৭ কার্তিক ১৪২৫, মঙ্গলবার ২৩ অক্টোবর ২০১৮ , ১:৪১ পূর্বাহ্ণ

UMo

টাকার বিনিময়ে রাতে চলে বাল্কহেড, ঘটছে দুর্ঘটনা


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৪৬ পিএম, ২৪ মার্চ ২০১৮ শনিবার


টাকার বিনিময়ে রাতে চলে বাল্কহেড, ঘটছে দুর্ঘটনা

দেশের প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার নৌপথে পরিবহন করা মালামালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আনা নেয়া করা হয় বালু ও পাথর। বাল্কহেড নামের জাহাজে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে নেয়া হয়। বালুবাহী এসব জাহাজের বেশিরভাগেরই নেই কোনো অনুমোদন। কিন্তু কোনো নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে অনুমোদন ছাড়াই অদক্ষ চালক নিয়ে জাহাজগুলো চলাচল করছে নৌপথ দিয়ে।

অভিযোগ রয়েছে, নারায়ণগঞ্জ শীতলক্ষ্যা নদীতে প্রবেশ করলে নৌ-পুলিশকে প্রতিটি বাল্কহেড ১ হাজার থেকে ১৫০০ টাকা করে নিয়মিত চাঁদা দিয়ে দিনের পাশাপাশি রাতের আঁধারেও বালুবাহী বাল্কহেড চালানোর সুযোগ পাচ্ছেন চালকেরা। তাই অহরহ হচ্ছে দুর্ঘটনা। ২৩ মার্চ শুক্রবার রাত সোয়া ৯ টার দিকে রূপগঞ্জ শীতলক্ষ্যা নদীতে অনুমোদনহীন বাল্কহেড ধাক্কায় ১৪ জন যাত্রী নিয়ে ডুবে যায়। ৯ জন সাঁতরিয়ে পাড়ে উঠলে নিখোজ রয়েছেন ৫ জন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিল্প ও বাণিজ্যনগরী নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় শীতলক্ষ্যা নদীতে যাত্রীদের খেয়া পারাপারের জন্য ঘাট আছে নয়টি। ঘাটগুলো হলো শহরের লঞ্চ টার্মিনাল এলাকার সেন্ট্রাল খেয়াঘাট, ৫ নম্বর সারঘাট, নবীগঞ্জ, সোনাকান্দা, মদনগঞ্জ, টানবাজার, বরফকল জামাল সোপ, লক্ষ্মণখোলা ও কুড়িপাড়া খেয়াঘাট। এসব ঘাট দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী খেয়া পারাপার হয়। কিন্তু শীতলক্ষ্যা নদীতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল করছে কার্গো, বালুবাহী বাল্কহেডসহ বড় বড় নৌযান। এসব নৌযানের বেপরোয়া চলাচলের কারণে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। নৌ পুলিশের হিসাবমতে, গত তিন বছরে ছোট-বড় মিলিয়ে ৩০টির বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে।

শীতলক্ষ্যা নদীর মাঝি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাঝি জানান, প্রতিদিন রাতে দেখা যাচ্ছে বালু ও পাথরবাহী বাল্কহেডের কাছ নৌ পুলিশকে টাকা নিতে দেখা যাচ্ছে। টাকা না দিলে নদীর পাড়ে মামলা ও মোবাইল কোটের ভয় দেখিয়ে মোট অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কয়েক বছর আগেও এসব বাল্কহেডে করে বৈধ মালের পাশাপাশি এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে বিভিন্ন অবৈধ মালামাল নিরাপদে পাচার করা হতো। নদী পথের সন্ত্রাসীরা নিয়মিত চাঁদা আদায় করত এসব বাল্কহেড থেকে। নৌ-পুলিশ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নদীতে নিরাপত্তা পাওয়ায় চালকরা খুশি মনেই নৌ-পুলিশের দায়িত্বরত সদস্যদের চা-নাশতা খেতে ৫০-১০০ টাকা করে দিয়ে আসছেন। মেঘনা ব্রিজ, আলীগঞ্জ, ধর্মগঞ্জ, মদনগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, মুক্তারপুর, নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হয়। চালকরা অনেক সময় চাঁদা দিতে অক্ষম হলে তাদের কাছ থেকে রান্নার জন্য রাখা কেরোসিনও চাঁদা বাবদ নেয়া হয় বলে জানা গেছে। এখন পুলিশকে চাদাদিতে হয় ১০০০ হাজার থেকে ২০০০ পযর্ন্ত দিতে হয় ।

সূর্যাস্ত থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত শীতলক্ষ্যা নদীতে বালুবাহী বাল্কহেড চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও নারায়ণগঞ্জে সেটা মানা হচ্ছে না। ফলে প্রায়শই ঘটছে দুর্ঘটনা শীতলক্ষ্যা নদীর সেন্ট্রাল খেয়াঘাটের একজন মাঝি সোলেমান মিয়া জানান, দিনের বেলাতেও আমাদের খুব রিস্ক থাকে। কারণে একসঙ্গে অনেকগুলো বাল্কহেড চলাচল করে। দিনে বাল্কহেডগুলো দেখা গেলেও সন্ধ্যার পর আর দেখা যায় না। কারণ যেসব বাল্কহেডে বালু ভরা থাকে সেগুলো প্রায় ডুবন্ত অবস্থা থাকে। তবে খালিগুলো দেখা যায়। রাতে বাল্কহেড চলার কারণেই দুর্ঘটনা ঘটে।

আল্লার দান নামের একটি বাল্কহেডের সুকানী (চালক) শামীম মিয়া জানান, মালিকদের কারণে আমাদের কখনো কখনো সন্ধ্যার পরেও বাল্কহেড চালাতে হয়। তবে দিনে আমাদের মেঘনা সেতু, বন্দরের কলাগাছিয়াতে তিন নদীর মোহনা, শীতলক্ষ্যা সেতু এলাকাতে পুলিশকে ২০০ থেকে ৩শ টাকার মধ্যে চাঁদা দিতে হয়। আর সন্ধ্যার পর এসব স্পটে চাঁদার পরিমাণ দ্বিগুণে পরিণত হয়।

এর আগে শুক্রবার রাতে রূপগঞ্জে বাল্কহেডের ধাক্কায় একটি যাত্রীবাহী নৌকা ডুবে যায়। তখন ৯জন সাঁতরিয়ে তীঁরে উঠতে পারলেও বাকি ৫জন নিখোঁজ রয়েছে। শনিবার এ রিপোর্ট লেখা সময়ে ৫জন নিখোঁজ ছিল যাদের খোঁজে নদীতে ডুবুরী দল তল্লাশী চালাচ্ছিল।

দুর্ঘটনাকবলিত নৌকার মাঝি কালিমউল্লাহ জানান, বাল্কহেডের কোন বাতি ছিলনা। হঠাৎ করে অন্ধকারের মধ্যে যাত্রীবাহী নৌকায় ধাক্কা মারলে নৌকাটি ডুবে যায়। পরে দ্রুত বেগে বাল্কহেডসহ চালক পালিয়ে যায়।

নারায়ণগঞ্জ নৌ পুলিশ সুপার এস এম এহসাউল্লাহ জানান, বাল্কহেড বা নৌযান থেকে টাকা নেওয়ার কোন প্রশ্নই উঠে না। আমরা বাল্কহেড যাতে রাতে চলাচল না করে সে জন্য উদ্যোগ নিচ্ছি। কিন্তু আমাদের লোকবল কম হওয়ার কারণে সেটা কার্যকর করতে প্রায়শই আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

rabbhaban

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

মহানগর -এর সর্বশেষ