ফেসবুকে অভিনব কায়দায় প্রতারণায় অর্থ আদায়


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:৩৬ পিএম, ২২ নভেম্বর ২০১৯, শুক্রবার
ফেসবুকে অভিনব কায়দায় প্রতারণায় অর্থ আদায়

‘দাদা/ভাই কই আপনি, দ্রুত রকেটে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা পাঠাবেন এখনই? খুব উপকার হবে আর কোন সমস্যা নাই কাল সকালেই দিয়ে দিবো।’

পরিচিত লোকদের কাছে ফেসবুকে ম্যাসেঞ্জারে এমন ক্ষুধে বার্তা পাঠিয়ে মানুষদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি প্রতারক চক্র।

এমনই একটি ঘটনা ঘটিয়েছে প্রতারক চক্রটি ২১ নভেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার তনয় সাহার ফেসবুক আইডি হ্যাক করে। তাঁর পরিচিত, বন্ধু, আত্মীয় স্বজন সহ ফেসবুক বন্ধুদের সঙ্গে। প্রত্যেককেই টাকা চেয়ে ম্যাসেজ পাঠানো হয়েছে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে ফতুল্লা মডেল থানায় সাধারণ ডায়রী (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী ডাক্তার তনয় সাহা। জিডি নং-১২১৫।

জিডির বরাত দিয়ে তনয় সাহা বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা ‘তনয় সাহা’ নামে ফেসবুক আইডি হ্যাক করে পরিচিত অপরিচিত বিভিন্ন মানুষের কাছে টাকা চায়। পরে বিষয়টি জানতে পেরে আমার ফেসবুকে প্রবেশ করতে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি। অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা আমার আইডি দিয়ে আমার ও আমার পরিচিত অপরিচিত লোকজনের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে এমনটা আশঙ্কা করছি। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। যার জন্য থানায় জিডি করেছি।’

তনয় সাহা আরো বলেন, ‘আমার পরিচিত যাদের কাছে টাকা চাওয়া হয়েছে তারা কেউ কোন টাকা দেয়নি। বিষয়টি সর্তক করার জন্য আমার পরিচিতদের মাধ্যমে আইডিটি হ্যাক হয়েছে জানিয়ে পোস্ট দেওয়ার জন্য বলি। তারা পোস্টও করেছে। আমি সকলের প্রতি অনুরোধ যাতে কেউ টাকা না দেয়। আমার কোন সমস্যা হয়নি। আমার কোন টাকার প্রয়োজন নেই। প্রতারক চক্রটি মানুষের সঙ্গে এমন প্রতারণা করছে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ‘মোবাইল ফোন চুরি কিংবা ফেসবুক আইডি পাসওয়ার্ড হ্যাক করে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে চলেছে একটি প্রত্যারক চক্র। এর আগেও বিভিন্ন জনের সঙ্গে একই ভাবে প্রতারণ করে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এ বিষয়ে থানায় জিডি করা হলেও এসব প্রতারকরা রয়ে যাচ্ছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে।’

ভুক্তভোগী ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘আমার ফেসবুকে পরিচিত এক বন্ধুর মেসেঞ্জার থেকে ১০০ টাকা বিকাশ করার জন্য অনুরোধ করা হয়। তাও বলা হয় বিপদে পড়েছেন সেজন্য তাও পরদিন ফের দিয়ে দিবেন। ১০০ টাকা তেমন কোন বড় অংক নয় সেজন্য আমি দেই। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি আইডিটি হ্যাক হয়েছিল। একই ভাবে ১০০ টাকা করে ২ থেকে ৩ হাজার ফেসবুক বন্ধুর কাছ থেকে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘শুধু এটা নয় এমনও শোনেছি মোবাইল নাম্বার ক্লোন করে সরকারি কর্মকর্তাদের নাম বলেও টাকা নেওয়া হয়। বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে। আড়াইহাজারের নির্বাহী কর্মকর্তার নাম দিয়েও এমনটা হয়েছিল। এছাড়াও মোবাইল নাম্বার ক্লোন করে পরিবারের নাম্বারে ফোন দিয়ে বলা হয় আপনার সন্তান, বাবা, আত্মীয় স্বজন দুর্ঘটনায় আহত হাসপাতালে ভর্তি টাকা প্রয়োজন। জরুরী টাকা পাঠান। টাকা পাঠানোর পর দেখা যায় আসলে এটা প্রতারকদের ফাঁদ ও প্রতারণা। এভাবে অভিনব কায়দায় প্রতারণা করে চলেছে প্রতারকরা। এদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর