বন্দরে নামাজ চলাকালীন মসজিদে মারামারি


সিটি করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ১০:০১ পিএম, ১৮ জুলাই ২০২০, শনিবার
বন্দরে নামাজ চলাকালীন মসজিদে মারামারি

নারায়ণগঞ্জ বন্দরে প্রভাববিস্তার নিয়ে মসজিদের ভেতর দুই গ্রুপের মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় একজন আহত হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) জুমার নামাজের সময় উপজেলার দক্ষিণ মদনপুর বায়তুল জান্নাত জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় মুসল্লীরা জানান, মদনপুরের শিল্পপতি সুরুজ মিয়ার চাচাত ভাই শহিদ ও ইকবালরা দীর্ঘদিন যাবত মসজিদের পরিচালনা কমিটি নিয়ে শত্রুতা করে আসছে। এমনকি কালো টাকা ও পেশী শক্তির মাধ্যমে মসজিদের ব্যাবস্থাপনায় খবরদারি করতে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। কিন্তু স্থানীয় মুসল্লীরা তাদেরকে বহুবার বয়কট করে নিজেদের অর্থায়নে টিনসেড থেকে ২য় তলা ভবনের কাজ প্রায় সম্পন্ন করেছেন এলাকাবাসী। আগামী ২২ জুলাই মসজিদের ২য় তলার ছাদ ঢালাই কাজের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। কিন্তু মসজিদের উন্নয়ন কাজের ব্যাঘাত ঘটাতে উঠেপড়ে লেগেছে ওই পক্ষের লোকজন। যাতে করে ২য় তলার ছাদ ঢালাই কাজ না করতে পারে, সে জন্যই শহিদ ও ইকবাল গং তাদের সহযোগী ২০/২৫ জনের সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। এর আগে স্থানীয় ইউপি সদস্য খলিলুর রহমানের নাম করে মিথ্যা লিফলেট বিতরণ ও দেওয়ালে সাটিয়ে মসজিদ কমিটির বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার করে ওই স্বার্থন্বেষি মহল।

ঘটনাটি খুবই দুঃখ জনক উল্লেখ করে ইমাম মুফতি রেজাউল করিম জানান, জুম্মা নামাজের বয়ান করার সময় হঠাৎ করে শহিদ আমার হাত থেকে মাইক্রোফোন কেড়ে নিয়ে বিভিন্ন উস্কানিমূলক বক্তব্য দিতে থাকেন। একপর্যায়ে স্থানীয় মসজিদের ক্যাশিয়ার বাচ্চু হাজী ও স্থানীয় মোক্তার হোসেন, স্বপন মিয়া প্রতিবাদ করেন।এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিত-া হয়। ক্ষিপ্ত হয়ে শহিদ, ইকবাল, আক্তার, আবুল কালাম ও আবুল মিয়া মিলে তাদের ওপর চড়াও হয়। এসময় দু`গ্রুপের মধ্যে মারামারি হলে খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। পরে পুলিশি প্রহরায় জুমার নামাজ আদায় করেন মুসল্লীরা।

পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাজী ইসহাক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দীর্ঘদিন যাবত এই মসজিদের পরিচালনা কমিটি নিয়ে ষড়যন্ত্র করে আসছে সুরুজ মিয়ার চাচাত ভাই শহিদ ও তার অনুসারীরা। হীন উদ্দেশ্যে পবিত্র জুমার নামাজের সময় তারা মারামারির ঘটনা ঘটিয়ে মসজিদের পবিত্রতা নষ্ট করেছে।

তিনি আরো বলেন, সভাপতি রমজান আলী চাকরির জন্য ঢাকায় অবস্থান করায় তিনি নিজে বাদী হয়ে দুস্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ধামগড় পুলিশ ফাড়ীর ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মো. আজিজুল হক বলেন, জুমার নামাজের সময় দু`গ্রুপের মধ্যে মারামারির খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগের ব্যাপারে তদন্ত করে ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর