নাগিন ড্যান্স খ্যাত নারায়ণগঞ্জের ক্রিকেটার অপু করোনায় আক্রান্ত


খবর : জাগো নিউজের। | প্রকাশিত: ০৭:৫৯ পিএম, ২০ জুন ২০২০, শনিবার
নাগিন ড্যান্স খ্যাত নারায়ণগঞ্জের ক্রিকেটার অপু করোনায় আক্রান্ত

নাফিস ইকবাল এবং মাশরাফির পর এবার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাজমুল ইসলাম অপু। ২০ জুন শনিবার মিডিয়াকে তিনি নিজেই জানিয়েছেন এ সংবাদ। খবর : জাগো নিউজের।

একদিনেই একে একে এলো তিন ক্রিকেটারের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর। প্রথমে এসেছিল বাংলাদেশ দলের সাবেক ওপেনার এবং তামিম ইকবালের বড় ভাই নাফিস ইকবাল করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর।

এরপর দুপুর গড়াতেই খবর চাউর হলো সাবেক অধিনায়ক এবং বর্তমান সাংসদ মাশরাফি বিন মর্তুজা আক্রান্ত। সন্ধ্যা নামতে না নামতেই খবর এলো বর্তমান দলের ক্রিকেটার, বাঁ-হাতি অর্থোডক্স স্পিনার নাজমুল ইসলাম অপুও করোনায় আক্রান্ত।

ইসলাম অপু জানিয়েছেন, তিনি নিজের বাসায়ই চিকিৎসা নিচ্ছেন। অপু বলেন, ‘গত সপ্তাহে ত্রাণ দিতে নরসিংদী গিয়েছিলাম। ওখান থেকে আসার পর শরীর খারাপ লাগছিল। বুধবার করোনা পরীক্ষা করিয়েছি। আজ দুপুরেই রেজাল্ট পেয়েছি। পজিটিভ এসেছে। এখন বাসায় আলাদা রুমে আছি।’

বাংলাদেশ ক্রিকেটে নাগিন ড্যান্সের জন্য বিখ্যাত হয়ে আছেন এই বাঁ-হাতি অর্থোডক্স স্পিনার। ক্যারিয়ারে বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে এখন পর্যন্ত ১টি টেস্ট, ৫টি ওয়ানডে এবং ১৩টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন অপু। ১ টেস্টে নিয়েছেন ৪ উইকেট, ৫ ওয়ানডেতে ৫ উইকেট এবং ১৩ টি-টোয়েন্টিতে নিয়েছেন ৮ উইকেট।

প্রসঙ্গত করোনাভাইরাসের কারণে সারা দেশ লকডাউন করা হলেও, ঘরবন্দি না থেকে অসহায় মানুষের জন্য নিজেকে সপে দিয়েছেন ক্রিকেটার নাজমুল ইসলাম অপু। নিজ এলাকা নারায়ণগঞ্জে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে প্রচারণা এবং খাদ্য সামগ্রী সহযোগিতায় নিজেকে নিয়োগ করেছেন তিনি। এর পেছনে তাকে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করছেন তামিম ইকবাল।

দেশে করোনা পরিস্থিতির অবনতি হলে গত ১৬ মার্চ ঢাকা প্রিমিয়ার লীগের খেলা স্থগিত করা হয়। নাজমুল ইসলাম অপু ১৮ মার্চ চলে আসেন নিজ বাড়িতে। ঘরবন্দি থেকে অনেকটা হাঁপিয়ে উঠে এলাকার মানুষদের নানা দুর্দশার চিত্র দেখে সিদ্ধান্ত নেন তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়াবার। স্থানীয় সামাজিক সেবামূলক সংগঠন সোনালী সংসদের সাথে যুক্ত হয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করেন তিনি। জাতীয় দলের অধিনায়ক তামিম ইকবালের শরনাপন্ন হন।

অপ্রত্যাশিত সাড়া মেলে অধিনায়কের কাছ থেকে। তামিম ইকবালের আর্থিক সহায়তাকে পুঁজি করে এবং নিজের ব্যক্তিগত তহবিল যুক্ত করে নেমে পড়েন মানুষের সেবায়। আর্থিকভাবে সাধ্যমতো সহযোগিতা করেন স্বেচ্ছাসেবক দলটির তরুণ সদস্যরাও। নানা প্রস্তুতি শেষ করে অপুর নেতৃত্বে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ৫ এপ্রিল থেকে শুরু হয় তাদের সেবামূলক কার্যক্রম।

এ পর্যন্ত বন্দর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ও সিটি কর্পোরেশন এলাকার ২৫টি গ্রামে এসব খাদ্যসহায়তা দিয়েছেন ১৭শ’ পরিবারকে। রমজান মাস শুরু হলে আরো ১৮শ’ পরিবারকে দেন ইফতার সামগ্রী। এই সাড়ে তিন হাজার পরিবারকে পর্যায়ক্রমে কয়েক ধাপে খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন। উপহার হিসেবে দিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারকেও। দফায় দফায় পাঠিয়েছেন আর্থিক সহায়তাও।

নাজমুল ইসলাম অপু বলেন, মানুষ মানুষের জন্যই। এটা আমরা উপভোগও করছি আবার গর্ব বোধ করি। তবে মাঝে মাঝে খারাপ লাগে আমার পরিবার উপরে থাকে আর আমি নিচে থাকি। বাচ্চা কান্নাকরে কিন্তু কাছে যেতে পারি না।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর