১ পৌষ ১৪২৪, শনিবার ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭ , ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ

শুভ্রকে কারা মারলো ? প্রশ্ন সবার


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:০৪ পিএম, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ রবিবার | আপডেট: ০৮:৩২ পিএম, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ রবিবার


শুভ্রকে কারা মারলো ? প্রশ্ন সবার

নারায়ণগঞ্জ সরকারী তোলারাম কলেজের ছাত্র শাহরিয়ার মাহমুদ শুভ্রকে (২১) কারা হত্যা করলো সে প্রশ্ন এখন সকলের। তাঁর পরিবারের লোকজন, আত্মীয় স্বজন থেকে শুরু করে সাংগঠনিক লোকজনেরও একই প্রশ্ন। কেন কারা হত্যা করলো শুক্রকে।

গত শুক্রবার থেকে শুভ্র নিখোঁজ ছিল অভিযোগ করে শনিবার ফতুল্লা থানায় একটি সাধারণ ডায়রী করেন তার বাবা। নিহত শুভ্র ফতুল্লা লালপুর এলাকার মো. কামাল উদ্দিনের ছেলে। সে নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ও বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন ফতুল্লা থানার প্রাথমিক সদস্য।

মো. কামাল উদ্দিন নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে পরিবারের সঙ্গে রাতে খাবার খেয়ে নিজে রুমে ঘুমাতে যায়। কিন্তু শুক্রবার ফজরের নামাজের সময় ওকে ডাক দিতে গেলে দরজা বন্ধ ছিল। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি পৌনে ৬টায় প্রতিবেশীরা শুভ্রকে বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে দেখেছে। তার পর সকাল ৯টায় শুভ্রর মোবাইলে ফোন দিলে বন্ধ পাওয়া যায়।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমার ছেলের নামে একটাও অভিযোগ পাওয়া যাবে না। খুব শান্ত ছেলে। কারো সঙ্গে কোন মারামারি বা খারাপ ব্যবহার করতো না। ওর কোন শত্রু থাকতে পারে সেটাও জানি না। কেন আমার এতো বড় ক্ষতি করলো?।

বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন নারায়ণগঞ্জ জেলার সহ সাধারণ সম্পাদক শুভ দে নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘সংগঠনের ফতুল্লা থানার প্রাথমিক সদস্য ছিল শুভ্র। এছাড়াও স্থানীয় গণমাধ্যমে সাংবাদিকতা করতো। অনেক ভালো ও ভদ্র ছেলে ছিল শুভ্র।’

শুভ্রর খালাতো ভাই আবু তাহের মাসুম নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে শুভ্র ছিল বড়। ছোট ভাই সাফিন ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ালেখা করে আর ছোট বোন ফাহমিদা আক্তার একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছে। শুভ্র ও তার বাবার উপার্জনে সংসার চলতো।’

তিনি আরো বলেন, ‘লাশ পাওয়ার খবরের পর থেকেই শুভ্রর মা (মাহমুদা আক্তার) কয়েক বার অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। কথা বলাও বন্ধ হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে ওর বাবাকেও ডাক্তার দেখানো হয়েছে। পরিবারটা শেষ হয়ে গেছে।’

শুভ্রর বন্ধু গোলাম রাব্বী নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘সব সময়ই শান্ত থাকতো। নতুন চাকরিতে যাওয়ার পর থেকে আর তেমন ভাবে আমাদের সঙ্গে মিশতো না। ঈদের আগের দিন রাতে এক সঙ্গে দেখা হয় কথা হয়। আমার জানা মতে ওর কোন শত্রু ছিল না। খুব ভালো ছেলে ছিল।’

শুভ্রর বন্ধুদের বরাত দিয়ে শুভ দে আরো বলেন, ‘শুভ্র রাঙামাটি এলাকার প্রমী নামে একটি মেয়ের সঙ্গে কথা বলতো। প্রমী ঢাকায় থেকে পড়ালেখা করে। ঈদের ছুটিতে প্রমী গ্রামের বাড়ি রাঙামাটিতে যায়। সে শুক্রবার সকালে রাঙামাটি থেকে ঢাকা আসার কথা ছিল। আর শুভ্র তাকে ঢাকায় রিসিভ করবে বলে ছিল। সেই উদ্দেশ্যে হয়তো বাসা থেকে শুক্রবার বের হয়। কিন্তু সকাল ৯টা থেকেই শুভ্রর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।’

শুভ দে আরো জানান, ‘শুভ্রর সঙ্গে একটি ব্যাগ ছিল, মোবাইল ছিল, টাকা ছিল এসব কিছুই পাওয়া যায়নি। ব্যাগটি থেকে শুধু হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার প্রশ্ন পাওয়া গেছে।’

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-অঞ্চল) মো. শরফুদ্দিন নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা যাচ্ছে ছিনতাইকারীরা তাকে শ্বাসরোধ করে অন্য কোথাও হত্যা করে এখানে ফেলে গেছে। তবে ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে। ইতোমধ্যে কয়েকটি সূত্র ধরে উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

মহানগর -এর সর্বশেষ