rabbhaban

‘আমরা না কাঁদলেও কান্নারা ঠিকই কাঁদে’


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:০০ পিএম, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার
‘আমরা না কাঁদলেও কান্নারা ঠিকই কাঁদে’

২০১৭ সালের ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ‘আব্বু, এই আসতেছি’ বলে তুমি বেরিয়ে গেলে তোমার সেই ফিরে আসা আর হলো না, বাজান। আমার প্রতীক্ষার প্রহর জানি কভু শেষ হবে না।

৮ সেপ্টেম্বর রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের নিজের অ্যাকাউন্ট স্ট্যাটাসে নিজের কথাগুলো লিখেন ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে নিহত শাহরিয়াজ শুভ্রর বাবা কামাল সিদ্দিকী।

উল্লেখ্য ৮ সেপ্টেম্বর ভোর থেকে নিখোঁজের পরদিন ৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে ফতুল্লার ভূইগড় এলাকা থেকে শুভ্রের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই সময়ে অজ্ঞাত থাকলেও ১০ সেপ্টেম্বর দুপুরে পরিবারের সদস্যরা লাশটি শুভ্রের শনাক্ত করেন।

নিহত শুভ্র সদর উপজেলার ফতুল্লা লালপুর এলাকার একটি মাদ্রাসার শিক্ষক মো. কামাল উদ্দিনের ছেলে। সে নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ও বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন ফতুল্লা থানার প্রাথমিক সদস্য। শুভ্র স্থানীয় দৈনিক যুগের চিন্তার অনলাইনে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কাজ করতো।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, তুমি জীবনে বড় হবার স্বপ্ন বুকে নিয়ে চলে গেলে। তোমার ডাইরিটা তাই ভরা হলো না। একটা মার্সিডিজ গাড়ি, সৌরম্যবাড়ি স্বপ্ন ডাইরির পাতাটিকে ধূসর মলাটে ঢেকে দিয়েছে। সে স্বপ্নটা আঁকা হলো না। তোমার বিবিএ অনার্স এর সহপাঠীরা শিক্ষা সমাপনে কর্ম জীবনে যাপিয়ে পড়ছে। রঙিন পাখনাগুলো উড়ছে তোমার সে ঝাঁকে উড়া হলো না। না বাবা, কেউ খবর রাখে না। সে সময় ওদের কই? কাগজের ফুল ঘ্রাণ বিলায় না। তোমার চলে যাওয়াটাই যেন অনেকের চলার পথের শিক্ষা হয়েছে। ঘরমুখো ছেলেটাকে যারা সময় অসময়ে ব্যস্ততায় তাড়িয়েছে। হাসপাতালের কোরিডোর রক্ত দিয়ে যে রক্তশূন্যতায় ছটফঠ করেছে তাকে এখন আর কেউ মনে রাখেনি।

তিনি আরো লিখেন, না সেই চারটি মানুষ তোমার স্নেহের ছোট ভাই শাফিন যাকে বুকের ভেতর জাপটে ধরে তুমি পরম তৃপ্তিতে ঘুমাতে। ও মনের অজান্তে আজো ঘুমের ঘোরে হাতড়িয়ে তোমাকে খুঁজে। আর তোমার বোন, যে ভাইয়া নামের পাগল ছিল? না গত দুই বছরে তাকে কেউ একটিও চুলের ফিতা কিনে দেয়নি। আসলে খালাত ভাই, মামাতো ভাই? কাজিন হয়, ভাই হয়না। জানো বাবা শাহরিয়াজ, আমাদের বারান্দার টবে ফুল ফোটে। আবার ঝরে যায়। তোমার গোলাপের টবটা আর বেঁচে নেই। ও বেঁচে থাকার প্রয়োজন মনে করেনি। তাই তোমাকে অনুসরণ করেছে। আমি না আজো বেঁচে আছি? কারণ আমি গোলাপের মত তোমায় ভালোবাসতে পারিনি। তোমার মা নিঘুর্ম রাত কাটায় তুমি আসবে বলে। আমি এখনো তোমার চপলের শব্দ মুনি দরোজার করাঘাত জেগে উঠি। এখনো আমের ভর্তা মুরগি রোস্ট, হালিম, চটপটি নেহারীর আর তন্দুর রেসিপি তোমার টেবিলে বেওয়ারিস পড়ে থাকে। তোমার মা ওগুলোতে রসনা ভেজায় না। ওরা আমাদের কাঁদতে নিষেধ করে। কিন্তু আমরা না কাঁদলেও বাবা, কান্নারা ঠিকই কাঁদে। আমরা পাষাণ হৃদয় খাঁক হয়, তোমার আগুনে পুড়ে।

প্রসঙ্গত ২০১৭ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ভোরে শাহরিয়াজ মাহমুদ শুভ্র সাইনবোর্ড যাওয়ার জন্য সিএনজিতে ওঠে। পরে রাস্তার মাঝেই শাহরিয়াজ মাহমুদ শুভ্রকে চাকু দিয়ে জিম্মি করে মোবাইল ও টাকা ছিনিয়ে নিয়ে শ্বাসরোধ করে রাস্তার পারে ফেলে পালিয়ে যায়। শুভ্রর সঙ্গে থাকা ৬০০ টাকা ও একটি মোবাইল সেট ছিনিয়ে নিতেই ওই হত্যাকা-ের ঘটনাটি ঘটিয়েছে বলে আদালতে স্বীকার করে ঘাতকরা।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর