৪ আষাঢ় ১৪২৫, সোমবার ১৮ জুন ২০১৮ , ৩:০৮ অপরাহ্ণ

ভুয়া ম্যাজিস্ট্রেট ডিবি পাকড়াও : প্রতারণা বাড়ছে নারায়ণগঞ্জে


স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৪৬ পিএম, ৭ মার্চ ২০১৮ বুধবার | আপডেট: ০২:৪৬ পিএম, ৭ মার্চ ২০১৮ বুধবার


ভুয়া ম্যাজিস্ট্রেট ডিবি পাকড়াও : প্রতারণা বাড়ছে নারায়ণগঞ্জে

নারায়ণগঞ্জে দিন দিন প্রতারণার ঘটনা বাড়ছে। প্রতারক আর তাদের প্রতারণার কৌশলের ভিন্নতায় অসহায় হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যরা। গত কয়েকদিনে শহর ও শহরের বাইরে এমন ঘটনা ঘটেছে। প্রতারকরা ধরা পড়লে জানাজানি হয়, আর পারপেয়ে গেলে লোকচক্ষুর আড়লে থেকে যায় এসব প্রতারক ও তাদের প্রতরণার কৌশল।

কখনো এই প্রতারকেরা পরিচয় দেয় পুলিশ কর্মকর্তা, কখনো বা দেয় ম্যাজিস্ট্রেট কখনো ডিবি কিংবা র‌্যাবের কর্তা হিসেবে। অপরদিকে ছোট ছোট প্রতারকরা পরিচয় দেয় ডাক্তার, বিকাশ কর্মকর্তা, লটারী পাইয়ে দেয়ার সহযোগী, জিনের বাদশাসহ নানান পরিচয়।

তবে এসব প্রতারণার জন্য দায়িকরা হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। তাদের সততা ও একনিষ্ঠতা থাকলে এই প্রতারক চক্র বেশিদূর এগুতে পারে না। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ প্রতারকরা একটি শক্তিশালী চক্র যার মধ্যে আইনশৃঙ্খলার সদস্যও জড়িত রয়েছে। তারা এই চক্র থেকে নিয়মিত অর্থনৈতিক ফায়দা হাসিল করে থাকে।

গত ৩ মার্চ শহরের ব্যস্ততম এলাকা ডনচেম্বারে ওষুধের দোকানে ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়ে চাঁদাবাজী করতে গিয়ে জনতার হাতে আটক হয়। আটককৃত রাসেল (৩৫) নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার জসিম উদ্দিনের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাসেল নিজেকে ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে ডনচেম্বারের আল মদিনা নামের ওষুধের দোকানে হানা দেয়। এসময় সে ড্রাগ লাইসেন্সসহ মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সম্পর্কে জানতে চায়। দোকানের মালিক মিজানুর রহমান মানিক উত্তর দিতে ব্যার্থ হলে তাকে ৩০ হাজার টাকা জরিমান করে। এসময় টাকা নাই বলে জানালে রাসেল তার দন্ড কমিয়ে ৫ হাজার টাকা করে। জরিমানার ৫ হাজার টাকা নিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দেয়া রাসেল চলেযেতে চাইলে দোকানি মিজান জরিমানার রশিদ দাবি করে।

রশিদ দিতে না পারায় সন্দেহ হয় উপস্থিত জনতার। এক পর্যায়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয় তাকে।

সদর উপজেলার সাইনবোর্ড এলাকা থেকে ৬ মার্চ মঙ্গলবার সকালে ডিবি পুলিশ পরিচয় দেওয়া একজন প্রতারককে গ্রেফতার করেছে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। মিলন (৩৯) নামের ওই প্রতারকের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি পিস্তল, একটি ম্যাগজিন, একটি ওয়াকিটকি, এক জোড়া হ্যান্ডকাপ ও ২টা লাঠি। সেই সঙ্গে ব্যবহৃত একটি গাড়িও উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত মিলন (৩৯) বরিশাল জেলার আজিমুদ্দিনের ছেলে।

দুপুরে ডিবি কার্যালয়ে গণমাধ্যমকে ডিবির পরিদর্শক (ওসি) মাহাবুবুর রহমান জানান, মঙ্গলবার সকালে ডিবির এসআই আজিজুল হাওলাদার, ফিরোজ মুন্সি ও মো. আরিফ হোসেনের নেতৃত্বে উপজেলার সাইনবোর্ড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ভুয়া ডিবির সদস্য মিলন নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ডিবির উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে গেছে আরো ৭ থেকে ৮ জন সদস্য। তারা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। এরা বিভিন্ন স্থানে নিজেদের ডিবি পরিচয়ে টাকা পয়সা লুটপাট করে। এ চক্রের অপর সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছ।

অপর ঘটনা ঘটে ফতুল্লায়। ব্ল্যাকমেইলার এক পুলিশ সোর্সের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। ওই সোর্স স্ত্রীকে দিয়ে পুলিশ অফিসারদের বিরুদ্ধে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ এনে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতো। এভাবে কয়েক বছর যাবত পুলিশ অফিসারদের ব্ল্যাক মেইলিং করে আসছে। গত সপ্তাহের বুধবার রাতে ফতুল্লা মডেল থানায় ওসি কামাল উদ্দিন নিজ অফিস কক্ষে সাংবাদিকদের একথা জানান।

জাকির হোসেন নামে ওই সোর্স ফতুল্লার মাসদাইর এলাকার হানিফ মিয়ার ছেলে। সবশেষ ২১ ফেব্রুয়ারী সোর্স জাকির হোসেন ফতুল্লা মডেল থানার এসআই সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে পুলিশ সুপারের কাছে একটি অভিযোগ করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, তার স্ত্রী সীমা আক্তারের সঙ্গে এসআই সাইফুর রহমান ফোনের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে। এক পর্যায়ে তার স্ত্রী সীমা আক্তারকে নিয়ে ২০ ফেব্রুয়ারী সাইফুর অজ্ঞাত স্থানে চলে যায়। এঘটনায় সোর্স জাকির হোসেন ফতুল্লা মডেল থানায় এসআই সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে একটি জিডি করে পরের দিন জেলা পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করেন। এরপর নানা ভাবে এসআই সাইফুর রহমানকে ভয়ভীতি দেখাতে থাকে জাকির হোসেন। বিষয়টি পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসে। এরপর বিষয়টি তদন্ত শুরু করলে সোর্সের ব্ল্যাক মেইলিংয়ের বিষয়টি উঠে আসে।

ওসি কামাল উদ্দিন জানান, বিভিন্ন সময় পর্যায় ক্রমে ফতুল্লা মডেল থানার ৩জন ও জেলা ডিবির একজনসহ চারজন পুলিশ অফিসারকে ব্ল্যাক মেইলিং করে হাতিয়ে নেয় মোটা অঙ্কের টাকা। তার ব্ল্যাক মেইলিংয়ের শিকার পুলিশ অফিসাররা মানসম্মানের ভয়ে বিষয়টি কাউকে জানাতেন না।

এমন প্রতারনা চলছে হরদম। তাদের জালে কেবল পুলিশ নয় ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি, সরকারী কর্মকর্তাসহ অনেক উচুদরের লোকও ধরা দেয় না জেনে-বুঝে।

গার্মেন্ট শ্রমিক আব্দুল হক। তিনি প্রতারনায় সর্ব শান্ত হয়ে ছিলেন গত বছর। তিনি বলেন, এরা অনেক বড় চক্র। তাদের আয় বিভিন্ন দফতরে ভাগবাঁটোয়ারা হয় থাকে। তাই তারা কখনো কোথও ঠেকে না, যাদিও ঠেকে তখন তারা অন্যান্যদের সহযোগীতায় খুব দ্রুত বের হয়ে যেতে পারে। বিচারে যাওয়ার আগেই তারা আইনের ফাঁক আর নগদ অর্থ বন্টন করে বেরিয়ে পড়ছে।

দোকানদার ফরিদ মিয়া বলেন, যারা প্রতারক তাদের দেখে বুঝার উপায় থাকে না। অনেকটা গোলক ধাঁধার মধ্যে ফেলে দেয় মানুষকে। আর যারা এই ধাঁধায় পড়ে তারাও দায়ি কম নয়।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র দিপালী বলেন, প্রতরক এবং প্রতাণার বিষয়ে সকলকে সচেতন করা দরকার। আমাদের প্রশাসন এবং পুলিশের সততা এবং সচ্ছতা থাকলে কেউ তাদের নাম ভাঙ্গিয়ে পার হতে পারতো না। তাই সচ্ছতার পাশাপাশি জনসচেতনতা জন্য প্রচারণা চালাতে হবে।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

মহানগর -এর সর্বশেষ