গাউছিয়া হাটে ব্যবসায় ধস

|| নিউজনারায়ানগঞ্জ২৪.নেট ০১:০১ এএম, ১ জানুয়ারি ২০১৫ বৃহস্পতিবার

গাউছিয়া হাটে ব্যবসায় ধস
সনদ সাহা সানি, গাউছিয়া থেকে ফিরে : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতা এলাকায় অবস্থিত দেশের বৃহত্তম পাইকারী তৈরি পোশাকের ব্যবসাস্থল গাউছিয়া মার্কেটে দীর্ঘদিন ধরেই বিরাজ করছে চরম মন্দাভাব। গাউছিয়া মার্কেটে পাইকারী ও খুচরা বিক্রেতা মিলিয়ে দোকান রয়েছে অন্তত ৩ হাজার। দেশের আর কোথাও এক সাথে এত দোকান নেই বললেই চলে। দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা বাজারে সব ধরনের পণ্যই রয়েছে ক্রেতাদের হাতের নাগালে। তবে তা সত্বেও দিন দিন কমছে ক্রেতার সংখ্যা। সপ্তাহের একদিন এখানে হাট বসলেও অন্তহীন সমস্যা ও দুর দুরান্তের ক্রেতাদের পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা না থাকার বিষয়টি মন্দার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। গত দু’বছর ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ব্যবসায় ধস নামায় অজানা শঙ্কা ভর করেছে ব্যবসায়ীদের মনে।   জানা গেছে, গাউছিয়া মার্কেটের পাইকারী এবং খুচরা দোকান রয়েছে অন্তত ৩ হাজার। প্রতি সপ্তাহের শুধুমাত্র মঙ্গলবার হাট বসে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দুই পাশের খুচরা বিক্রির দোকানগুলো ছাড়া সপ্তাহের বাকি ৬ দিন পাইকারী সবগুলো দোকান বন্ধ থাকে। সেলোয়ার কামিজ, শার্ট-প্যান্ট, শাড়ি-লুঙ্গির কাপড় থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের থান ও গজ কাপড় পাওয়া যায় এখানে। দেশীয় কাপড়ের পাশাপাশি বিদেশি ব্র্যান্ডের কাপড়ও পাওয়া যায়।   অরবিন্দু ইন্ডিয়ান শার্টের কাপড় প্রতি পিস ৪০০ থেকে ৭০০ , চায়না ৩০০ থেকে ৪০০, সেঞ্চুরি চায়না ৩৫০, ইন্ডিয়ান ৩৫০ থেকে ৯০০, থাইল্যান্ড ২০০ থেকে ৪০০, শীতকালীন চেক প্রতি পিস ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়। এছাড়াও বিভিন্ন গার্মেন্টসের কাপড়ের দাম ১০০ টাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন দামে বিক্রি হয়। গাউছিয়া মার্কেটে প্যান্টের পিসের দামের স্থিতি লক্ষ্য করা যায়। ইন্ডিয়ান কাপড় প্রতি পিস ৪০০ টাকা, চায়না কাপড় ৩৫০ টাকা এবং কোরিয়ান ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা। মেয়েদের পোশাকের মধ্যে বুটিক থ্রিপিস ২০০ থেকে ৩০০ টাকা, লিলেন চঙি ৪০০ টাকা, জয়পুরী সুতি প্রিন্ট ২৫০ টাকা, জর্জেট ১ হাজার টাকা, সিল্ক ১১০০ টাকা এবং নেট কাপড়ের থ্রিপিস ১৩০০ টাকায় পাওয়া যায়। এছাড়া গজ হিসেবে বাংলা লিলেন প্রতিগজ ১৩০ টাকা, কটন ১৫০ টাকা, সুতি পভলিন ৪০ টাকা এছাড়া প্রতি গজ ৮০ থেকে ১৫০ টাকায় বিভিন্ন ধরনের কাপড় পাওয়া যায়।   পাইকারী বাজারে দুর দুরান্ত থেকে ক্রেতাদের আগমন কম হওয়াকে ব্যবসায় মন্দাভাবের মূল্য কারণ হিসাবে ব্যখ্যা দিলেন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের দাবি দেশে প্রায় অনেক অঞ্চলে ছোট বড় পাইকারী মার্কেট গড়ে উঠাতে এখন আর দুর দুরান্ত থেকে ক্রেতাদের আগমন অনেক কম। আর দেশে নরসিংদীর বাবুরহাট বৃহৎ কাপড়ের ব্যবসার জন্য দেশজুড়ে ব্যবসায়ীদের কাছে পরিচিত ও রূপগঞ্জের ভুলতা-গাউছিয়া কাপড়ের মার্কেটের থেকে মাত্র ৩০ মিনিটির পথ হওয়ার কারণে অনেক ক্রেতা নরসিংদীর বাবুরহাটে চলে যান বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। মার্কেট কর্তৃপক্ষ হাটের দিন বাড়ালে এবং হাটে আসা ক্রেতাদের জন্য থাকা খাওয়ার সুব্যবস্থা করলে ক্রেতাদের সমস্যার সমাধান হতে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।   এদিকে হাটে আসা ক্রেতারা জানিয়েছেন বাজারে সকল পণ্যের দাম কম থাকায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভুলতা গাউছিয়া পাইকারী ও খুচরা বাজারে আসেন এবং মার্কেট নিয়ে রয়েছে তাদের নানা অভিযোগ।   মঙ্গলবার সরেজমিনে ভুলতা গাউছিয়া বৃহত্তর পাইকারি মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে ক্রেতাদের আগমন ছিলো অনেক কম। দূরপাল্লার গাড়ি আসলেও তেমন কোন ক্রেতাদের ভীড় দেখা যায়নি। পাইকারী বাজার হিসেবে অধিক পরিচিত হলেও খুচরা দোকানের অভাব নেই এখানে। পাইকারী বিক্রেতাদের পাশাপাশি খুচরা বিক্রেতাদেরও একই অবস্থা বলে জানিয়েছে খুচরা ব্যবসায়ীরা।   ভুলতা গাউছিয়ার হাটে আসা ক্রেতা লিকন চাকমা নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, আমরা কক্সবাজার থেকে গাউছিয়া পাইকারী মার্কেটে আসার একমাত্র কারণ সব কিছুর দাম অনেক কম। স্বল্পমূল্যে সকল পণ্য পাওয়া যায়। কিন্তু এখানে আসলে আমাদের নানা সমস্যায় পড়তে হয়। বেশিন ভাগ সময় আমরা মঙ্গলবার ভোর রাতে হাটে আসি। সারা রাত গাড়িতে ভ্রমন করে আসার পরে আমাদের বিশ্রাম নেওয়ার মতো কোন জায়গা থাকে না। হাট মাত্র ১ দিন হওয়াতে ভালোভাবে কেনাকাটা না করেই ফিরতে হয়। হাটে অনেক সময় মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। এজন্য নেই কঠোর কোন ব্যবস্থা।   মাসা টেক্সটাইলের মালিক মানিক সাহা নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, ২০১৩ সালে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে প্রতি সপ্তাহের সোমবার থেকে মঙ্গলবার ছিল হরতাল যার কারণে ২০১৩ সাল থেকে ক্রেতাদের সংখ্যা কমে গেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।   ফাহিম টেক্সটাইলের মালিক ফারুক নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, এখন বাজারে ক্রেতাদের আগমন কমে গেছে। বিভিন্ন অঞ্চলে অস্থায়ী ছোট বড় হাট হয়ে যাওয়াতে ক্রেতারা এখন গাউছিয়া হাটে আসতে চায় না। এখন বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যার কারণে বেচাকেনা অনেক কম। আশা করছি খুব দ্রুত বাজার আরো ভালো হয়ে যাবে।   গাউছিয়া বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, বর্তমানে গাউছিয়া মাকেটে আনুমানিক ৩ হাজারে মতো খুচরা ও পাইকারী দোকান আছে। যার মধ্যে অর্ধেকের বেশি খুচরা দোকান। আমাদের মার্কেটের আরো অনেক উন্নয়ন কাজ বাকি রয়েছে এগুলোর উন্নয়ন করা হলে মার্কেটে আসা ক্রেতাদের জন্য আবাসিক ভাবে থাকার ব্যবস্থা করা হবে। আগে সপ্তাহে শুধু মঙ্গলবার সকাল থেকে হাট শুরু হতো তাই এখানে আবাসিক থাকার কোন ব্যবস্থা ছিলো না। এখন হাট একদিন এগিয়ে এসেছে অনেক ক্রেতা সোমবার ভোর রাতে আসে তাদের জন্য অচিরেই সুব্যবস্থা করা হবে। আমাদের মার্কেটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনেক ভালো এখানে কোন প্রকার মালামাল চুরি হয় না। যদি এর কোন অভিযোগ আসে আমরা দ্রুত আরো কঠোর ব্যস্থা গ্রহন করবে। এমনকি আমাদের মার্কেটের ব্যবসায়ীদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।  

বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও