৪ কার্তিক ১৪২৫, শুক্রবার ১৯ অক্টোবর ২০১৮ , ৬:১৬ অপরাহ্ণ

UMo

অপরাধের করুণ পরিণতি ভয়ঙ্কর মৃত্যু


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৫২ পিএম, ১৬ মে ২০১৮ বুধবার


অপরাধের করুণ পরিণতি ভয়ঙ্কর মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন কারণে অপরাধের মাত্রা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। তবে অপরাধীদেরও বরণ করতে হচ্ছে করুণ মৃত্যু। র‌্যাব ও পুলিশ প্রশাসন হার্ডলাইনে অবস্থান করায় দুর্ধর্ষ অপরাধীদের বেপরোয়া কর্মকান্ডের ফলে প্রায় সময় বন্ধুকযুদ্ধে প্রাণ হারাচ্ছে। তবুও অপরাধের মাত্রা না কমে উল্টো বেড়ে যাচ্ছে।

সম্প্রতি শহরের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সাথে বন্দুক যুদ্ধে অপরাধীরা প্রাণ হারাচ্ছে।

গত ১৫ মে দিবাগত রাতে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় পুলিশের একটি অস্ত্র খোয়া ও পরে সেটা উদ্ধারের ঘটনার
পারভেজ (৩০) নামের এক মামলার আসামী ক্রসফায়ারে মারা যায়। ছিনতাইকারী দুই গ্রুপের গোলাগুলির সময়ে পুলিশ সেখানে উপস্থিত হলে ত্রিপক্ষীয় গোলাগুলিতে ক্রসফায়ারে ওই আসামী মারা যায়। ঘটনাস্থল থেকে ২ রাউন্ড গুলিভর্তি একটি রিভলবার ও ৩টা বড় ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে। ক্রসফায়ারে নিহত পারভেজ (৩০)। সে ফতুল্লার দাপা পাইলট স্কুল এলাকার সোবহান মিয়ার ছেলে।

জানা গেছে, ১৩ মে রোববার রাতে এএসআই সুমন কুমার পালের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম ফতুল্লা রেলস্টেশন রোড এলাকার একটি বালুর মাঠে ডিউটিরত অবস্থায় ছিলেন। গভীর রাতে কনস্টেবল সোহেল রানার সঙ্গে থাকা একটি চাইনিজ রাইফেল খোয়া যায়। পরদিন ১৪ মে সোমবার সকাল ১১টায় ফতুল্লার দাপা বালুর মাঠের পাশের একটি ডোবার পাশ থেকে রাইফেলটি উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানার এএসআই সুমন কুমার পাল, তিনজন কনস্টেবল মাসুদ রানা, আরিফ ও সোহেল রানাকে দায়িত্বে অবহেলার জন্য সাময়িক প্রত্যাহার করা হয়।

ওই ঘটনায় পরে সুমন পাল বাদী হয়ে পারভেজ সহ ৩জনকে আসামী করে সোমবার রাতেই ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করে। এতে অভিযোগ করা হয় পারভেজ ওই অস্ত্রটি লুট করেছিল।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, মঙ্গলবার রাত ২টায় আলামিন এলাকাতে ছিনতাইকারীদের দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির খবর পায়। ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের একটি টিম সেখানে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়লে পারভেজ ক্রসফায়ারে পরে মারা যায়। পারভেজ পুলিশের সোর্স হিসেবেই এলাকাতে পরিচিত।

ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক মজিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

এদিকে একই দিনে সকালে নারায়ণগঞ্জের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পাইনাদি এলাকায় র‌্যাবের সঙ্গে গোলাগুলিতে রাজ মহল রিখন (৪৫) নামে এক অপরাধী নিহত হয়েছে। র‌্যাবের দাবী নিহত ব্যক্তি মাদক ব্যবসায় সম্পৃক্ত। ওই গোলাগুলির বন্দুকযুদ্ধে আহত হয়েছে র‌্যাবের ৩ সদস্য। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে দুই রাউন্ড গুলিসহ একটি বিদেশী পিস্তল, ১০ হাজার ৭শ পিছ ইয়াবা বড়ি ও নগদ ২লাখ ১৩ হাজার টাকা।

নারায়ণগঞ্জের আদমজীতে অবস্থিত র‌্যাব-১১ এর সিনিয়র সহকারি পরিচালক মো: আলেপ উদ্দিন জানান, চট্টগ্রাম থেকে একটি ট্রাকে করে ইয়াবার চালান ঢাকার উদ্দেশ্যে যাচ্ছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাবের একটি দল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পাইনাদি এলাকায় চেকপোস্টের কাছাকাছি অবস্থান নেয়। ভোর ৫টায় একটি ট্রাক চেকপোস্ট পার হয়ে ঢাকার দিকে যাওয়ার সময় র‌্যাব গতিরোধ করে। ওই সময়ে ট্রাকের ভেতর থেকে র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ শুরু হয়। র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। এক পর্যায়ে লিখন গুলিবিদ্ধ হলে তার অন্য সহযোগীরা পালিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ লিকনকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত বলে ঘোষণা করেন। বন্দুকযুদ্ধে র‌্যাব-১১ এর ডিএডি রবিউল, ডিএডি আজিজ এবং এস আই নির্মল আহত হন। তাদেরকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। 

র‌্যাব জানায়, এ ঘটনায় সিদ্ধরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। নিহত রিকনের বিরুদ্ধে মেহেরপুর জেলাসহ আরো কোথাও কোন মামলা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই ঘটনার মাত্র কয়েকদিন আগে গত ৮ মে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় পুলিশের সঙ্গে বন্ধুকযুদ্ধে গুলিতে আহত সন্ত্রাসী মাকসুদুল ইসলাম লিখনকে (৩০) ২০দিন চিকিৎসা শেষে পঙ্গু হাসপাতাল থেকে আদালতে হাজির করেছে পুলিশ।

ওই দিন বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আশেক ইমামের আদালতে হাজির করা হলে আদালত শুনানী শেষে লিখনকে কারাগারে প্রেরনের নির্দেশ দেন। 

এর সত্যতা নিশ্চিত করে কোর্ট পুলিশের এসআই কামাল হোসেন বলেন, লিখনকে অস্ত্র ও মাদকের পৃথক দুটি মামলায় আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। এদুটি মামলায় রিমান্ড না চাওয়ায় আদালতের নির্দেশে লিখনকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে পরবর্তীতে এদুটি মামলায় লিখনের বিরুদ্ধে রিমান্ড চাইতে পারে পুলিশ। পুলিশ আদালতে লিখনের বিরুদ্ধে ফতুল্লাসহ বিভিন্ন থানায় অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজী সহ একাধীক মামলা দেখিয়েছে।

রূপগঞ্জ উপজেলায় ৯ মে বুধবার ভোরে র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে রাজু প্রধান নামে যুবকের মৃত্যু হয়েছে। র‌্যাব বলছে, রাজু প্রধান একজন চিহ্নিত ছিনতাইকারী ও সে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য। ঘটনাস্থল থেকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ বেশ কিছু ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার হয়েছে। উপজেলার পূর্বাচল উপশহর এলাকায় ৩শ’ ফুট সড়কে এই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। নিহতের রাজু প্রধান রূপগঞ্জের তারাবো এলাকার শামীম প্রধানের ছেলে। রাজুর বিরুদ্ধে এক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ছুরিকাঘাত করে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এদিকে স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, নিহত রাজু প্রধানের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় ছিনতাইসহ ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে হত্যার চেষ্টার মামলা রয়েছে। গত ২৭ এপ্রিল ডেমরা এলাকার লতিফ বাওয়ানী হাই স্কুলের এক নবম শ্রেণীর ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন করতে গিয়ে ছুরিকাঘাত করে হত্যার চেষ্টা করেছিল। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর পরিবার ঘটনার দিনউ রূপগঞ্জ থানিায় মামলা দায়ের করে। ছুরিকাঘাতে আহত ওই ছাত্রী এখনো ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ‘অপরাধীরা হয়তো মাঝে মাঝে নানাভাবে আইনের ফাঁকফোকড় দিয়ে সাময়িকভাবে পার পেয়ে গেলেও এক সময় তাদেরকে আইনের আওতায় পড়তে হয়। কথায় আছে, পাপ তার বাপকেও ছাড়েনা। তাই অপরাধী যত শক্তিশালী হোকনা কেন শাস্তি তাকে পেতেই হয়। হয়তো দুদিন আগে নয়তো পড়ে।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

মহানগর -এর সর্বশেষ