rabbhaban

নবীর জন্য পুলিশেরও মন কাঁদে,কিন্তু হাত পা বাঁধা : সালেহউদ্দিন


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৭:০৯ পিএম, ২২ অক্টোবর ২০১৯, মঙ্গলবার
নবীর জন্য পুলিশেরও মন কাঁদে,কিন্তু হাত পা বাঁধা : সালেহউদ্দিন

নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্রাফিক পুলিশের সিনিয়র এএসপি সালেহউদ্দিন আহমেদ ফেসবুকের স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘ভোলার ঘটনার পর কিছু সংখ্যক মানুষের প্রতিক্রিয়া দেখে মনে হচ্ছে পুলিশ সকল অপরাধের অপরাধী। মনে হচ্ছে পুলিশ মহানবীকে নিয়ে কটূক্তি করেছে। পুলিশ অপরাধীদের বাঁচানোর চেষ্টা করছে। পুলিশ এ ঘটনার জন্ম দিয়েছে। পুলিশ চারজন নিরপরাধ মানুষকে শুধু শুধু হত্যা করেছে।’

২২ অক্টোবর মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় দেওয়া স্ট্যাটাসে তিনি আরো লিখেন, ‘আসলে বাংলাদেশের মতো আর্থসামাজিক অবস্থার একটি দেশে পুলিশিং করা খুবই কঠিন ও জটিল। বাংলাদেশ মুসলিম সংখ্যাগুরু একটি দেশ। এছাড়াও এদেশে নাগরিক হিসেবে আছেন হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান সহ অন্যান্য ধর্মাবলম্বী মানুষ। দেশের উপর সকলের অধিকার সমান। সা¤প্রদায়িক স¤প্রীতি এদেশে চমৎকার। তবে মাঝে মাঝে বিভিন্ন কারণে অকারণে ধৈর্যচ্যুতির অভাবে বড় বড় অঘটন ঘটে যায়।’

‘বাংলাদেশ পুলিশের অধিকাংশ সদস্যও মুসলিম ধর্মাবলম্বী প্রিয় নবীর অপমানে তাদের ও অন্তর কাঁদে। তাদের ও প্রতিশোধ নিতে মন চায়, কিন্তু পারে না। কারণ তাদের হাত পা বাঁধা। তারা আইনের চাকরি করে। তারা আইন জানে ও মানে। তারা কাউকে মারতে চায়না, গুলি করতে চায়না এরপর ও চারজন মৃত্যুবরণ করেছে। এজন্য আমি নিজেও অনুতপ্ত। অনুশোচনায় দগ্ধ হচ্ছি প্রতিনিয়ত।

একইভাবে আমাদের প্রিয় নবীকে অন্য ধর্মের বয়োজ্যেষ্ঠ লোকজন ও শ্রদ্ধা করে সম্মান করে। তদ্রুপ বয়োজ্যেষ্ঠ মুসলমান স¤প্রদায়ের লোকজন ও অন্য ধর্মের ধর্ম পালনে কোনদিন বাধা দান করেনি। এটাই হলো স¤প্রীতি।

মাঝে মাঝে সমস্যাগুলো কেন হয়? দেখা গেল উঠতি বয়সের কিছু পোলাপান হয় হিন্দু নয় মুসলিম এসব ঝামেলার সৃষ্টি করে। তাদের কারণে আমরা বড়রাও ঝামেলায় জড়িয়ে যাই। আবেগের তাড়নায় কি করি নিজেও জানি না। আমাদের তো প্রতিবাদ করার কথা, বেআইনী সমাবেশে যোগদান করার কথা নয়।

প্রতিবাদের ভাষা হতে পারে কালো ব্যাজ ধারণ। হতে পারে মানববন্ধন। হতে পারে স্মারকলিপি প্রদান। প্রতিবাদ সমাবেশ না করাই উত্তম কারণ প্রতিবাদ সমাবেশ যে কোন সময় বেআইনী সমাবেশে রূপ লাভ করতে পারে। প্রতিবাদ সমাবেশের নিয়ন্ত্রণ সব সময় নেতৃবৃন্দের হাতে থাকে না। বিক্ষুব্ধ জনতা বলতে কোন শব্দ আইনে নেই। বিক্ষুব্ধ জনতা মানেই বেআইনী সমাবেশ।

মসজিদে হামলা মাদ্রাসায় হামলা মন্দিরে হামলা গীর্জায় হামলা পেগোডায় হামলা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপর এসব জঘন্যতম কাজ। আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ। এসব কাজ থেকে আমাদের বিরত থাকতে হবে। মনে করতে হবে আমাদের হাত পা বাধা।

তৃতীয় শক্তি থেকেও সাবধানে থাকতে হবে। এরা রাজাকার আলবদরদের দোষর এরা সব সময়-ই চায় একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে এবং ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে। যেটি হয়েছে ভোলা জেলায়।

ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে গুলি করলেও সমস্ত ক্ষোভ পুলিশের বিরুদ্ধে কারণ পুলিশই সরকারের দৃশ্যমান প্রতিনিধিত্ব করে থাকে। গুলি না করলেও বিপদ তখন সবাই বলবে এতোগুলো অফিসার কে জনতা পিটিয়ে মারলো অস্ত্র থাকার পরও তারা ভীতুর মতো তার ব্যাবহার করেনি। এমন পুলিশ কে বেতন দিয়ে রেখে লাভ কি?

যাই হোক আমাদের সকলকে সহনশীল ও ধৈর্যশীল হতে হবে। চিলে কান নিয়ে গেছে বলে না দৌড়ে কানে হাত দিয়ে যাচাই বাচাই করতে হবে। আমাদের সভ্য জাতি হিসাবে আত্মপ্রকাশ করতে শিক্ষা সহনশীলতা ও ধৈর্যশীলতার পরিচয় দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর