সাবেক ছাত্রদল নেতা রাজীবকে জবাব দিলেন ছাত্রলীগ সভাপতি


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:০৬ পিএম, ০৪ মার্চ ২০২০, বুধবার
সাবেক ছাত্রদল নেতা রাজীবকে জবাব দিলেন ছাত্রলীগ সভাপতি

নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীবের দেওয়া একটি স্ট্যাটাসের পাল্টা জবাব এসেছে মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদের কাছ থেকে।

৩ মার্চ রাতে ফেসবুক রাজীবের দেওয়া স্ট্যাটাসের বিষয়বস্তু ছিল মূলত অস্ত্র নিয়ে এমপি শামীম ওসমানের দেওয়া বক্তব্য। পরদিন ৪ মার্চ হাবিবুর রহমান রিয়াদ ওই বক্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানান ফেসবুক। দুই ছাত্রনেতার এ পাল্টাপাল্টি স্ট্যাটাস নিয়ে রীতিমত তোলপাড় চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

হাবিবুর রহমান রিয়াদ লিখেছেন, ‘১৯৭৫ সালে জাতির জনক কে হত্যার পরে মাদক, অস্ত্র, সন্ত্রাস, গ্রেনেড হামলার ত্রাস তৈরি করেছিল বিএনপি। ১৯৯১ সাল থেকে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের কেউ বাসা থেকে বের হতে পারতোনা। এলাকায় আসতে পারতো না বিএনপির সন্ত্রাসীদের কারণে। নারায়ণগঞ্জে অস্ত্রের রাজনীতি শুরু করেছিল বিএনপি, রাজিব গং। জননেতা একেএম শামীম ওসমান সরকারী তোলারাম কলেজের শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীদের নিয়ে এসব সন্ত্রাসীদের মোকাবেলা করেছেন। তখন সাধারণ মানুষ স্লোগান দিত ‘বিএনপির ৫ এমপির দুলাভাই শামীম ভাই শামীম ভাই।’

বিএনপির সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কথা বলায় ২০০১ সালে বিএনপির মদদে চাষাঢ়া আওয়ামীলীগ অফিসে আরডিএক্স গ্রেনেড হামলা, ২০০৪ সালে আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলাই প্রমাণ করে বিএনপি কত বড় সন্ত্রাসী দল। এতে প্রাণ দিয়েছে অনেক মানুষ। বিএনপির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাবর, তারেক রহমান ছিলেন শীর্ষ সন্ত্রাসী ও গ্রেনেড হামলা মামলার মূল আসামী।

‘‘রাজিব হচ্ছেন ওই দলের নেতা তার ইতিহাস সবাই জানে। ২০০১-০৫ সাল তোলারাম কলেজে করেছিল মাদক, ধর্ষণ, ছাত্রছাত্রীদের নির্যাতন, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসীদের আড্ডাখানা এসব অপকর্মের মূল হোতা ছিলেন রাজিব। বছরখানেক আগে ডিবির হাতে মাদকদ্রব্য ও ফেনসিডিল নিয়ে গ্রেফতার হয়ে জেল খাটেন। শহরে অনেকেই জানে মাদক ও ফেন্সিডিল তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। এখন তিনি খুব সুশীল কথা বলেন ব্যাপারটা হাস্যকর। রাজিব সাহেবদের অপকর্মের ফাইল খুললে হয়তো শহরে আর থাকা হবে না। আপনাদের অপকর্ম কলেজের শিক্ষার্থীরা ভুলেনি। তাই আউট।’’

শামীম ওসমান এমপি মহোদয় বুঝিয়েছেন সেইসব সন্ত্রাসীদের মোকাবেলা করে একটি শান্তিময় নারায়ণগঞ্জ গড়ে তুলেছি। আর সাবেক সন্ত্রাসী ছাত্রদল নেতা তার ভুল ব্যাখ্যায় মেতে উঠেছেন। তাদের দলের এটাই মূল শিক্ষা সেটা হল মিথ্যাচার।

এর আগেরদিন নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। এতে তিনি এমপি শামীম ওসমানকে ইঙ্গিত করে নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন।

এতে তিনি লিখেছেন, ‘গত কয়েকদিন ধরেই মাননীয় এক সংসদ সদস্যের অস্ত্র নিয়ে একটি বক্তব্য বেশ আলোচিত সমালোচিত হচ্ছে। উনি বলেছিলেন উনার কাছে যতোগুলো অস্ত্র ছিল পুলিশের কাছেও ছিলনা। তারপর উনি সেগুলো ২০০১ সালে পরে সংশোধন করে বলেছেন ৯১ সালে। সে সময়ের পুলিশ সুপারের কাছে জমা দিয়েছেন। আজ এক সংবাদমাধ্যমে দেখলাম উনি অস্ত্র ভান্ডার বলতে বিশাল কর্মী বাহিনীকে বুঝিয়েছেন তাহলে ঐ সময়ে কি জমা দিয়েছিলেন অস্ত্র না কর্মীবাহিনী?’

