রোগী ভর্তি করিয়ে নফল নামাজ পড়েন শামীম ওসমান : লিপি


স্টাফ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:৪৪ পিএম, ১১ জুলাই ২০২০, শনিবার
রোগী ভর্তি করিয়ে নফল নামাজ পড়েন শামীম ওসমান : লিপি

নারায়ণগঞ্জ মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান ও এমপি শামীম ওসমানের স্ত্রী সালমা ওসমান লিপি বলেছেন, ‘আমি যেভাবে আছি সেভাবেই করতে চাই। কোন পদ পদবির জন্য না। আমি আদর্শের দিক থেকে নৌকাতে উঠেই আছি। এখানে থেকে যতটুকু জনগণের পাশে থাকা যায় সেবা করা যায় আমি করব। এবং এটা শুধুমাত্র মানবিকতার কারণে। বর্তমান কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়ে আর কোন ইচ্ছা নাই।’

তিনি বলেন, ‘করোনার সময় যেটা করছি সেটি একটি পরিচয় থেকেই করছি যেটা হচ্ছে মানবিকতা, মানুষ্যত্বের ব্যাপারটি থেকে। দ্বিতীয় কথা হচ্ছে বাংলাদেশের যেখানে যখনি কোনো দুর্যোগ এসেছে। আমার ক্ষুদ্র প্রয়াসে অংশগ্রহণের চেষ্টা করেছি। নারায়ণগঞ্জে তো অবশ্যই করেছি। যতটুকু করা যায় চেষ্টা করেছি। করোনার এই ইমার্জেন্সি সময় কিছু করব এটা কোনো পদে থেকে না। আমি মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান বা আমি কোনো সাংসদের স্ত্রী এসব পদবি থেকে নয়। আমি মানুষ এটাই আমার প্রথম পরিচয়। এই পরিচয় থেকেই আমি করেছি।’

৯ জুলাই বৃহস্পতিবার রাত ১০ টায় নিউজ নারায়ণগঞ্জের লাইভ টকশো ‘করোনায় ঘরে বাইরে ও নারীদের ভূমিকা’ অনুষ্ঠানে লিপি এসব কথা বলেন।

এসময় অতিথি হিসেবে আরো যুক্ত ছিলেন আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সাংসদ নজরুল ইসলাম বাবুর সহধর্মিনী ডা. সায়মা আফরোজ ইভা।

লিপি বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ইলেকশনে হোকে, মিটিং কিংবা সহায়তা হোক বা দেখা করার জন্যই হোক আমি চেষ্টা করি জনগনের পাশে যাওয়ার জন্য। বহুবার গিয়েছি। তখন একটি দায়বদ্ধতা তৈরী হয় যে তাঁদের পাশে সব সময় থাকতে হবে শুধু ইলেকশনের সময় নয়।’

এমপি শামীম ওসমান সম্পর্কে স্ত্রী সালমা ওসমান লিপি বলেন, ‘স্বামী হিসেবে নয় একজন নাগরিক হিসেবে বলতে চাই। আমি দেখতে পাচ্ছি ২৪ ঘণ্টা। শামীম সাহেব অসম্ভব ধার্মিক একজন মানুষ। যে সময়টায় উনি বাসায় থাকছেন নামাজ শেষ করে প্রতিদিন দুইবেলা কোরআন শরীফ পড়েন। অনেক নফল নামাজ পড়েন। ওনার একটি বিষয় আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে যে উনার কাছে অনেক রিকোয়েস্ট আসে যারা একটু বেশি অসুস্থ তাঁরা কোনো হাসপাতালের আইসিইউ এর জন্য বা চিকিৎসার জন্য। আমাকেও ফোন করেন অনেকে। এমনও হয়েছে যে রাত ৩ টার সময় কল এসেছে। ওনি যখন কোনো রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে পারেন তখন সাথে সাথে ২ রাকাত নফল নামাজ পড়েন। আমি একবার জিজ্ঞেস করেছিলাম যে কেন? বলল যে, ‘আমি শোকরানা হিসেবে করি। এবং যে রোগীকে ভর্তি করালাম তাঁর নেক হায়াতের জন্য।’

লিপি ওসমান আরো বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে কিছুদিন আগে বড় সমস্যা যেটি চলছিল যে জলাবদ্ধতা। এমনিতেই করোনা তার মধ্যে জলাবদ্ধতা। আমার কাছে ছবি ভিডিও আসছিল মানুষের কি কষ্ট। তখন শামীম সাহেব সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করলেন। মানুষ দুই দিনেই এই জলাবদ্ধতার কষ্ট থেকে বাঁচলো। এছাড়া করোনার সময় আইসিইউ আনার জন্য উনি যে দৌড়ঝাপ করেছেন। আল্লাহর রহমতে প্রধানমন্ত্রী আমাদের সব চাহিদা পূরণ করেছেন। সেলিম ভাইয়েরও বড় ভূমিকা ছিল। ওনারা আরো দ্রুত করোনা মোকাবিলায় কাজ করার জন্য ব্যক্তিগতভাবে গাড়ি, থাকা-খাওয়া দিয়ে সহায়তা করেছেন। এই যে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এগুলো ভোটের জন্য নয়। শুধুমাত্র মানুষের সেবা করার জন্য। এবং তাঁদের মানবতা থেকে দায়িত্ববোধ থেকে।’

তিনি বলেন, ‘ডা. জাহিদ আমাকে সেদিন বললেন যে এখন নারায়ণগঞ্জে আমরা আইসিইউ পেয়ে গেছি। এখন নারায়ণগঞ্জে বাইরের পেশেন্ট এসেও আইসিইউতে ভর্তি হচ্ছেন। ঢাকা, লক্ষীপুর, নরসিংদির পেশেন্ট এসেছেন। তাঁরা সুযোগ পাচ্ছেন ভর্তি হওয়ার। এটি আমাদের জন্য গুড নিউজ এবং অনেক বড় ব্যাপার।’

লিপি ওসমান বলেন, ‘একটি এলাকায় যখন অনেক ভালো কাজ করতে যাই তখন সমন্বয়ের প্রয়োজন। যেখান সমন্বয় হবে সেখানে কাজ দৃঢ় হবে। আমার মনে হয় সমন্বয় ছাড়া কাজ হচ্ছে না তা নয়। যে যার অবস্থানে থেকে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছে। তবে সমন্বয় থাকলে আরো ভালোভাবে কাজ হতো। এক টেবিলে বসে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করলে হয়তো আরো বেশি সুন্দর হতো। আরো বেশি ভালো হতো।’

তিনি বলেন, ‘ইভা একজন ডাক্তার। বিষেশ করে ওকে বলছি যে এখন ডাক্তারের সাথে সাধারণ মানুষের যে সম্পর্ক হয়েছে আমি ফিল করি, আমি নারায়ণগঞ্জকে দিয়ে ইভাকে সাথে রেখে বলতে চাই মনে হচ্ছে একটি পরিবার। একজন রোগী আসলো কোনো হেজিটেশন ছাড়া রাত ২টা হোক ৩টা হোক যখনি হোক ডাক্তারকে ফোন করছি। সে ক্ষেত্রে আমি জানি যে ডাক্তার হিসেবে ইভা কাজ করছে। আমি জানি যে কতটা রিস্ক নিয়ে জীবণের পাত্তা না দিয়ে জনগনকে সেবা দিচ্ছেন। নারায়ণগঞ্জে ডা. জাহিদ আছেন। তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়েও উনি ভার্চুয়াল সার্ভিস দিয়েছেন এবং সাহস যুগিয়েছেন। সিভিল সার্জন, এবং ৩০০ শয্যা হাসপাতালের ডাক্তার যারা রয়েছেন তাঁরা সবাই হেল্পফুল।’

লিপি ওসমান বলেন, ‘করোনার মধ্যে পরিবারের সবাই আমার কাজে সাপোর্ট করে যাচ্ছে। প্রথম থেকেই আমার ছেলে এক সাথে নেমেছি। শামীম সাহেব উনি তো করবেনই। আমার মেয়ে আমার ছেলেও বউ তাদের ঈদের বাজেট করোনায় সহায়তায় দিয়েছে। আমাদের পুরো ফ্যামিলির সবারই কিছু না কিছু সাপোর্ট আছেই। আমি এটা দেখে খুব উৎসাহিত হই যে পারিবারিক সমন্বয়ের মাধ্যমে সবাই মিলে কাজ করছি।’

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর