নারায়ণগঞ্জে ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে ফেসবুক!


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:৫০ পিএম, ০৪ আগস্ট ২০১৮, শনিবার
নারায়ণগঞ্জে ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে ফেসবুক!

নারায়ণগঞ্জ ও রাজধানী সহ সারা বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনের এক যুগান্তকারী মাইল ফলক সৃষ্টি করেছে শিক্ষার্থীরা। টানা আন্দোলনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ছিল আন্দোলনকারীদের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম। এছাড়া কর্মসূচি ঘোষণার জন্যও প্রধান মাধ্যম হিসেবে ফেসবুক ব্যবহার হয়। তবে সম্প্রতি বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে বিভিন্ন ফেসবুক পেজে ও গ্রুপে নানা ম্যাসেজ সহ ফেসবুক বন্ধুদের মাধ্যমে আন্দোালনের নানা চাঞ্চল্যকর ম্যাসেজ ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে সারা দেশে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এসব ম্যাসেজ ছড়িয়ে দেয়ার নানা তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এদিকে রাজধানীতে সড়ক দুর্ঘটনায় দ্ইু শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় রাজধানী সহ সারাদেশের মত নারায়ণগঞ্জে ছাত্ররা আন্দোলন গড়ে তুলে। এসময় ছাত্রদের কাছে ফেসবুকে এসব ম্যাসেজ ছড়িয়ে পড়ছে। এতে করে তাদের মধ্যে অনেকে অতি উৎসাহি হয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারে যা ভয়াবহ কোন দুর্ঘটনার সৃষ্টি করতে পারে। তাই এসব ম্যাসেজের গ্রহণযোগ্যতা বিচার করে গুরুত্ব দেয়া উচিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে চলমান ছাত্র আন্দোলন এর নেতৃত্বে কে আছে তা এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান হয়ে উঠেনি। তবে আন্দোলন দেখে বুঝার উপায় নাই যে তারা বিচ্ছিন্ন। টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া ছাত্ররা এক ও অভিন্ন আন্দোলন করে যাচ্ছে। তবে অন্যান্য আন্দোলনের মত এই আন্দোলনের কোন মুখপাত্র আন্দোলনের ৫ম দিনেও পাওয়া যায়নি। তবে একটি বিষয়ে সবাই একমত যে আন্দোলনের মূল চালিকা শক্তি হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া।

গত কয়েকটি আন্দোলন তাই প্রমাণ করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণেই পয়লা বৈশাখে নারী নিগ্রহকারীদের মুখোশ উন্মোচন, সিলেটের রাজন হত্যার দ্রুত বিচার, বদরুলের মতো ক্যাডার কর্তৃক খাদেজাকে জখম, তনু হত্যা ও বনানীর রেইনট্রিতে দুই তরুণীর ধর্ষণের জোরালো প্রতিবাদ দেখাতে পেরেছে সাধারণ মানুষ।

বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া অত্যাধিক শক্তিশালী হয়ে উঠছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে ফেসবুক বেশ জনপ্রিয়। তবে ইউটিউব ও টুইটারও এর সঙ্গে আছে। বিশেষ করে ফেসবুকের আলোচনা-সমালোচনার ওপর নির্ভর করে অনেক সমস্যা এবং সমাধানের নজিরও স্থাপিত হচ্ছে।

ফেসবুকে বিভিন্ন খবর নিয়ে অনেক বিতর্কের ঝড় বয়ে যায়, আলোচনা-সমালোচনা চলে। সারা বিশ্বেই এখন সোশ্যাল মিডিয়া শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। বিশ্বজুড়ে নানা দেশে প্রতিবাদ আন্দোলন সংগঠিত করার ক্ষেত্রেও এটি বড় প্লাটফর্ম হয়ে উঠেছে।

ব্যবহারকারী যারা, তারা যখন ক্রমশ সামাজিক মাধ্যমের দিকে ঝুঁকছে এবং ওই মাধ্যমেই তারা খবর পড়তে চাইছেন। এই মাধ্যমে শেয়ারিং বা বিনিময়ের যে বিষয় রয়েছে সেটা অন্য মাধ্যমে সম্ভব নয়। এর একটা শিথিল সাংগঠনিক কাঠামো রয়েছে। এক কথায় এই মাধ্যম অনেক বেশি অংশগ্রহণমূলক। অ্যাক্টিভিজমের জন্য অনেক বেশি সহজ এবং ওই অর্থে অনেক বেশি গণতান্ত্রিক।

একটি রাষ্ট্রের নির্বাহী প্রধান থেকে শুরু করে একজন সাধারণ মানুষ পর্যন্ত মত বিনিময়ের একটা অসাধারণ সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। মানুষ নিজের মতামত জানাতে পারছে। ব্যবহারকারী বা জনগণের জন্য সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে।

কাজেই বলা যায় সোশ্যাল মিডিয়ার গঠনমূলক দ্রোহে রাষ্ট্রকেও যেমন তার সঠিক সিদ্ধান্তে আসতে বাধ্য করা যাচ্ছে। মানুষের বহুবিধ বিচিত্র চিন্তার পাটাতন এখন ফেসবুক। যেখানে অবলীলায় সুখ-দুঃখ, অর্জন বা গৌরবের কথা একে অপরের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে পারছেন। নিমেষে মাত্র একটিমাত্র টিপেই অন্যায়, অসাধুতা, সমাজ বা মানবতাবিরোধী কর্মকা- জানামাত্রই প্রতিবাদে ফেটে পড়তে পারে মানুষ। এমনকি ফেসবুকের এক ডাকে অভিন্ন দাবিতে একাট্টা হাজার মানুষ। যেটা প্রচলিত মূলধারার গণমাধ্যমের পক্ষে কিছুতেই করা সম্ভব না।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
-->
newsnarayanganj24_address
স্যোশাল মিডিয়া এর সর্বশেষ খবর
আজকের সবখবর