৬ শ্রাবণ ১৪২৫, রবিবার ২২ জুলাই ২০১৮ , ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ

ফিরে দেখা ২০১৭

শীতলক্ষ্যায় ২৯ঘণ্টা পর পানির নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:২৮ পিএম, ৩ জানুয়ারি ২০১৮ বুধবার | আপডেট: ০৩:২৮ পিএম, ৩ জানুয়ারি ২০১৮ বুধবার


শীতলক্ষ্যায় ২৯ঘণ্টা পর পানির নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার

বছর জুড়ে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দু ছিল নারায়ণগঞ্জ। যেমন হত্যা, খুন, ধর্ষন, সড়ক দূর্ঘটনা ছিল নিত্য দিনের ঘটনা। এসব ঘটনাগুলো ছাড়িয়ে আলোচনায় এসেছিল শীতলক্ষ্যা নদীতে ডুবে যাওয়ার ২৯ ঘন্টা পর একটি বালুবাহী বাল্কহেড থেকে অক্ষত অবস্থায় জীবিত উদ্ধার করা গ্রীজার সোহাগ হাওলাদারকে (৩০)। দাফনের উদ্দেশ্যে লাশ নিতে এসে সুস্থ্য অবস্থায় সন্তানকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় পরিবার।

গত ১১অক্টোবর বুধবার বেলা ১১টায় বন্দর উপজেলার ২নং ঢাকেশ্বরী সোনাচড়া এলাকায় বিআইডব্লিউটিসির ডুবন্ত জাহাজের সঙ্গে ধাক্কা লেগে বালুবাহী বাল্কহেড ‘এমভি মুছাপুর’ ডুবে যায়। ওই সময়ে বাল্কহেডটিতে ৬জন শ্রমিক ছিল যাদের মধ্যে ৫জন সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও নিখোঁজ ছিল সোহাগ হওলাদার। পরে বন্দর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরী দল তল্লাশী চালালেও সোহাগকে উদ্ধার করতে পারেনি। পরদিন ১২ অক্টোবর বিকালে বালুবাহী বাল্কহেড থেকে অক্ষত অবস্থায় জীবিত উদ্ধার করা হয় এর গ্রীজার (্ইঞ্জিন মেকার) সোহাগ হাওলাদারকে (৩০)। পরে তাকে উদ্ধারের পর চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সোহাগ হাওলাদার বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ এলাকার বাদল হাওলাদারের ছেলে।

তৎকালীন সময়ে নারায়ণগঞ্জ নৌ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু তাহের খান জানান, ‘দুই দফা খোঁজাখুঁজির পর যখন পাওয়া যাচ্ছিল না তখন সবাই আশা ছেড়ে দেয় সে আর জীবিত নেই। পরে বৃহস্পতিবার বিকালে লাশ পাওয়ার জন্য খোঁজা হয়। তখন সোহাগকে উদ্ধার করা হয়েছে। ৩০ ফুট পানির নিচে ২৯ ঘণ্টা সে জীবিত ছিল। পরে তাকে উদ্ধার করা হয়।’

উদ্ধারকারী ডুবুরী মো. আব্দুল জাহাঙ্গীর শিকদার বলেন, ‘বাল্কহেডের ইঞ্জিন রুমে আটকে ছিল সোহাগ। অর্ধেকটা পানিতে তলিয়ে গেলেও বাকি অর্ধেকটা জায়গায় অক্সিজেন ছিল। যার জন্য সে বেঁচে ছিল। তবে সবই আল্লাহর রহমত।’

সোহাগের ভাই সুমন হাওলাদার বলেন, ‘ভাই মারা গেছে শোনে মা কান্না করতে করতে অসুস্থ হয়ে গেছে। মাকে বাড়িতে রেখে ভাইয়ের লাশ নিতে এসেছিলাম। কিন্তু আল্লাহ আমার ভাইকে ফিরিয়ে দিয়ে গেছে।’

সোহাগের চাচা আলমগীর হোসেন বলেন, ‘বুধবার ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরীরা চেষ্টা করে উদ্ধার করতে না পেরে চলে যায়। পরে বৃহস্পতিবার সকালে লাশ উদ্ধারের জন্য প্রথমে স্থানীয় ডুবুরীরা তল্লাশী করে ব্যর্থ হয়। পরে বিকেলে আরেকজন ডুবুরী আধা ঘণ্টা চেষ্টার পর জানায় ভিতরে মানুষ আছে। তবে সে জীবিত আছে। পরে আরো আধাঘণ্টা চেষ্টা করে বাল্কহেডের দরজা ভেঙে জীবিত উদ্ধার করলে হাসপাতালে নিয়ে আসি।’

নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালের জরুরী বিভাগের ডাক্তার তাহমিনা নাজনীন বলেন, ‘সোহাগ হাওলাদার সম্পূর্ণ সুস্থ্য আছে। যেহেতু অনেক সময় পানির নিচে ছিল তাই আগামী ২ থেকে ৩ দিন একটা ঝুঁকি আছে। সেই জন্য আমরা তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠাবো। কারণ এর মধ্যে তার শ্বাস কষ্ট দেখা দিলে যেকোন ঘটনা ঘটতে পারে।’

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

মহানগর -এর সর্বশেষ