rabbhaban

শামীম ওসমানের দাদা হওয়া ও এটিএম কামালের ফেসবুক স্ট্যাটাস


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:৪৮ পিএম, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার
শামীম ওসমানের দাদা হওয়া ও এটিএম কামালের ফেসবুক স্ট্যাটাস

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমানের ছেলে অয়ন ওসমানের ছেলে সন্তান জন্ম নেওয়ার পর ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন মহানগর বিএনপির সেক্রেটারী এটিএম কামাল। ওই স্ট্যাটাসে লেখা হয় পক্ষে বিপক্ষে মন্তব্য।

কামাল লিখেছিলেন ‘অভিনন্দন গর্বিত দাদা সাংসদ শামীম ওসমান, দাদী লিপি ওসমান ও পিতা অয়ন ওসমানকে। আল্লাহর নিকট ঐতিহ্যবাহী ওসমান পরিবারের ৫ম প্রজন্মের গর্ভধারিনী গর্বিত মাতা ও নবজাতকের সুস্বাস্থ ও দীর্ঘ জীবন কামনা করছি।’’

ওই স্ট্যাটাসের সূত্র ধরে এটিএম কামাল আরেকটি স্ট্যাটাস দেন। এতে তিনি লিখেন, ‘আমার একটি স্ট্যাটাস নিয়ে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি ও নেতা কর্মীদের নিয়ে যারা ঢালাও অশোভন মন্তব্য করছেন, তাঁদের বলছি, হতে পারি আমি স্বার্থপর, আঁতাতকারি, কাপুরুষ, যা কিছু বলার আমাকে বলুন। নারায়ণগঞ্জ একটি জলন্ত আগ্নেগিরি। তার ভিতরে থেকে যারা দীর্ঘদিনের আন্দোলন সংগ্রাম করছে তাঁরা বীর..... সারা জীবন ওদের সাথে লড়াই করলাম, ওসমান পরিবারের বিএনপি বিরোধী বক্তব্যের বিপরীতে কঠিন জবাব দিতে কখনো পিছপা হইনি। মামলার পর মামলা খেয়েছি রাজ পথ ছাড়িনি, কোন রক্ত চক্ষু, ধমক ও হুমকিকে তোয়াক্কা করিনি তাই হামলার পর হামলা হয়েছে, পুলিশের পাশবিক নির্যাতন, রিমান্ড আর দীর্ঘ কারাবাসে অসুস্থ হয়ে মাসের মাস হাসপাতালের বেডে কাটিয়েছি, বছরের পর বছর জেলে ছিলাম।

কামাল আরো লিখেন, ‘শুভাকাঙ্খি অনেকেরই আনুরোধ ছিল একটা ফোন করেন, এখনই বের করে নিয়ে যাব, তারপরেও নীতির প্রশ্নে কখনো আপস করিনি !!!’’

‘‘আমি জানি আমাকে যারা ভালোবাসে তাঁদের কাছেও এটা ভালো লাগবেনা, আমার একজন সহকর্মী কিছুক্ষন আগে ফোন করে বললো, এ শহরে আপনি ও আপনার পরিবার অনেক নির্যাতিত হয়েছেন, নির্বাচনের আগেও আপনাকে না পেয়ে আপনার মাষ্টার্স পরীক্ষার্থী একমাত্র ছেলেকে ধরে নিয়ে গেল, দেশে থাকলে আপনার দিন কাটে আদালতের বারান্দায়, বছরের পর বছর জেল খাটলেন, এতো মাইর খাইলেন, কোন ধমক, লোভ লালসার কাছে মাথা নোয়াইলেন না, অভিনন্দন তো গোপনে ফোন কইরা জানাইতে পারতেন।’’

আমেরিকাতে চিকিৎসা ও পারিবারিক কাজে যাওয়া কামাল আরো লিখেন, ‘‘আসলে সেটাইতো আমি পারিনা, এটাই আমার বড় দোষ। আমার ভিতরে যা বাহিরেও তা, আমি একই অঙ্গে বহুরূপ ধারণ করতে পারিনা। আমার ছেলের বিয়েতে দলমত নির্বিশেষে সবাই এসেছিল, এটা রাজনীতি নয় সামাজিকতা।’’

‘‘আমিও সামাজিক শিষ্টাচারবোধ থেকেই অভিনন্দন জানিয়েছি। যদি গোপনে করতাম নিজের কাছেই নিজে ছোট হয়ে থাকতাম, তাই প্রকাশ্যেই ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে করেছি। একারণে যারা মর্মাহত হয়েছেন তাঁদের কাছে আমি ক্ষমা প্রার্থী। আপনাদের এই সেন্টিমেন্টকে আমি স্যালুট করি....।’’

সবশেষে আবারও একটি কথাই বলবো, নারায়ণগঞ্জ বিএনপি ও অংগসংগঠন এবং সকল নেতাকর্মীদের নিয়ে ঢালাও ভাবে অশোভন মন্তব্য করবেন না, আমার মত দুই চারজন দালালের জন্য এ জেলায় বা শহরে তারা যে দীর্ঘ লড়াই করছে বিএনপি’র রাজনীতির ইতিহাসে তা স্বর্নাক্ষরে লখা থাকবে। আমি যা করেছি তার শাস্তি আমাকেই দিন, ব্যাক্তির অপরাধে সকল নেতাকর্মী ও সংগঠনকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য না করাই বাঞ্ছনীয়।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর