৩০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, শুক্রবার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭ , ২:৫৩ পূর্বাহ্ণ

সেন্ট্রাল ঘাটে রাতে বাড়ে যাত্রী দুর্ভোগ


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:২৬ পিএম, ১৩ নভেম্বর ২০১৭ সোমবার | আপডেট: ০৯:৩০ পিএম, ১৩ নভেম্বর ২০১৭ সোমবার


ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

নারায়ণগঞ্জের অন্যতম সেন্ট্রাল ঘাটে দিন গড়িয়ে রাতের আঁধার যত বাড়তে থাকে যাত্রী দুর্ভোগ তত বাড়তে থাকে। রাতের আঁধার বাড়ার সাথে সাথে ঘাটে চলাচলরত ট্রলারের সংখ্যা কমতে থাকে যে কারণে যাত্রী দুর্ভোগের সীমা থাকেনা। অন্যদিকে এই সুযোগে নৌকা মাঝিরা গলাকাটা ৫ টাকা ভাড়া আদায় করেও নৌকা বোঝাই করে ঝুকি নিয়ে নদী পারাপার করছে। এ নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধতে শুরু করেছে।

সম্প্রতি সেন্ট্রাল ঘাটে যাত্রী দুর্ভোগের নানা চিত্র দৃষ্টিগোচর হচ্ছে। এছাড়া দুর্ভোগের কারণে যাত্রীদের মধ্যে সমালোচনার ঝড় বইছে।

ঘাট ইনচার্জ দিদার খন্দকার নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, ‘ভাড়ায় চালিত ট্রলারগুলো সকাল ৬টা থেকে ট্রলার চলাচল শুরু হয় ৩টি ট্রলার দিয়ে। সকাল ৭ টা থেকে ১১ টা পর্যন্ত ৮টি ট্রলার চলাচল করে। বিরতির কারণে বেলা ১১ টার পর থেকে বিকেল ৩ টা পর্যন্ত ৫-৬টি ট্রলার চলাচল করে। বিকেল ৪ টার পর থেকে রাত ১১ টা পর্যন্ত ৮টি ট্রলার চলাচল করে।  তবে রাত ১১ টার পর থেকে ৩টি ট্রলার চলাচল করে। এভাবেই রাত ১২-১টা পর্যন্ত ট্রলার চলাচল করে থাকে। এছাড়া ফ্রি ট্রলারগুলো সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত স্বাভাবিক নিয়মে চলাচল করে।

তবে যাত্রীরা বলছেন ভিন্ন কথা। সেন্ট্রল ঘাটে ভাড়ায় চালিত ট্রলার ৮টি চলাচলের কথা থাকলেও দিনের বেলাতে ৪-৫টি এবং রাত হতেই সেই সংখ্যা ক্রমশ কমতে থাকে বলে যাত্রীরা নানান অভিযোগ করে আসছেন।

যাত্রীরা জানান, ‘সারাদিনে ফ্রি ট্রলার ব্যতিত ৪-৫টি ট্রলার চলাচল করে। দুপুরে সেই ৪-৫টি ট্রলার থেকে দু-একটি আরো কমে যায়। এরপর সন্ধ্যা পর থেকে রাত ৯-সাড়ে ৯টা পর্যন্ত সেই ৪-৫টি ট্রলার চলাচল করে। তবে রাত সাড়ে ৯টার পর থেকে হাতেগোনা ২-১টা ট্রলার চলাচল করে। সাড়ে ১০টার পর থেকে মাত্র ১টি বড় ট্রলার দিয়ে যাত্রী পারাপার করা হয়।

যাত্রীদের মধ্যে সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ঢাকা থেকে চাকরি শেষে আসতে আসতে প্রায় ১১টা বেজে যায়। কিন্তু এই সময়ে ঘাটে মাত্র ১টি ট্রলার থাকে বলে বেশ দেরি হয়ে যায়। ১টি ট্রলার থাকার কারণে অনেক বিলম্ব করে ট্রলার ছাড়া হয়।

এসময় ট্রলার চালক ও হেল্পারকে কিছু বললে খারাপ ব্যবহার ছাড়া কিছুই পাওয়া যায়না। তবে মাঝে মাঝে ২টা ট্রলার পাওয়া যায়। কিন্তু আমাদের এমপি সেলিম ওসমান যাত্রীদের সুবিদের জন্য ৮টি ট্রলার বরাদ্দ করেছেন। তাহলে ৮টির জায়গায় হাতেগোনা মাত্র কয়টি ট্রলার কেন চলাচল করবে। অন্যদিকে নৌকা ঘাটে গেলে ৫ টাকা করে ভাড়া রাখলেও নৌকা বোঝাই করে যাত্রী উঠিয়ে ঝুকি নিয়ে নদী পারাপার করে। এতে যে কোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

আরেক যাত্রী সৈয়দ মিয়া বলেন, ‘রাত ৯ টার সময় সকল গার্মেন্ট সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ছুটি হয়। যেকারণে ঘাটে যাত্রীর উপচেপড়া ভিড় থাকে। তবে এসময় যাত্রী পারাপারে ৪-৫টি ট্রলার চলাচল করলেও তা যাত্রীর তুলনায় অপ্রতুল। এতে করে অনেক যাত্রী জীবনের ঝুকি নিয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে ট্রলারে উঠে। এছাড়া এই সময় যাত্রীদের ভীড়ের কারণে ট্রলার চালকেরা যাত্রী বোঝাই করে ট্রলার নদী পারাপার করে। এসময় ৪-৫টি ট্রলারের পরিবর্তে সবকটি অর্থাৎ ৮টি ট্রলার চলাচল করলে এভাবে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে নিতে হত না। যাত্রীদেরও এতো কষ্ট করে যাতায়াত করতে হতনা। যাত্রীরা যদি টাকা দিয়ে আবার কষ্ট করতে হয়।

ঘাট ইনচার্জ ও যাত্রীদের বক্তব্যের কোন মিল পাওয়া যায়নি। তাই যাত্রীদের অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে ঘুরে তাদের অভিযোগের সত্যতা মিলে। দিনের বেলার চেয়ে রাতের আধারে সেন্ট্রাল ঘাটে যাত্রী দুর্ভোগ বাড়তে থাকে।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

মহানগর -এর সর্বশেষ