৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, বৃহস্পতিবার ২৩ নভেম্বর ২০১৭ , ১:৪৫ অপরাহ্ণ

পিপির মেয়ের মুখে ‘বিষাক্ত মিষ্টি’ নূর হোসেনের ঘনিষ্ঠজনও ঘটনাস্থলে


সূত্র : কালেরকণ্ঠ || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:২৫ পিএম, ৯ অক্টোবর ২০১৭ সোমবার


পিপির মেয়ের মুখে ‘বিষাক্ত মিষ্টি’ নূর হোসেনের ঘনিষ্ঠজনও ঘটনাস্থলে

আলোচিত সাত খুন মামলা পরিচালনা করা নারায়ণগঞ্জ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এস এম ওয়াজেদ আলী খোকনের মেয়েকে জোর করে ‘বিষাক্ত মিষ্টি’ খাইয়ে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় চারজনকে সন্দেহের আওতায় নিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাদের মধ্যে সাত খুনের পরিকল্পনাকারী হিসেবে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত নূর হোসেনের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তিও আছে।

সন্দেহভাজন চারজনের অবস্থান ও যোগাযোগের সঙ্গে পিপি খোকনের মেয়ে প্রাপ্তির বর্ণনা মিলে যাচ্ছে। গত দেড় মাসের তদন্তে বিষয়টি নিশ্চিত হলেও সন্দেহভাজন কাউকে গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। সূত্র : কালের কণ্ঠ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ব্যাপারে এখনো যাচাই-বাছাই করছে নারায়ণগঞ্জের ডিবি পুলিশ। পাশাপাশি প্রাপ্তিকে মিষ্টির সঙ্গে কী খাওয়ানো হয়েছে, তা নিশ্চিত হতে চাইছেন তদন্তকারীরা। এখনো ফরেনসিক পরীক্ষার রিপোর্ট পায়নি পুলিশ। এদিকে ঘটনার রহস্য উন্মোচিত না হওয়ায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উৎকণ্ঠায় আছেন পিপি খোকন।

চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ আদালতে সাত খুনের মামলায় ২৬ জনের ফাঁসির দ- হয়। ওই মামলায় পিপির দায়িত্ব পালন করেন আইনজীবী ওয়াজেদ আলী খোকন। গত ২২ আগস্ট উচ্চ আদালতের রায়েও নূর হোসেনসহ ১৫ জনের ফাঁসি বহাল থাকে।

তার এক দিন পরই নূর হোসেনের সহযোগীরা প্রতিহিংসা থেকে ঘটনাটি ঘটিয়েছে বলে সন্দেহ তৈরি হয়। ২৩ আগস্ট বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শহরের বঙ্গবন্ধু রোডের হাজী মঞ্জিলের কোচিং সেন্টার থেকে বের হতেই এক ব্যক্তি পিপি খোকনের মেয়ে মাইশা ওয়াজেদ প্রাপ্তিকে (১৮) জোর করে মিষ্টি খাইয়ে দেয়। তখনই অসুস্থ হয়ে পড়ে সদ্য ও লেভেল পাস করা প্রাপ্তি। তাকে মিষ্টি খাওয়ানোর সময় প্রায় ৫০ বছরের ওই ব্যক্তি বলেছিল, ‘তোমার বাবা ভালো কাজ করেছে। নাও, মিষ্টি খাও। ’ পরে একটি গাড়িতে চেপে চলে যান তিনি। ঘটনা জানানোর পর প্রাপ্তিকে নারায়ণগঞ্জ হাসপাতাল এবং ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে দুই দফায় পাকস্থলী পরিষ্কার করান আইনজীবী খোকন। তাঁর পরিবারের নিরাপত্তাও জোরদার করে পুলিশ। ২৪ আগস্ট খোকনের স্ত্রী সেলিনা ওয়াজেদ মিনু বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় অজ্ঞাতপরিচয় চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন, যার তদন্ত করছে ডিবি পুলিশ।

পিপি এস এম ওয়াজেদ আলী খোকন বলেন, ‘ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করে অনেক দূর এগিয়েছে। তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। আসামি ধরা না পড়লে এক ধরনের উৎকণ্ঠা তো থেকেই যায়। পুলিশ আমাকে এটুকু বলেছে, প্রাপ্তির বর্ণনার সঙ্গে কিছু মিল পাওয়া গেছে। তারা সেগুলো নিয়ে কাজ করছে। প্রতিহিংসা থেকে কারা এই কাজ করতে পারে - এটা বোঝাই যায়। ’ তবে এখনো তাঁর এবং পরিবারের সদস্যদের কড়া নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান আইনজীবী খোকন।

নারায়ণগঞ্জ ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘এখনো তদন্ত চলছে। অগ্রগতি আছে, ঠিক শনাক্ত বলা যাবে না। তবে ঘটনার সত্যতা মিলেছে। প্রাপ্তির পাকস্থলী থেকে উদ্ধার করা পানীয় পরীক্ষার ফল এখনো পাওয়া যায়নি।

সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে ৭ খুনের মামলার আসামিপক্ষসহ কেউ প্রতিহিংসায় কাজটি করেছে, এমন ধারণা থেকেই তদন্ত শুরু হয়। বঙ্গবন্ধু সড়কে কোচিং সেন্টারের কাছের দুটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ এবং মোবাইল ফোনের কললিস্ট ধরে প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ করে পুলিশ। প্রাপ্তির পাকস্থলী থেকে বের হওয়া পানি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

প্রাপ্তি তার জবানবন্দিতে বলেছে, ‘ওই গাড়িতে তিনটা লোক ছিল। যে আমাকে মিষ্টি খাওয়ায় সে সামনে ড্রাইভারের পাশে বসে। গাড়িটা ঘুরে ডিআইটি রোডের দিকে চলে যায়।’

সূত্র মতে, প্রাপ্তির চেম্বারের বাইরে একজন থাকার তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। সে আরো তিনজনের সঙ্গে মিলে সাদা গাড়িতে ডিআইটি রোডের দিকেই যায়। এদের মধ্যে নূর হোসেনের একজন ঘনিষ্ঠজন আছে। এই চারজনের কী উদ্দেশ্য ছিল, তা যাচাই করে দেখছে পুলিশ। তাদের মধ্যে কেউ প্রাপ্তিকে মিষ্টি খাইয়েছে কি না তাও নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ। পুরোপুরি নিশ্চিত না হয়ে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। তবে সন্দেহভাজন সেই চারজনকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

মহানগর -এর সর্বশেষ