৮ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, বুধবার ২২ নভেম্বর ২০১৭ , ৩:২৪ অপরাহ্ণ

শীতলক্ষ্যায় ৩০ যাত্রী নিয়ে নৌ ডুবি, ৫ মিনিটেই ফায়ার সার্ভিস


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:৪৯ পিএম, ১৮ জুন ২০১৭ রবিবার


শীতলক্ষ্যায় ৩০ যাত্রী নিয়ে নৌ ডুবি, ৫ মিনিটেই ফায়ার সার্ভিস

‘‘নারায়ণগঞ্জ শীতলক্ষ্যা নদীতে রোববার সকাল থেকে কয়েকটি জাহাজ ছাড়া বালুবাহী ট্রলারের চলাচল তেমন একটা দেখা যাচ্ছিলো না। সকাল থেকে আকাশও ছিল পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। মেঘ কিংবা ঝড়ো বাতাসও ছিলো না নদীতে। রোদের আলোয় নদীর পানি জলমল করছে। এরই মধ্যে সকাল সাড়ে ৯টায় শহরের হাজীগঞ্জ খেয়াঘাট থেকে নবীগঞ্জ ঘাটের উদ্দেশ্যে ২৫ থেকে ৩০ জন যাত্রী নিয়ে একটি নৌকা শীতলক্ষ্যা নদী পারাপার হওয়ার সময় অন্য একটি ইঞ্চিন চালিত ট্রলারের ধাক্কায় নৌকাটি ডুবে যায়। দুই পাড়ের খেয়াঘাটে মানুষের ভীড় জমে যায়। তবে কেউ উদ্ধারের এগিয়ে যায়নি। কিন্তু ঘটনার ৫মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌছে যায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা। কয়েকজন সাঁতরে তীরে পৌছাতে পারলেও বাকিদের উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা। পরে গুরুতর আহতদের স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে উঠানো হয়। তবে এতে কেউ নিখোঁজ কিংবা মারা যায়নি।’’

তবে এটা কোন বাস্তবিক কোন ঘটনা কিংবা ছবির শ্যূটিং না। এভাবে নৌকা ডুবলে কিভাবে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এগিয়ে এসে উদ্ধার কাজ চালায় সে বিষয়ে যাত্রীদের সচেতন ও করণীয় জানানোর জন্যই এ ধরনের মহড়ার আয়োজন করে ফায়ার সার্ভিস।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ঢাকা বিভাগের উপ পরিচালক (অপারেশন) দেবাশীষ বর্ধন জানান, ‘হাজীগঞ্জ খেয়া ঘাটে প্রায় রাতে যাত্রীবাহী নৌ ডুবির ঘটনা ঘটে। অনেক সময় মানুষ তীরে উঠতে পারলেও অনেকেই পানিতে তলিয়ে যায়। তাই মানুষকে সচেতন করার জন্য এ আয়োজন করা হয়েছে। এতে বুঝানো হয়েছে নদীতে নৌকা ডুবে গেলে তীরের থাকা মানুষ ফায়ার সার্ভিসকে জানাবে, কিভাবে নদী থেকে মানুষকে উদ্ধার করা হবে এবং নদীতে থাকা অবস্থায় কি করণীয়।’

এদিকে হাজীগঞ্জ খেয়াঘাটের নৌকার মাঝি আনোয়ার হোসেন ‘এগুলো দেখে শিখতে পেরেছি নৌকা ডুবে গেলে কি করবো। আমরাও ফায়ার সার্ভিসের নাম্বার রেখেছি যেকোন সমস্যায় ফোন দিবো। তবে আমাদের নৌকার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে একটি করে লাইফ বয়া দিলে ভালো হয়। তাহলে বিপদে মানুষকে সহযোগিতা করা যেতো।’
 
যাত্রী ফাতেমা বেগম বলেন, ‘এগুলো সব সময় দেখানো উচিত। তবেই মানুষ শিখতে পারবে। জানতে পারবে। এখানে জানতে পারলাম নদীতে নৌকা ডুবে গেলে ফায়ার সার্ভিসকে ফোন দিতে হবে। অন্যকে সাঁতে পার হওয়ার সময় ধরা যাবে না। সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’
 
তিনি আরো বলেন, ‘আর কয়েকদিন পর নদীপথে যাত্রীরা গ্রামের বাড়ীতে যাবেন। তাই জনসচেতনর জন্য নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সে উদ্যোগে এসব কিছুর আয়োজন করা হয়েছে। তাছাড়াও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কিভাবে কাজ করে তার নৌ-মহড়া করে দেখানো হয়েছে।’
 
ঈদে নদী পথে যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়ে দেবাশীষ বলেন, ‘নদী পথে ৮টি পয়েন্টে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা থাকবে। এগুলো হলো নারায়ণগঞ্জে দু’টি, দরদিয়া, ঢাকা সদরঘাট, মুন্সিগঞ্জ, বরিশাল সহ ভাসমান দুটি টিম থাকবে। যাতে করে যেকোন দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্র পৌছাতে পারে। এছাড়াও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এর মাধ্যমে লঞ্চ মালিকদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা যাবে না। প্রতিটি লঞ্চের যাত্রীর জন্য যাতে একটি করে জীবনের নিরাপত্তার জন্য ‘লাইফ বয়া’ সহ প্রয়োজন সকল সরঞ্জাম রাখতে হবে। একই সঙ্গে ঈদের ছুটি চলাকালীন সময়ের আগেও পরে বালুবাহী ট্রলার এবং কার্গো ট্রলার চলাচল যেন বন্ধ থাকে।’

এসময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স উপ সহকারী পরিচালক মো. মামুনর রশিদ সহ বন্দর, হাজীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ নদী ও ঢাকা সদর ঘাট নদী ইউনিটের ৩৫ জন কর্মকর্তারা।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

মহানগর -এর সর্বশেষ