৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, শুক্রবার ২৪ নভেম্বর ২০১৭ , ১১:২৯ পূর্বাহ্ণ

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের আলোচিত উপ নির্বাচনের তিন বছর


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৭:০৬ পিএম, ২৬ জুন ২০১৭ সোমবার | আপডেট: ০৫:৫৮ পিএম, ২৯ জুন ২০১৭ বৃহস্পতিবার


নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের আলোচিত উপ নির্বাচনের তিন বছর

নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) আসনের উপ নির্বাচনের তিন বছর ২৬জুন। ওই নির্বাচনটি ছিল নানা নাটকীয়তায় ভরপুর। নির্বাচনের শুরুতে আওয়ামী লীগ সহ অন্য রাজনৈতিক দলের অনেকেই প্রার্থী হলেও শেষতক বাজিমাত ঘটে সেলিম ওসমানের।
 
জাতীয় পার্টির সভাপতি মন্ডলীর সদস্য নাসিম ওসমানের মৃত্যুতে শূন্য হয় নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন। ২৬ জুন অনুষ্ঠিত হওয় ওই নির্বাচনে ৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তারা হলেন - জাতীয় পার্টির সেলিম ওসমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক এমপি এস এম আকরাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী সিরাজুল মজিদ মামুন ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের জেলা কমিটির সভাপতি শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার। এ চারজনের মধ্যে সেলিম ওসমান ও শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের ভোটার হওয়ায় তারা ভোট দিতে পারেনি।
 
নির্বাচনে বিজয়ী জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী সেলিম ওসমান তার প্রতিক্রিয়ায় বলেছিলেন, এ নির্বাচনে প্রমাণ হলো নারায়ণগঞ্জ সন্ত্রাসের জনপদ না ও ওসমান পরিবার সন্ত্রাস লালন করে না। বিজয় নারায়ণগঞ্জের সাধারণ জনগনের বিজয়। নারায়ণগঞ্জের মানুষের দেওয়া সম্মান আমি রক্ষা করবো। আমি নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নের সকলের সহযোগিতা নিয়ে কাজ করে যাবো। নারায়ণগঞ্জের দীর্ঘদিনের চলমান রেশারেশির অবসান ঘটাতে চাই আমি। আমি চাই নারায়ণগঞ্জের কোন সন্ত্রাস থাকবে না। কোন চাদাঁবাজি, টেন্ডারবাজি থাকবে না। রাজনীতির নামে অপরাজনীতি দূর করা হবে। নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নে আমি আমার প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী সিটি করপোরেশনের মেয়র, আওয়ামীলীগ, বিএনপি জাতীয় পার্টি সকল দলের নেতাকর্মীদের সহযোগীতা চাইবো। পাশাপাশি আমার ব্যবসায়ী সমাজ, শ্রমিক ভাই এবং নারায়ণগঞ্জের জনগনের সহযোগীতা চাই। নারায়ণগঞ্জের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য প্রাচ্যের ডান্ডি আমি ফিরিয়ে আনতে চাই। তিন বছরে অনেক পরিবর্তন এনেছেন সেলিম ওসমান। বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে তিনি ছিলেন সবার আগে। নিজ অর্থায়নে তিনি প্রচুর উন্নয়ন কাজ করেছেন।
 
২৬ জুনের নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৪২ হাজার ৪০৫ জন। কেন্দ্র ছিল ১৪১টি। এর মধ্যে ভোট পড়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার ৮২২ ভোট। বাতিল হয়েছে ১ হাজার ৭১৩ ভোট। মোট বৈধ ভোটের সংখ্য ১ লাখ ৫১ হাজার ১০৯ ভোট। অনিয়মের অভিযোগে একটি কেন্দ্রে ভোট স্থগিত হয়। ১৪১ কেন্দ্রের মধ্যে ১৪০ কেন্দ্রের ফলাফলে সেলিম ওসমান পেয়েছেন ৮২ হাজার ৮৫৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আনারস প্রতীকের এস এম আকরাম পেয়েছেন ৬৬ হাজার ১১৪ ভোট। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার (গামছা প্রতীক) ১৩শ ৯৬ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী চিংড়ি প্রতীকের মামুন সিরাজুল মজিদ পেয়েছেন ৭৪৩ ভোট।
 
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হন নাসিম ওসমান। কিন্তু ওই বছরের ৩০ এপ্রিল নাসিম ওসমান মারা যাওয়ায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। নানা নাটকীয়তার পর তার ছোট ভাই সেলিম ওসমান জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করায় শুরু হয় নির্বাচনের উত্তাপ। পরে সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহবায়ক রফিউর রাব্বি, সাবেক এমপি এস এম আকরাম,  মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার পর সে উত্তাপ আরো বেড়ে যায়। শেষতক রাব্বির মনোনয়ন পত্র বাতিল ও আনোয়ার মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর নির্ধারণ হয়ে যায় দুইজন প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী। আর তারা হলেন এস এম আকরাম ও সেলিম ওসমান। নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ছিলেন মামুন সিরাজুল মজিদ ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের জেলা কমিটির সভাপতি শফিকুল ইসলাম।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

মহানগর -এর সর্বশেষ