rabbhaban

ফেসবুকে পোস্ট : কি লাভ এত সৌন্দর্যের


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:৫৯ পিএম, ০৭ জুলাই ২০১৯, রবিবার
ফেসবুকে পোস্ট : কি লাভ এত সৌন্দর্যের

“কয়দিন যাবত দেখছি লেকের মাঝামাঝি ময়লার স্তূপ। ৩-৪ দিন এখানে ময়লা জমে যখন ময়লার বিশাল স্তূপ হয় তখন ময়লা নিয়ে যায় এখান থেকে। যার জন্য লেকের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে আর ছড়াচ্ছে খুবই বাজে দুর্গন্ধ। যদি এটারে ডাস্টবিন বানায় রাখেন তাইলে সৌন্দর্যের মানে কি হলো।”

৭ জুলাই রোববার বিকেল পৌনে ৪টায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের নারায়ণগঞ্জের সব থেকে জনপ্রিয় ফেসবুক গ্রুপ ‘নারায়ণগঞ্জস্থান’এ লেখাটি পোস্ট করেন সায়েদ সানি নামে এক ব্যক্তি।

তিনি আরো লিখেছেন, “নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন আমাদের এতো সুন্দর একটা জায়গা তৈরি করে দিলেন তার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ। কিন্তু যদি ময়লা এই লেকের মাঝামাঝি ফেলতে হয় তালে কি লাভ হলো। ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট জায়গা নাই কেন?। আমি এলাকাবাসীর দোষ দিব না কারণ তারা ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট জায়গা পায় না বলে রাস্তার যেখানে সেখানে ময়লা ফেলে। আশা করি দায়িত্বরত যারা আছেন বিষয়টা একটু দেখবেন। কারণ আমরা আমাদের নারায়ণগঞ্জকে সুন্দর ও পরিষ্কার দেখতে চাই।”

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) ২০১৫ সালের অর্থ বছরে নারায়ণগঞ্জ শহরের ১৬নং ওয়ার্ডে জিমখানা লেক উন্নয়ন ও সৌন্দর্য বর্ধনকরণ প্রকল্পের কাজে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। নাসিকের সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে এ প্রকল্পের কাজ ব্যয় ধরা হয় ৭ কোটি ৭৪ লাখ ৯৮ হাজার ৭৫০ টাকা। ২০১৫ সালের ৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ওই প্রকল্পের কার্যাদেশ দিলেও প্রকল্পের ৪ মাস পর ওই কাজ শুরু করছেন প্রকল্পে টেন্ডার পাওয়া মেসাস রত্মা এন্টারপ্রাইজ। সংস্থাটির পরিচালনায় রয়েছেন মো. জাকির হোসেন।

আরো জানা যায়, ওই প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে সবুজে ঘেরা ওয়াকওয়ে, ময়লা নিস্কাশন, সিটিং প্ল্যান, পানির রিজার্ভ করা, লেকের পূর্ব পাশে ঘাটলা নির্মাণ, পেভিলন, হাতিরঝিলের আদলে লেকের মাঝে ব্রীজ ও আলোকসজ্জা, ড্রেন সহ পাবলিক টয়লেট ও বিশুদ্ধ পানি পানের ব্যবস্থা থাকবে। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ সিটি করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে করা হচ্ছে।

এখনো কাজ সম্পন্ন না হলেও ইতোমধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে হাতিরঝিল খ্যাত শেখ রাসেল নগর পার্ক। প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ অবসর সময় কাটানোর জন্য ভীড় জমান এখানে। ছুটির দিনে তিল ধারনের ঠাঁই থাকে না।

তবে এই এলাকাবাসীর ময়লা আবর্জনা ফেলার নির্দিষ্ট কোনো জায়গা না থাকায় সব ময়লা-আবর্জনা এখানেই ফেলতে হয়। অপর দিকে সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা ময়লা অপসারণ করেন ৩থেকে ৪দিন পর পর। ফলে ময়লা আবর্জনার কারণে পার্কের পরিবেশের সৌন্দর্য যেমন নষ্ট হচ্ছে তেমনি দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে এখানে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের

এ প্রসঙ্গে দর্শনার্থী রবিউল ইসলাম নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, জায়গাটা অনেক সুন্দর তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু এত সুন্দর জায়গায় ময়লার স্তূপের কারণে পুরো পার্কটাকেই ময়লার স্তূপ মনে হচ্ছে। বিনোদনের জন্য আমাদের পর্যাপ্ত জায়গা নেই। দির্ঘদিন পর সিটি কর্পোরেশনের কারণে একটি পেয়েছি এটারও সঠিক ভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে না। অথচ একটু যতœ নিলেই আমরা পার্কটিকে নারায়ণগঞ্জের সব থেকে সুন্দর বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুরতে পারি।

এ প্রসঙ্গে কথা বলার জন্য নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন হিরনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর