আবারো কাঁচাপাট রপ্তানীতে শীর্ষে পপুলার জুট এক্সচেঞ্জ

|| নিউজনারায়ানগঞ্জ২৪.নেট ০১:০১ এএম, ১ জানুয়ারি ২০১৫ বৃহস্পতিবার

আবারো কাঁচাপাট রপ্তানীতে শীর্ষে পপুলার জুট এক্সচেঞ্জ
টানা ৯ বারের মতো দেশে কাঁচাপাট রফতানীতে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে নারায়ণগঞ্জের পপুলার জুট এক্সচেঞ্জ। তবে শীর্ষস্থান ধরে রাখলেও ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কিত প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধাররা। গত অর্থবছরে দেশে আশঙ্কাজনক হারে কমেছে কাঁচাপাট রফতানী। অর্ধশতাধিক রফতানীকারক গত অর্থবছরে রফতানী আদেশ পাননি। আগের অর্থবছরের তুলনায় গত অর্থবছরে প্রায় ১১ লাখ বেল কম রফতানী হয়েছে। রফতানীকারকদের দাবি সম্ভাবনাময় এই শিল্পটির দিকে নজর দিচ্ছেনা সরকার।   বাংলাদেশ জুট এসোসিয়েশন সূত্রে জানা যায়, গত অর্থবছরে (জুলাই ২০১৩ থেকে জুন ২০১৪ পর্যন্ত) ২০ টি দেশে ৯২ জন রফতানীকারক ৯ লাখ ৮৪ হাজার ৪ বেল কাঁচাপাট রফতানী করে ৭০৬ কোটি ৫ লাখ টাকা সমপরিমাণের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেছে। অথচ এর আগের অর্থবছরে (জুলাই ২০১২ থেকে জুন ২০১৩ পর্যন্ত) ২০ টি দেশে ১৪৩ জন রফতানীকারক ২০ লাখ ৫৫ হাজার ৪৩২ বেল কাঁচাপাট রফতানী করে ১ হাজার ৪৩৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা সমপরিমাণের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেছিল। অর্থাৎ গত অর্থবছরে রফতানীকারক যেমন কমেছে তেমনি কমেছে বৈদেশিক মুদ্রার অর্জনের পরিমাণও। রফতানী কমেছে কাঁচাপাট রফতানীর বড় বাজার ভারত, চীন ও পাকিস্তানে। কমছে রফতানীকারকদের সংখ্যা। জুলাই ২০১১ থেকে জুন ২০১২ অর্থবছরে পাট রফতানীকারক ছিল ১৬৮ জন। ওই অর্থবছরে রফতানী আয় ছিল এক হাজার ৫৪০ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।   জানা গেছে, গত ৯ অর্থবছরে দেশের পাট রফতানীকারকদের মধ্যে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জে অবস্থিত পপুলার জুট এক্সচেঞ্জ। তবে আশঙ্কাজনক হারে কমছে প্রতিষ্ঠানটির কাঁচাপাট রফতানী। গত অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি ২ লাখ ৮০ হাজার ৫৬৪ বেল কাঁচাপাট রফতানী করলেও এ বছর রফতানী করেছে ২ লাখ ৫৪৩ বেল।   পপুলার জুট এক্সচেঞ্জের জিএম (এক্সপোর্ট) স্বপন রায় নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, দিন দিন কাঁচাপাটের রফতানীখাত নি¤œমুখী। চলতি অর্থবছরে কোথায় নামবে তা আগাম বলতে পারছি না। সরকারের কি পদক্ষেপ সেটাও বুঝতে পারছিনা। এ শিল্পের প্রতি সরকারর দৃষ্টি নেই বললেই চলে। কাঁচাপাটের রফতানীকারকরা ব্যাংকিং সুবিধা পায়না বললেই চলে। ১৬ শতাংশ ব্যাংক ইনটেরেস্ট দিয়ে কোন রফতানীকারকই টিকতে পারবেনা। অনেক সময় ব্যাংক সুদের পরিমাণ সব মিলিয়ে ১৭-১৮ শতাংশ পর্যন্ত হয়ে পড়ে। এসকল কারণে দিন দিন কমছে রফতানীকারকদের সংখ্যা। শীর্ষ রফতানীকারক হিসেবে আমরা ব্লকড ঋনের সুবিধা পাওয়ার কথা থাকলেও তা পাচ্ছিনা। কারণ আমাদের মালিকপক্ষ ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে ও নিজেদের সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে অন্য আয়ের উৎস থেকে ব্যাংকের সমুদয় পাওনা পরিশোধ করেছিলেন। সরকারের ভ্রান্ত ডিসিশন ও উদাসীনতার কারণে হয়তো আমরাও একসময় হারিয়ে যাব।   পপুলার জুট এক্সচেঞ্জের জিএম (হেড অব জুট) অনুপ কুমার হোর সুনু নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, দেশের কাঁচাপাটের সিংহভাগ রফতানী হয়ে থাকে ভারত, পাকিস্তান ও চীনে। বর্তমানে চায়নাতে কাঁচাপাটের বদলে ইয়ার্ণের চাহিদা বাড়তে থাকায় কাঁচাপাটের রফতানী কমেছে। ইয়ার্ণের ক্ষেত্রে সরকার সাড়ে ৭-১০ শতাংশ ভতুর্কি দেয়। অপরদিকে কাঁচাপাটের ক্ষেত্রে সরকার কোন ভর্তুকি দেয় না। এ কারণ ইয়ার্ণ নিলে খরচ কম পড়ে। তাই চায়নারা এখন কাঁচাপাটের বদলে ইয়ার্ণের দিকে ঝুঁকছে। কাঁচাপাট রফতানীর প্রধান বাজার ভারত হলেও এবছর তারা এখনো বাংলাদেশ থেকে কোন কাঁচাপাট নেয়নি। তবে নাগাদ আসবে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছেনা। পাকিস্তানের ১২ টি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ থেকে কাঁচাপাট নিয়ে থাকে। এবছর মাত্র ৫ জন নিয়েছে। নেপালে কাঁচাপাটের রফতানী নির্ভর করে ভারতের উপর।   বাংলাদেশ জুট এসোসিয়েশনের সাবেক সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান আরজু রহমান ভূইয়া নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, নব্বইর দশকে নারায়ণগঞ্জে কাঁচাপাটের ব্যবসা রমরমা ছিল। ওই সময় নারায়ণগঞ্জে অগ্রনী ব্যাংকেই পাটের ব্যবসায়ী ছিল ৬০-৭০ জনের ন্যায়। সব মিলিয়ে শুধু নারায়ণগঞ্জেই ব্যবসায়ী ছিল দু’শতাধিক। অথচ বর্তমানে বড় ব্যবসায়ী রয়েছে ৪-৫ জন। ছোটবড় মিলিয়ে রফতানীকারক রয়েছেন মাত্র ২০-২৫ জন।

বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও