ইউনাইটেড ক্লাবে ত্রিরত্মে চলতো জুয়া!


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:৩৮ পিএম, ০৫ অক্টোবর ২০১৯, শনিবার
ইউনাইটেড ক্লাবে ত্রিরত্মে চলতো জুয়া!

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় দ্যা ইউনাইটেড অ্যাসোসিয়েশন (ইউনাইটেড ক্লাব হিসেবে পরিচিত) এ অভিযান পরিচালনার পর বিষয়টি এখন টক অব দ্যা টাউনে পরিণত হয়েছে। তবে এলাকাবাসী জানিয়েছে অভিজাত এ ক্লাবে জুয়ার পেছনে মূলত কাজ করতো ত্রিরত্ম। তাদের মধ্যে একজন প্রভাবশালী ইউপি চেয়ারম্যান আছে। বৃহস্পতিবার ৩ অক্টোবর রাতে অভিযানের কিছু সময় আগে তিনি সরে যান।

এছাড়া স্থানীয় দুইজন প্রভাবশালী ব্যক্তিও এ জুয়া চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাদের কারণেই মূলত ক্লাবের ভেতরে বিভিন্ন নামে বিভিন্ন কক্ষ নির্মাণ করা হয়। আধুনিক পরিসরে নির্মিত এসব রুমেই চলতো ভিআইপি জুয়া।

বৃহস্পতিবার রাতে ডিবির অভিযানের পরে বিষয়টি নিয়ে হৈ চৈ শুরু হয়। অন্য অভিযানের পরেই পুলিশের পক্ষে দ্রুত সংবাদ মাধ্যমকে খবর সরবরাহ করা হলেও সেটা প্রকাশ করতে কিছুটা গড়িমসি করে পুলিশ। বিকেলে পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ওই সময়ে খবর রটে যায়, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে আটককৃতরা মুক্তির চেষ্টা করেন। কয়েকজনের মাধ্যমে পুলিশের সঙ্গে আপোষেরও চেষ্টা করেন। আর এর মধ্যে স্থানীয় একজন বিশেষ পেশার লোকও ছিলেন। কিন্তু শেষতক পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ কোনভাবেই জুয়ার সঙ্গে আপোষ চলবে না সাফ জানালে ৭ জনের নাম প্রকাশ করা হয়।

বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেপ্তারের পর শুক্রবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আফতাবুজ্জামানের আদালতে শুনানী শেষে ২০০ টাকা জরিমানা অনাদায়ে সাজা প্রদান করেন। পরে প্রত্যেতে ২০০ টাকা জরিমানা দিয়ে মুক্তি পান।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন ক্লাবের সভাপতি ফতুল্লার ধর্মগঞ্জ এলাকার মৃত আব্দুল মজিদ মিয়ার ছেলে তোফাজ্জল হোসেন তাপু (৫৫), মৃত এম এ কুদ্দুসের ছেলে ইকবাল হোসেন (৫৬), আবুল হাসেমের ছেলে কামাল হোসেন (৪৯), আজমেরীবাগ এলাকার মৃত আব্দুল হাইয়ের ছেলে শামসুজ্জামান (৪০), চাষাঢ়ার মার্ক টাওয়ার এলাকার মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান (৫২), পঞ্চবটির মৃত ওবায়দুল হক ভূইয়ার ছেলে এবিএম শফিকুল ইসলাম (৫০), ঢাকার কেরানীগঞ্জের কাজিরগাঁও এলাকার মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে আফজাল হোসেন (৪০)।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক সাজ্জাদ রোমন জানান, অভিযান চালিয়ে জুয়া খেলার সময় তাদেরকে গ্রেফতারের পর মামলা দায়ের করে শুক্রবার বিকেলে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অভিযান চালানো ডিবির কর্মকর্তারা জানান, ক্লাবের ভেতরে কয়েকটি ভিআইপি রুম আছে। সেখানে সকলের প্রবেশ করতে নিষেধাজ্ঞা আছে। বিশেষ কার্ড পান্স করেই ভেতরে প্রবেশ করতে হয়। রাতে ক্লাবের মূল ফটক তালা মারা থাকে। নিচতলায় কমিউনিটি সেন্টার আছে। সেখানে বিয়ের অনুষ্ঠানের বুকিং দেওয়ার কথা বলে ডিবি কর্মকর্তারা ভেতরে প্রবেশ করে।

সেখান থেকে ৭ জুয়ারী গ্রেফতারের পর মামলা দায়ের করে তাদেরকে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। এর পর থেকেই ক্লাবটি আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ক্লাবটির ভেতরে পা রাখলেই চোখ কপালে উঠে যাওয়ার উপক্রম হরে যে কারো। কারণ ভেতরে প্রবেশ করতেই বিলাসবহুল ও আভিজাত্যের চিত্র ফুটে উঠে।

জানাগেছে, ১৯৫৩ সালে শুরু হওয়ার এই ক্লাবটির ভেতরে রয়েছে আলিসান ব্যবস্থা। ভেতরে প্রত্যেকটি কোনে রয়েছে বিলাসিতা ও আভিজাত্যের ছোয়া যা যে কারো মন কাড়তে সক্ষম হবে। এর মধ্যে অনেকগুলো ভিআইপি কক্ষ রয়েছে।

শুরুতে সভা কক্ষ থাকলেও ভেতরে প্রবেশ করতেই ভিআইপি কক্ষগুলোতে মনোমুগ্ধকর ইন্টোরিয়র ডিজাইন করা সুসজ্জিত করা হয়েছে। দেয়ালে রয়েছে ওয়ালমেট সহ দামি দামি ছবি যা ঘরের শোভা আরো কয়েকগুণ বাড়িয়েছে।

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এসব কক্ষে গোল রাউন্ড করা টেবিলও রয়েছে। তবে এসব টেবিল কি কাজে ব্যবহৃত তা জানা যায়নি। ভিআইপি কক্ষে দামি দামি সোফা, এলিডি টিভি, ফ্রিজ সহ নানা আসবাবপত্র রয়েছে। এছাড়া ভিআইপি কক্ষের পাশে বিলিয়ার্ড খেলার বোর্ড ও জিম করার জন্য সুব্যবস্থা রয়েছে।

এছাড়া হাসনাহেনা, জবা, গোলাপ সহ বিভিন্ন ফুলের নামে কয়েকটি কক্ষ রয়েছে। এসব কক্ষের নাম নিয়ে আগুন্তকদের মাঝে বেশ কৌতুহল রয়েছে। তবে এ কক্ষগুলোতে কোন ধরনের অনৈতিক কর্মকা- চলে কিনা তা নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে।
তবে ক্লাবটির বাইরে থেকে দেখে ভেতরের বিলাসবহুল চিত্র সম্পর্কে কারো বোঝার জো নেই। কারণ বাইরে থেকে ক্লাবের গেটের ভেতরে প্রবেশ করতেই মাত্র দ্বিতল বিশিষ্ট একটি ভবনের ভেতরের বিশাল অবস্থার ব্যাপারটি ধারণা করাও সম্ভব নয়। যেকারণে ক্লাবের ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতেই বিলাসিতার ছোয়া দেখে চোখ কপালে উঠে যাওয়ার মত অবস্থা তৈরি হবে। এছাড়াও ক্লাবের প্রেসিডেন্ট সহ বিভিন্ন কর্মকর্তাদের নামে বিভিন্ন কক্ষ বরাদ্দ করা আছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর