rabbhaban

নারায়ণগঞ্জে পঁচা মাছ যায় মানুষের পেটে!


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:২৩ পিএম, ২৬ জুলাই ২০১৮, বৃহস্পতিবার
নারায়ণগঞ্জে পঁচা মাছ যায় মানুষের পেটে!

মাছ মরে পঁচে গেছে যা বিক্রি করার মতো কোন উপায় নেই। এখন শুধু মাত্র ময়লার ভাগাড়ে ফেলার অপেক্ষা। কিন্তু তা না করে সেই সব যাচ্ছে নিম্ন শ্রেনি থেকে উচ্চ বিত্ত সকল শ্রেনির মানুষের খাবার প্লেটে। কেউ না বুঝে খেয়ে ফেলছেন আর যারা বুঝতে পারছেন তারা ফেলে দিচ্ছেন। আর খেয়ে ফেলছেন তারা অসুস্থ হচ্ছেন আর যারা ফেলে দিচ্ছেন তাদের যাচ্ছে অর্থ। আর প্রশাসনের পদক্ষেপ না থাকায় এসব করার সুযোগ নিচ্ছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী।

২৬ জুলাই বৃহস্পতিবার দুপুরে বৃষ্টিতে শহরের ৩নং মাছঘাট এলাকা ছিল ফাঁকা। এসময় একজন মাছের ড্রাম ও বরফের কাটের বক্সের উপর মাঠের ঢালা রেখে বৃষ্টি থেকে নিজেকে আঁড়াল করে কাজ করছিলেন। ঝুঁড়ি থেকে পাঙ্গাস মাছ নিয়ে তাতে পানি দিয়ে ধুয়ে আবার বরফের সঙ্গে অন্য ঝুড়িতে রাখছেন। তবে এ পানির সঙ্গে মেশানো হচ্ছিলো সবুজ রঙ। এসব দেখে আড়াল থেকে মোবাইলে ছবি তুলতেই রেগে যান কয়েকজন মাছ ব্যবসায়ী। ছবি তোলার প্রতিবাদ করেন।’

কেন বাধা দেন ও কি হয়েছিল এ বিষয়ে জানিয়ে ওসমান গণি জুয়েল নামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকের অন্যতম জনপ্রিয় গ্রুপ নারায়ণগঞ্জস্থানে ঘটনার ছবি সহ বিভিন্ন বিষয় লিখে প্রকাশ করেন। তিনি ফেইসবুকে জানান, ঘটনা ঘটেছে বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায়। মরা ও পঁচা মাছকে প্রথমে রঙ লাগায় তারপরে ফরমালিন এর পানিতে ভিজিয়ে তরতাজা করার সচিত্র দৃশ্য দেখা মাত্রই আড়াল থেকে ক্যামেরাবিন্দ করায় মাছ ব্যবসায়ীরা ক্ষেপে যায়। পরে অনেক কষ্ট করে কৌশলে বের হয়ে আসেন।

তিনি প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়ে লিখেছেন, ‘এটাকেই বলে চুরি তো চুরি আবার সিনা জুরি। প্রশাসন নিশ্চুপ থাকায় আমরা সাধারণ মানুষ অসহায়। আর তাই প্রতিনিয়ত আমরা ভেজাল খাচ্ছি। অবিলম্বে এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোরতর ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন মাছঘাট এলাকার শ্রমিক জানান, এখানের ব্যবসায়ীদের নিত্যদিনের চিত্র এটা। দূর দুরান্ত থেকে যেসব মাছ নিয়ে আসে সেগুলো ফরমালিনের বরফ দিয়ে রেখে দেওয়া হয়। কারণ এগুলো যেদিন আনা হয় সেদিনই বিক্রি না করলে পচে নষ্ট হয়ে যাবে। তাই এগুলো ফরমালিন দিয়ে এক সপ্তাহ থেকে দুই সপ্তাহও রেখে দেওয়া হয়। এসব বলতে গেলে আমাদের চাকরি তো থাকবে না এর সঙ্গে মারধরও করা হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভেজাল খাদ্য দ্রব্য উপর ঢাকায় প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালন করতে দেখা গেলেও নারায়ণগঞ্জ প্রশাসন এ নিয়ে তেমন কোন অভিযান দেখা যায় না। মাছের আড়ৎগুলোতে তেমন কোন অভিযান বিগত কয়েক মাসেও দেখা যায় না। যার ফলে এসব অসাধু ব্যবসায়ীরা দিনের পর দিন এ ধরনের অপকর্ম করে যাচ্ছেন। এতে দিনের পর দিন মানুষ স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে কাটাচ্ছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
rabbhaban
আজকের সবখবর