কানুন অনুসরণ করতে হবে।

১৫ জুলাই বুধবার সন্ধ্যায় নিজের ফেইসবুক অ্যাকাউন্টে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত প্রজ্ঞাপনের একটি কপি অপলোড দিয়ে এসব বিষয়ে জানান নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন।

১৪ জুলাই ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্ণক পবিত্র ঈদ উল আযহা নামাজের জামায়াত আদায় প্রসঙ্গে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

এতে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস প্রাদূর্ভাবজনিত কারণে উন্মুক্ত স্থানে বড় পরিসরে ঈদের জামায়াত পরিহার করে জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত নির্দেশনাবলি অনুসরণপূর্বক শর্তসাপেক্ষে পবিত্র ঈদ উল ফিতরের নামাজের জামায়ত খোলা মাঠ/ ঈদগাহে আদায় না করে মসজিদে আদায় করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় কোভিড-১৯ এর প্রাদূর্ভাব অপরিবর্তিত থাকায় আসন্না ঈদ উল আযহার নামাজ আদায় সংক্রান্ত বিষয় দেশের শীর্ষ স্থানীয় আলেম ওলামাগণ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সাথে গত ১২ জুলাই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সভার আয়োজন করা হয়। উক্ত সভায় সিদ্ধান্ত মোতাবেক জামাত অনুষ্ঠানের বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক নি¤œবর্ণিত শর্তসাপেক্ষে পবিত্র ঈদ উল আযহা এর নামাজের জামায়াত মসজিদে আদায়ের জন্য আহবান জানানো হলো।

শর্তগুলো হলো
ক. বর্তমানে সারা বিশ্বসহ আমাদের দেশে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিজনিত ওজরের কারণে মুসল্লিদের জীবনঝুঁকি বিবেচনা করে এ বছর ঈদুল আজহা ২০২০ এর জামায়াত ঈদগাহ বা খোলা জায়গার পরিবর্তে নিকটস্থ মসজিদে আদায় করতে হবে। প্রয়োজনে একই মসজিদে একাধিক জামায়ত আদায় করা যাবে।

খ. ঈদের নামাজের জামায়াতের সময় মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না। নামাজের আগে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবাণুনাশক দ্বারা পরিস্কার করতে হবে। মুসল্লিরা প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসবেন।

গ. প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসা থেকে ওজু করে মসজিদে আসতে হবে এবং ওজু করার সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে।

ঘ. করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে নিশ্চিতকল্পে মসজিদে ওজুর স্থানে সাবান/হ্যান্ডস্যানিটাইজার রাখতে হবে।

ঙ. মসজিদের প্রবেশদ্বরে হ্যান্ড স্যানিটাইজার/হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ সাবান পানি রাখতে হবে।

চ. ঈদে নামাজের জামায়াতে আগত মুসল্লিকে অবশ্যই মাস্ক পরে মসজিদে আসতে হবে। মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না।

ছ. ঈদের নামাজ আদায়ের সময় কাতারে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে দাঁড়াতে হবে এবং এক কাতার অন্তর অন্তর কাতার করতে হবে।

জ. শিশু বৃদ্ধ, যেকোনো ধরনের অসুস্থ ব্যক্তি এবং অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি ঈদের নামাজের জামায়াতে অংশগ্রহণ করবেন না।

ঝ. সর্বসাধারণের সুরক্ষার নিমিত্ত স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনীর নির্দেশনা অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে।

ঞ. করোনা ভাইরাস সংক্রামণ রোধ কল্পে মসজিদে জামায়াত শেষে কোলাকুলি এবং পরস্পর হাত মেলানো পরিহার করতে হবে।

ট. করোনা ভাইরাস মহামারী থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ শেষে মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে দোয়া করার জন্য খতিব ও ইমামদের অনুরোধ করা হলো।

ঠ. খতিব, ইমাম, মসজিদ পরিচালনা কমিটি ও স্থানীয় প্রমাসনকে বিষয়গুলো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার অনুরোধ করা হলো।

ড. পশু কোরবানির ক্ষেত্রে মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করতে হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর