৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, বৃহস্পতিবার ২৩ নভেম্বর ২০১৭ , ১:৪৩ অপরাহ্ণ

ক্রসফায়ারে নিহত বিএনপির কথিত নেতা বন্দুক শাহীনের উত্থান


স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৫:৫৮ এএম, ১৩ অক্টোবর ২০১৭ শুক্রবার


ক্রসফায়ারে নিহত বিএনপির কথিত নেতা বন্দুক শাহীনের উত্থান

নারায়ণগঞ্জে ডিবি পুলিশের সঙ্গে ক্রসফায়ারে নিহত মনিরুজ্জামান শাহীন ওরফে বন্দুক শাহীন শুধু মাদক ব্যবসায়ী নন তিনি বিএনপির একজন নেতাও বটে।

২০১১ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি নেতা পরিচয়ে তিনি ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচন করেছিলেন। নিজ বাড়ির সামনে সাটাতেন বিএনপির শীর্ষ নেতাদের ছবিও।

শুক্রবার (১৩ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৪টায় শহরের গলাচিপা এলাকায় বন্দুক শাহীনের মাদক আস্তানায় জেলা পুলিশের বিশেষ গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ক্রসফায়ারে সে মারা যায়।

শাহীনের বিরুদ্ধে একাধিক থানায় দুই ডজনের বেশী মামলা রয়েছে।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপ পরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান জানান, ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শহরের গলাচিপা এলাকায় বন্দুক শাহীনের মাদকের আস্তানায় অভিযান চালাতে গেলে তার সহযোগীদের নিয়ে ডিবির উপর হামলা চালায় শাহীন। মাদক ব্যবসায়ীরা ডিবি পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে ডিবিও পাল্টা গুলি ছুড়ে। এ সময় ক্রসফায়ারে পড়ে নিহত হয় শাহীন। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয় একটি ৭ পয়েন্ট ৬৫ বোরের পিস্তল ও ৪ রাউন্ড গুলি।

জানা গেছে, একসময়ের দুর্দান্ত ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় হিসেবে সুখ্যাতি পাওয়া শাহীন ৯০’এর দশকের শেষ সময়ে স্থানীয় ক্যাডার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। পুলিশের কাছে কাটা রাইফেল নিয়ে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে তার নাম হয়ে যায় ‘বন্দুক শাহীন’।

২০০৪ সালে বিএনপি নেতা তৈমুর আলম খন্দকারের মেজ ভাই ব্যবসায়ী নেতা সাব্বির আলম খন্দকার খুনের মামলায় আসামি হয়। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন মহলে দহরম মহরম করে শাহীন পুরোদমে মাদক ব্যবসা শুরু করে এবং নিজের বিশাল মাদক সাম্রাজ্য গড়ে তোলে।

শাহীনের মাদক ব্যবসায় প্রত্যক্ষভাবে পরিচালনার দায়িত্ব পায় ‘৪ খলিফা’খ্যাত তার আপন দুই ছোট ভাই মামুন ওরফে বাবা মামুন, মাসুমসহ ইভান ওরফে বাবা ইভান এবং খাজা রনি।

২০১৪ সালে ৭ খুনের ঘটনার পর নূর হোসেন দেশ ত্যাগ করলে পুরো জেলার ইয়াবা ও ফেনসিডিলের একক আধিপত্য চলে আসে বন্দুক শাহীনের কাছে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৩নং ওয়ার্ডের মাসদাইর, গলাচিপা এলাকার শীর্ষ মাদক সম্রাট বন্দুক শাহীনের ৪ শতাধিক সহযোগী ও সমর্থক রয়েছে বলে জানা গেছে। যার মধ্যে মাসদাইর গলাচিপায় আড়াই শতাধিক সহযোগী ও সমর্থক এবং আমলপাড়া এলাকায় দেড় শতাধিক সহযোগী ও সমর্থক রয়েছে। গেল কয়েক বছরে বন্দুক শাহীনকে ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করলেও বন্দুক শাহীন ছিল অধরা।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

মহানগর -এর সর্বশেষ