‘‘আসলে সত্য অনেক সময় নিজের অজান্তেই বের হয়ে যায় কারণ সত্য যতই নির্মম হউক না কেন সেটা সবসময়ই সুন্দর। আমার মতে উনি ওই অনুষ্ঠানে যে বক্তব্য দিয়েছেন এবং ২০০১ সাল উল্লেখ করেছেন পুরোটাই সত্যি কারণ ২০০১ সালের পর অস্ত্রের রাজনীতি করার আর সুযোগ ছিলনা।’’

‘‘এটা অস্বীকার করার কোন সুযোগ নেই যে একসময় নারায়ণগঞ্জ সহ সারাদেশেই অস্ত্রের রাজনীতির রেওয়াজ ছিল। আমি নিজে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলাম ১৯৯৯ সালে। তখন মিনিমাম ৩০/৪০ জন অস্ত্রধারী আমাকে ঘিরে গুলি করেছিল। ৯১ ও ৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত আতংকের নগরী ছিল নারায়ণগঞ্জ। এ অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে দেশনেত্রীর ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষে দলমত নির্বিশেষে অস্ত্রের রাজনীতি বন্ধের জন্য উনি ছিলেন কঠোর এবং বদ্ধপরিকর। পরবর্তীতে র‌্যাব তৈরী করে পুরোপুরি নির্মূল করেছিলেন যার ধারাবাহিকতা আজো অনেকাংশে বিদ্যমান। মানুষ এবং তার মানুষিকতা পরিবর্তনশীল।’’

‘‘৯৬ থেকে ২০০১ এই সাংসদের শাসনামলের সাথে যদি ২০০৮ থেকে অদ্যাবধি শাসনামলের বা বিরোধী দলের নেতা কর্মীদের প্রতি আচরণের তুলনা করা হয় (পুলিশ ব্যতিত)তাহলে আমার দৃষ্টিতে সেটা আকাশ পাতালের মত পার্থক্য মনে হবে।’’

‘২০০৮ এর পর আজ অবধি উনার বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আচরণ ছিল সৌহার্দ্যপূর্ন হয়তো আল্লাহর উপর অবিচল আস্থা বিশ্বাস বেড়ে যাওয়ার কারণে। তাই সত্য স্বীকার করা এবং বলার সাহস সব রাজনীতিবিদের মাঝে তৈরী হোক এটাই প্রত্যাশা। সবশেষে সত্য স্বীকার করা আর এখন আল্লাহর উপর অনেক আস্থা রাখেন এই কথা বলার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।’’

১ মার্চ নারায়ণগঞ্জ শহরের মাসদাইর পুলিশ লাইনসে জেলা পুলিশের আয়োজনে ‘পুলিশ মেমোরিয়াল ডে-২০২০’ আলোচনা সভায় দীর্ঘ বক্তব্য দিতে গিয়ে এক পর্যায়ে শামীম ওসমান বলেন, ‘আমি একটা কথা বলতে চাই ইদানিং ওয়াজে যাই অনেকে টিটকারী করে। ২ বেলা কোরআন শরীফ পড়ি। ২২ বছর ধরে তাহাজ্জুদ ছাড়ি নাই। ২০০১ এর আগের শামীম অন্যরকম ছিল। আপনার (পুলিশ সুপারকে উদ্দেশ্য করে) টোটাল ফোর্সের কাছ যা অস্ত্র ছিল তার চেয়ে বেশী আমার কাছে অস্ত্র ছিল। কিন্তু আজকে আমার গাড়িতেও অস্ত্র ছিল কি না জানি না। ২০০১ সালের আগের আমার রাজনৈতিক দর্শন আগে ছিল একরকম। জিন্দাবাদ শুনতে ভালো লাগতো। তখন আমার কাছে যে অস্ত্র ছিল আপনার ফোর্সের কাছেও ২০০১ সালের পরে আমার এই চিন্তা পরিবর্তন হয়েছে।’

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর