rabbhaban

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের গণপরিবহন এখন ‘লোকাল সার্ভিস’ নারী আসনে পুরুষ


সিটি করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:৪৭ পিএম, ১০ আগস্ট ২০১৮, শুক্রবার
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের গণপরিবহন এখন ‘লোকাল সার্ভিস’ নারী আসনে পুরুষ

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচল বরা গণপরিবহনগুলো এখন কার্যত লোকাল সার্ভিসে পরিণত হতে চলেছে। সিটিং বাস লেখা থাকলেও বেশীরভাগ বাসেই দাঁড় করিয়ে যাত্রী নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৭’  খসড়ার নীতিগত অনুমোদনের পরেও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে গণপরিবহনগুলোতে এখনো নারী দুর্ভোগ পরিবর্তনের কোন চিত্র লক্ষ্য করা যায় না। এখনো দেখা যায় নারী সংরক্ষিত আসনে বসে থাকা অবিবেচক পুরুষ, এখনো পরবহনগুলোতে হয়রানির স্বীকার হচ্ছেন অসংখ্য মা-বোন। পরিবহনে মহিলা যাত্রী  উঠতে দেখে হেলপার যখন পুরুষ যাত্রীর উদ্দেশ্যে ‘মহিলা সিট ছাড়েন, মহিলা সিট ছাড়েন’ বললেও সকলের মাঝে দেখা যায় নির্বিকার মনোভাব।

আইনে মহিলা, শিশু, সিনিয়র ও প্রতিবন্ধীদের জন্য সংরক্ষিত আসনে অন্য কোনো যাত্রী বসলে বা বসার অনুমতি দিলে সর্বোচ্চ এক মাসের জেল বা ৫ হাজার টাকা জরিমানার বিধান থাকলেও প্রায়ই দেখা যায় মহিলা সিটে দিব্যি বসে আছেন পুরুষ যাত্রী।

মাঝে মাঝে এ নিয়ে যাত্রীদের মাঝে বাকবিতন্ডাও চলে। অনেক পুরুষ বলেন ‘সম অধিকার দাবি করেন, আবার বাসে আলাদা সিট চান, নারীরা সব পারে, তাহলে দাঁড়িয়ে গেলে সমস্যা কি? আবার কেউ কেউ বলেন নারীরা পুরুষ সিট দখল করে রাখে বিদায় আমরা বাধ্য হই মহিলা সিটে বসতে। এ রকম তাচ্ছিল্যভরা ব্যাক্যে প্রতিনিয়ত বিব্রত হচ্ছেন নারীরা। এই বিড়ম্বনার পাশাপাশি পরিবহনে উঠার সময় মহিলাদের প্রতিনিয়ত শুনতে হচ্ছে, ‘সিট নাই’, ‘মহিলা সিট নাই’, ‘মহিলা উঠাস না, যাত্রীরা ক্যাঁচাল করবো’ এমন বিব্রতকর বাক্য।

এবিষয়ে কর্মজীবী যাত্রী ফারজানা আক্তার বলেন, ‘আমাদের দেশে অনেক আইন থকলেও আইনের যথার্থ প্রয়োগ আমরা দেখতে পাই না। সম্প্রতি নারী সিটের আইনটি পাস হওয়ার পরও পরিবহনগুলোতে অহরহ দেখা যায় আমাদের সংরক্ষিত সিটে অবিবেচক পুরুষগুলো দিব্যি বসে আছে। তাছারা পড়াশোনার পাশাপাশি এখন কর্মজীবী নারীর সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলছে। সে তুলনায় বিশেষ করে আমদের নারায়ণগঞ্জে কর্মজীবী নারীদের জন্য আলাদা কোন পরিবহন-সুবিধা নেই বললেই চলে। আমরা তো ছেলেদের মতো দৌড়ে বাসে উঠতে বা ঝুলে যেতে পারি না। অনেক সময় চাইলেও উঠতে দেয়া হয় না। তাছাড়া পরিবহনে নারীদের উপর যৌন হয়রানির মাত্রা দিন দিন তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। এর জন্য সংরক্ষিত সিটের পাশাপাশি মহিলা বাসের সার্ভিসও বাড়ানো প্রয়োজন। তাছারা আইনটির যথাযথ প্রয়োগে ভ্রাম্যমান আদালত সহযোগীতা করলে একটু হলেও এই বিব্রতকর পরিস্থিতি হতে আমরা রক্ষা পেতাম।

পরিবহন যাত্রী মো. তরিকুজ্জামান বলেন, ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে আইনটি অবশ্যই যৌক্তিক কিন্তু আইন করে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এর জন্য সচেতনতার পাশাপাশি সকলের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। বাসের সিটের সঙ্গে সম অধিকারের দাবি মিলিয়ে ফেললে হবে না।’

নারী যাত্রী আসন আইন সম্পর্কে কতটুকু জানেন প্রশ্নে শীতলক্ষ্যা পরিবহনের হেলপার সজিব বলেন, ‘সব কিছুই জানি কিন্তু পাবলিক না মানলে আমরা কি করমু। তাছাড়া বাসে মাত্র ৬টি মহিলা সিট। এগুলো পূরণ অইলে আর মহিলা যাত্রী ওঠাই না। মহিলাগো নিয়ে ঝামেলা অয়। বাসের মধ্যে দাঁড়াইতে পারে না।’

আপনার মন্তব্য লিখুন:
rabbhaban
আজকের সবখবর