rabbhaban

ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় : বিএনপি নেতা শিক্ষকের কলার চেপে টানা হেঁচড়


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:১০ পিএম, ১৩ অক্টোবর ২০১৯, রবিবার
ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় : বিএনপি নেতা শিক্ষকের কলার চেপে টানা হেঁচড়

একজন ছাত্রকে কেবল শিক্ষিতই নয় বরং ভালো মানুষ করে গড়ে তোলার গুরুদায়িত্বটাও থাকে শিক্ষকের ওপরই। এজন্য শিক্ষকেরা হয়ে থাকেন অনেক বেশি সচেতন, অনেক বেশি ধৈর্যশীল। আবার যারাই জীবনের উচ্চতর পর্যায়ে পৌঁছেছেন তারাও শিক্ষকের হাত ধরেই। আর সে জন্যই বাবা মায়ের পর শিক্ষককে সম্মান করতে বলা হয়। কিন্তু সেইরকম একজন শিক্ষককে কোন কারণ ছাড়া প্রকাশ্যে জনসম্মুখে লাঞ্ছিত করেছে একজন পুলিশ সদস্য। মার্জিত শার্টের কলার ধরে টেনে হেঁচড়ে নেওয়ার পর শাসানো হয়েছে। অকথ্য ও আপত্তিকর ভাষায় অপমান করা হচ্ছে। এমনই একটি ভিডিও দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় পুলিশের তীব্র সমালোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

১৩ অক্টোবরে রোববার বেলা ১১টা থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয় ভিডিওটি। আর ভিডিওটিতে দেখা যায় নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সেক্রেটারী মামুন মাহমুদকে শার্টের কলার ধরে টেনে হেঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশের একজন সদস্য। শুধু টেনে হেঁচড়ে নিয়েই ক্ষ্যান্ত হয়নি বরং অকথ্য ভাষায় তাকে শাসানো হয়েছে।

মামুন মাহমুদ একজন সম্ভ্রান্ত পরিবারের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতি করলেও মূলত তিনি একজন শিক্ষক। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার সোনারগাঁও কাজী ফজলুল হক উইমেন্স কলেজের অধ্যাপক। যার হাত ধরে অনেকেই জীবনে উচ্চ শিখরে পৌঁছেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও বিএনপির নেতারা জানান, সম্প্রতি ভারতের সঙ্গে আওয়ামীলীগ সরকারের করা চুক্তি দেশের স্বার্থবিরোধী উল্লেখ করে তা বাতিল ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেলা বিএনপির উদ্যোগে জনসমাবেশের আয়োজন করা হয়।

১৩ অক্টোবর রোববার সকালে পূর্বঘোষিত সময় অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রেস ক্লাবের গলিতে উপস্থিত হয়ে আশপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে। ১০ টা৫৫ মিনিটে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুন মাহমুদের নেতৃত্বে একত্রিত হওয়ার চেষ্টা করলে ব্যানার নিয়ে দাঁড়ানোর আগেই মুহূর্তেই হানা দেয় পুলিশ।

এক পর্যায়ে সদর থানার এসআই সাইফুল ও এএসআই সামছু মামুন মাহমুদের কলার ধরে টেনে হিচড়ে নিয়ে আসার চেষ্টা করে। এরপর কিছুটা সামনে নিয়ে এসে কলার ছেড়ে দিয়ে মামুন মাহমুদকে শাসাতে থাকে এসআই সাইফুল।

এসময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বলেন, এটা আমাদের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি আমাদের করতে হবে। ‘আপনাদের কি অনুমতি দিয়েছে?’ এসআইএর এমন জবাবে মামুন মাহমুদ বলেন, আপনারা আমাদেরকে ধরতেছেন কেন? আমি না বললে কর্মীরা কেউ করবে না। আপনারা (পুলিশ) করতে না দিলে আমরা করব না।

এরপর পুলিশ তাঁদেরকে যেতে দিলে ভাষা সৈনিক সড়কে এসে বিএনপির নেতাকর্মীরা একত্র হবার চেষ্টা করলে আবারো পুলিশ তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এরপর দুই ভাগ হয়ে চাষাঢ়ার দিকে এবং অর্ধেক গলাচিপার দিকে চলে যায়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিও কমেন্টে অনেকেই মন্তব্যে লিখেছেন, শিক্ষকের কলার ধরে টেনে হেঁচরে নেওয়ার লজ্জাজনক। যা শিক্ষক জাতির জন্য লজ্জার। এজন্য ওই পুলিশ সদস্যের শাস্তি হওয়া উচিত।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর