৩ মাঘ ১৪২৪, মঙ্গলবার ১৬ জানুয়ারি ২০১৮ , ১:৫৫ অপরাহ্ণ

চাষাঢ়ায় হকারদের পিটুনী সিগারেটের ছ্যাকায় পুলিশের কড়া অ্যাকশন


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:১৭ পিএম, ১২ জানুয়ারি ২০১৮ শুক্রবার | আপডেট: ০৩:১৭ পিএম, ১২ জানুয়ারি ২০১৮ শুক্রবার


চাষাঢ়ায় হকারদের পিটুনী সিগারেটের ছ্যাকায় পুলিশের কড়া অ্যাকশন

নারায়ণগঞ্জ শহরে ফুটপাতে হকার বসা নিয়ে কড়া অ্যাকশনে গেছে পুলিশ। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী শুক্রবার বিকেল থেকে শহরের ফুটপাতের সামনে হকাররা বসতে শুরু করলে পুলিশ গিয়ে বাধা দেয় ও পরে লাঠিচার্জ করে। এতে ৮ জন হকার আহত হয়েছে।

এদিকে কোন এক অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে অতি উৎসাহি পুলিশেরা হকারদের উপর নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে অভিযোগ করেছেন কমিউনিষ্ট পার্টি (সিপিবি) জেলা সভাপতি হাফিজুল ইসলাম।

শুক্রবার বিকেলে শহরের চাষাঢ়া সোনালী ব্যাংকের সামনে আক্রান্ত হকারদের মধ্যে মো. সাজুকে (৩২) শহরের খানপুর ৩শ শয্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এছাড়া বাকিদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়।

গুরুতর আহত সাজুর আশেপাশের হকাররা জানায়, ‘শুক্রবার বিকেলে হঠাৎ করে পুলিশের হানা পড়লে হকাররা সবাই উঠে চলে যেতে থাকে। এসময় সাজু তার মালামাল গুছিয়ে উঠে যাওয়ার সময় তাকে বেধড়ক মারধর করে। মারধরের এক পর্যায়ে পুলিশের একজন এসআই তার থুতনিতে ঘুষি মারলে তার ঠোট ফেটে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এসময় আশেপাশের হকারদেরও মারধর করে তাই কেউ এগিয়ে আসার সুযোগ পায়নি। পরে পুলিশ চলে গেলে আমরা সবাই তাকে ধরাধরি করে খানপুর হাসপাতালে নিয়ে ভর্র্তি করি।

আহত সাজুর স্বজনেরা জানায়, ‘পরিবারের মুখের দিকে চেয়ে উপার্জনের আশায় সাজু ঝুঁকি নিয়ে দোকান খুলেছিল। পরিবারের সদস্যদের মুখে আহার জোগাতে সাজু দোকান খুললেও পুলিশের হানায় সে দোকান গুটিয়ে নিলে পুলিশের নির্যাতন থেকে সে রেহাই পায়নি।

৩শ শয্যা হাসপাতালের চিকিৎসক মো. মান্নান জানান, ‘আহত হকার সাজুর ঠোট ফেটে গিয়ে রক্তক্ষরন হয়েছে। তাই ঠোটে সেলাই দেয়া হয়েছে। শারীরিক অবস্থা এখন অনেকটা ভাল।’

দেলোয়ার নামের একজন হকারকে সিগারেটের ছ্যাকা দেওয়া মারধর করে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে মুক্তি জেনারেল হাসপাতালের সামনে দেলোয়ার নামের হকার দোকান খুললে পুলিশের হানাতে পালাতে চেষ্টা করে। এসময় এস আই জামাল তাকে মারধর করে মালামাল ছিনিয়ে নেয়ার সময় হকার অনুরোধ করলে তিনি সিগারেটের আগুনের ছ্যাকা দিয়ে ডান হাত পুড়িয়ে দেয়।

এছাড়া সমবায় মার্কেটের সামনে মো. সাদ্দাম নামের আরেক হকারকে লাঠিপেটা করে আহত করে। এভাবে প্রায় ১০ জনের অধিক হকরকে মারধর করে আহত করে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে আরেকজন আহত হকার মো. হিরু জানায়, ‘আমি দুপুরে শহরের উকিলপাড়া মসজিদের পাশে মালিকানাধীন জায়গায় দোকান খুললেও সেখান থেকে পুলিশ উঠিয়ে দেয়। শুধু তারা উঠিয়ে দিয়ে খ্যান্ত হয়নি তার সাথে সাথে অযথা মারধর করেছে। এসময় প্রতিবাদ করাতো দূরের কথা উল্টো নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। আমরা হকার হয়ে ফুল করেছি আর এটাই আমাদের অপরাধ ।

বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টি (সিপিবি) জেলা সভাপতি হাফিজুল ইসলাম বলেন, ‘ফুটপাতে হকারদের বসতে না দেয়ার জন্য পুলিশ প্রশাসনের নির্দেশনা থাকলেও কোন হকারকে আঘাত করার নির্দেশনা ছিল না। কিন্তু কোন এক অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে কিছু অতি উৎসাহী পুলিশ হকারদের উপর নির্যাতন চালাচ্ছে।

জেলা হকার্স সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক আসাদুল ইসলাম আসাদ বলেন, ‘আজকে সকালে এমপি সেলিম ওসমানের সাথে হকার ইস্যুতে কথা হয়েছে। তিনি বলেছেন আগামীকাল বিকেলের মধ্যে হকার বসার একটা ব্যবস্থা করবেন। আমরা হকাররা তার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। তাই আমরা এখন পর্যন্ত কোন রকম আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করিনি।

মহানগর হকার্স লীগের সভাপতি আব্দুর রহিম মুন্সি বলেন, ‘হকারদের আহতের ঘটনায় পুলিশের ওসি এসে দেখে গেছে। তিনি হকারদের আহত হওয়ার ঘটনায় যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি যদি এই অত্যাচারের কোন ব্যবস্থান গ্রহণ না করেন তাহলে আমরা আমাদের আন্দোলন সহ নানা কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।’

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

মহানগর -এর সর্বশেষ