৪ কার্তিক ১৪২৫, শুক্রবার ১৯ অক্টোবর ২০১৮ , ৬:১৭ অপরাহ্ণ

UMo

ব্যবস্থা হয়নি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে, শিশুর পরিবারকে ম্যানেজের চেষ্টা


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:০৪ পিএম, ২৩ এপ্রিল ২০১৮ সোমবার


ব্যবস্থা হয়নি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে, শিশুর পরিবারকে ম্যানেজের চেষ্টা

আড়াই বছরের এক শিশুর প্রেসক্রিপশনে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন একাধিক ক্যাপসুল লেখা নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক গোলাম মোস্তফা ইমনের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালটির চিকিৎসা তত্ত্বাবধায়ক (সুপার) ও জেলা সিভিল সার্জন ডা. এহসানুল হক অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানালেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। তবে ওই শিশুটির পরিবারকে ম্যানেজের চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, ২১ এপ্রিল মোঃ রিপন ও বিথি আক্তার দম্পত্তির রাহি নামের আড়াই বছর বয়সী এক কণ্যা শিশুকে মাথা ফেটে যায়। তাকে নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নেয়া হলে ওই শিশুটির মাথায় ৩টি সেলাই করে দেয়া হয়। পরে জরুরী বিভাগের চিকিৎসক গোলাম মোস্তফা ইমন ওই আড়াই বছরের শিশুর প্রেসক্রিপশনে হাই পাওয়ারের ক্যাপসুল লিখে দেন। এর মধ্যে ফ্লুক্সিক্যাপ নামের ৫০০ মিলিগ্রাম পাওয়ারের ক্যাপসুল লিখেছেন দিনে ৪টি করে যা এক সপ্তাহে অর্থাৎ ২৮টি খেতে বলেছেন। এছাড়া টডেল ১০ মিলিগ্রাম পাওয়ারের ক্যাপসুল লিখেছেন প্রতিদিন ৩টি করে এবং ইসাপ ২০ মিলিগ্রাম পাওয়ারের ক্যাপসুল প্রতিদিন ২টি করে খাওয়ার জন্য মোট ৫দিন খেতে বলেছেন।

এদিকে শনিবার বিকেলে এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় মাধ্যমে ফেসবুকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসকের কান্ড লিখে প্রেসক্রিপশন ও শিশুটির ছবি আপলোড করেছেন শিশির নামের এক ব্যক্তি। আর ওই পোস্টের নিচে ইতিমধ্যে বেশ কিছু কমেন্টসও পড়েছে। যাতে অনেকেই ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। কোন সুস্থ মস্তিস্কের চিকিৎসক শিশুদের ক্যাপসুল ও ট্যাবলেট দিতে পারেন না বলে মন্তব্য করেছেন অনেকেই। এছাড়াও অনেকেই চিকিৎসককে কসাইয়ের সঙ্গেও তুলনা করেছেন। বিশেষ করে হাই পাওয়ারের ওষুধ শিশুদের জন্য ক্ষতিকর বলেই বিবেচিত। শিশুদের সাধারণত সিরাপ জাতীয় ওষুধ দেয়া হয়ে থাকে।

যদিও অভিযুক্ত নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগের ডা. গোলাম মোস্তফা ইমন মুঠোফোনে কল করা হলে জানান, আড়াই বছরের কোন শিশু ক্যাপসুল খেতে পারবেনা। আমার বিশ্বাস করি আমি এ ধরনের কোন প্রেসক্রিপশন করিনি। আমার ভুল হতেও পারে। আমি মানুষ। যদি আমি কোন শিশুর প্রেসক্রিপশনে ক্যাপসুল লিখে থাকিও তারপর ওই শিশুর পরিবার ফার্মেসীতে গিয়ে ভুল ধরতে পেরে আর আমার কাছে কিংবা হাসপাতালে ফেরত আসেনি। এ ধরনের প্রেসক্রিপশন আমার করার কথা না। আমি তো মানসিক প্রতিবন্ধী না।

এদিকে রোববার হাসপাতালটির চিকিৎসা তত্ত্বাবধায়ক (সুপার) ও জেলা সিভিল সার্জন ডা. এহসানুল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানালেও ২৩ এপ্রিল সোমবার তিনি অভিযুক্ত ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেননি বলে জানা গেছে। বরং শিশুটির পরিবারকে ম্যানেজের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। শিশুটির পরিবারের কাছে অভিযুক্ত চিকিৎসক কর্তৃক ক্ষমা চেয়ে গুরুত্বর এই অপরাধটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে ডা. এহসানুল হকের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

উল্লেখ্য ৮ বছরের নিচের কোন শিশুকে হাই পাওয়ারের ক্যাপসুল কিংবা ট্যাবেলট খেতে দেন না চিকিৎসকরা। এ বিষয়ে বিএমএ নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক ও শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. দেবাশীষ জানান, আমি কখনোই কোন চিকিৎসক শিশুদের জন্য এন্টিবায়োটিক ক্যাপসুল লিখেছেন এমনটি শুনিনি। এটা প্রথমই শুনলাম। ওই চিকিৎসক নিশ্চয়ই কোন ভুল করেছেন। এছাড়া আড়াই বছরের শিশু ক্যাপসুল কিভাবে খাবে। সাধারণত ৮ বছর বয়সী শিশুদের এন্টিবায়েটিক দেয়া হলেও সেটা ওজনের উপর নির্ভর করে দেয়া হয়। আমরা সাধারণত শিশুদের ইনজেকশন ও সিরাপ দিয়ে থাকি।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক গোলাম মোস্তফা ইমনের বিরুদ্ধে এর আগে চিকিৎসা দেয়ার বিষয়ে অনিয়ম, রোগী ও তার স্বজনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা, প্রয়োজনের অতিরিক্ত ওষুধ লেখা, বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানীর রিপ্রেজেনটিভদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে দামী ওষুধ লেখাসহ নানাবিধ অভিযোগ রয়েছে।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

মহানগর -এর সর্বশেষ