৯ ফাল্গুন ১৪২৪, বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ , ৯:১২ পূর্বাহ্ণ

primer_vocational_sm

চাষাঢ়া রণক্ষেত্র, গোলাগুলিতে প্রকম্পিত শহর


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ১০:৫৬ পিএম, ১৬ জানুয়ারি ২০১৮ মঙ্গলবার | আপডেট: ০৪:৫৬ পিএম, ১৬ জানুয়ারি ২০১৮ মঙ্গলবার


চাষাঢ়া রণক্ষেত্র, গোলাগুলিতে প্রকম্পিত শহর

হকার বসানো ও উচ্ছেদ নিয়ে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় বঙ্গবন্ধু সড়ক মঙ্গলবার ১৬জানুয়ারী বিকেলে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ওই সময়ে হকারদের পক্ষে আওয়ামী লীগের একাংশ ও হকারদের বিপক্ষে সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী সহ অন্যরা অবস্থান নিলে ওই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উভয় পক্ষ একে অপরকে লক্ষ্য করে বৃষ্টির মত ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। বন্ধ হয়ে যায় শহরের সকল দোকানপাট ও মার্কেট বিপনী বিতান। সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ প্রচুর টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষের সময়ে উভয় পক্ষের মিছিল থেকে প্রচুর গুলির শব্দ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ শহরের ফুটপাত হকারমুক্ত রাখতে গত কয়েকদিন ধরেই এমপি শামীম ওসমান ও আইভী সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। সবশেষ সোমবার বিকেলে সমাবেশ করে শামীম ওসমান ঘোষণা দেন হকারদের পুনর্বাসনের আগে আগামী ২১ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত মঙ্গলবার বিকেল ৫টা হতে রাত ১০টা পর্যন্ত হকার বসবে। তিনি এও ঘোষণা দেন, মঙ্গলবার বিকেলে তিনি চাষাঢ়ায় থাকবেন।

একই দিন রাতে আইভী প্রতিক্রিয়া দেখাতে গিয়ে শামীম ওসমানকে কোন ধরনের উস্কানি না দিতে আহবান রাখেন। ওই সময়ে আইভী এও ঘোষণা দেন কোনভাবেই হকার বসতে দেওয়া হবে না।

বিকেল ৪টার আগেই সিটি করপোরেশনের নগর ভবনের সামনে জড়ো হতে থাকে সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ও অনুগামী লোকজন। সেখানে হাজির হন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান ও জেলা যুবলীগের সভাপতি আবদুল কাদির প্রমুখ। আইভী শহরের ফুটপাতের পূর্বপাড় দিকে পায়ে হেঁটে চাষাঢ়ার দিকে আসতে থাকে। অপরদিকে চাষাঢ়া শহীদ মিনারে হকারদের কয়েকটি গ্রুপ বিকেল সোয়া ৪টার দিকে অবস্থান নেন।

বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে আইভীর নেতৃত্বে মিছিল চাষাঢ়া সায়াম প্লাজার সামনে আসে। সেখানে কয়েকজন হকারকে ফুটপাত থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের মধ্যে ব্যাপক বাকবিতন্ডা ঘটে। এছাড়া আইভীর মিছিলটি পুলিশ আটকে দেয়। তখন বাধা উপেক্ষা করে মিছিল সামনের দিয়ে অগ্রসর হতে চাইল পুলিশের সঙ্গে বাকবিতন্ডা ঘটে। ওই সময়ে একজন হকারকের মারধর করা হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তখন যুবলীগ নেতা চাষাঢ়া এলাকার নিয়াজুল সেখানে গেলে তাকে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জুয়েল হোসেন গেলে তাকেও মারধর করা হয়। এ খবর চাষাঢ়ায় ছড়িয়ে গেলে সেখানে থাকা আওয়ামী লীগের মহানগর কমিটির যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সাজনু সহ অন্যরা এগিয়ে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এতে প্রেস ক্লাবের সেক্রেটারী শরীফউদ্দিন সবুজ সহ অন্তত অর্ধশত আহত হয়।

দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার সময়ে উভয় পক্ষের মিছিল থেকে প্রচুর গুলির শব্দ পাওয়া গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের সময়ে উভয় পক্ষের লোকজন একে অন্যকে লক্ষ্য করে বৃষ্টির মত ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এতে পুরো শহরে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। বন্ধ হয়ে যায় বঙ্গবন্ধু শহরে যান চলাচল ও আশেপাশের সকল দোকানপাট।

নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের  মেডিকেল অফিসার আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আহত ৩০ জনকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। যার মধ্যে ৫ থেকে ৬ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

নারায়ণগঞ্জ খানপুর এলাকার ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের জরুরী বিভাগের ডাক্তার মো. সরোয়ার বলেন, আহতদের মধ্যে সবুজ, রাশেদুল, কাইউম, শুক্কুর, বাদল, মামুন পলাশ, জুয়েলকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। যাদের বয়স ৩০ থেকে ৩৫ এর মধ্যে। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শরফুদ্দিন বলেন, মেয়র সমর্থকদের সঙ্গে হকারদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। তবে কতজন আহত হয়েছে জানা নেই। পরিস্থিত নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুড়ে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মইনুল হক বলেন, আমরা ঘটনাস্থলের মাঝখানে থেকে উভয় পক্ষকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেছি। জানমালের নিরাপত্তার দিতে চেষ্টা করেছি।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

মহানগর -এর সর্বশেষ