৬ কার্তিক ১৪২৫, সোমবার ২২ অক্টোবর ২০১৮ , ৬:১৮ পূর্বাহ্ণ

UMo

ইয়াবায় ফাঁসছে নারায়ণগঞ্জের অনেক পুলিশ কর্মকর্তা


স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৭:৪৯ পিএম, ১৮ মে ২০১৮ শুক্রবার


ইয়াবায় ফাঁসছে নারায়ণগঞ্জের অনেক পুলিশ কর্মকর্তা

ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত এএসআই সোহরাওয়াদী রুবেলের পর আরো দুইজন পুলিশ সদস্য গ্রেফতার হয়েছে যাদের একজন বন্দরের মদনগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির কনস্টেবল আসাদ। রুবেলের দেওয়া তথ্য ও স্বীকারোক্তিতে আসাদ সহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়। তবে তাদের সঙ্গে আরো কারা কারা জড়িত সে তথ্যও আছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে। তাঁদের ব্যাপারেও চলছে তদন্ত। যদিও ইতোমধ্যে ওই বাহিনীর একজন আরিফ পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ক্রসফায়ারে পড়ে মারা গেছে।

জানা গেছে, গত ৮ মার্চ রাতে ৪৯ হাজার পিস ইয়াবা এবং ইয়াবা বিক্রির ৪ লাখ ৯৫ হাজার ৫০০ টাকাসহ গ্রেফতার হয় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার এএসআই আলম সোহরাওয়ার্দী রুবেল। পরে গ্রেফতার করা হয় সাবিনা আক্তার রুনুকে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি এখন তদন্ত করছে সিআইডি। ওই মামলার তদন্ত করতে গিয়ে বেরিয়ে আসে অনেক অভিযান। একই মামলায় গ্রেফতার হলেন আরো দুই পুলিশ সদস্য। তারা হলেন রাজবাড়ী হাইওয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক বিল্লাল হোসেন ও নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানাধীন মদনগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির কনস্টেবল আসাদ।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি গত বুধবার রাতে মাদক মামলায় তাদের গ্রেফতার করে। ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিল্লালকে নারায়ণগঞ্জের আদালতে পাঠানো হলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এ ছাড়া কনস্টেবল আসাদ আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।

দুই পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদের মধ্য দিয়ে মাদক ব্যবসায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরও কয়েকজনের সংশ্নিষ্টতার চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র থেকে এ তথ্য জানা যায়।

সূত্র জানায়, সাবিনা আক্তার রুনুর স্বামী সাইফুল ইসলাম আরিফ ওরফে বাবা আরিফ চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। আরিফ সেখানকার একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ছিল। পুলিশের এসআই বিল্লাল, এএসআই রুবেল মুন্সীগঞ্জে কমর্রত থাকা অবস্থায় আরিফ ও তার স্ত্রী রুনুর সঙ্গে সখ্য তৈরি হয়। সেখানে তারা প্রথমে ইয়াবা সেবন করত, পরে ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে।

২০১৭ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর অস্ত্র মামলায় গ্রেফতার হয় আরিফ। এরপর কারা হেফাজতে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলো। ওই সময় প্রায়ই হাসপাতালে দেখতে যেত বিল্লাল। সর্বশেষ গত ৭ মার্চ বিল্লাল রুনুকে জানায়, ইয়াবার বড় পার্টি আছে। ৫ লাখ টাকা জোগাড় করলেই কাজ নেওয়া সম্ভব। রুনুকে সে আরও জানায়, ওই দিন মদনপুর বাসস্ট্যান্ডে একটি পার্টি ইয়াবা নিয়ে আসবে। সাইনবোর্ড এলাকায় রুনুর জন্য অপেক্ষা করবে সে। ওই দিন বিকেলে রুনুকে একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে সেখানে যোগাযোগ করে ইয়াবা সংগ্রহ করতে বলে এসআই বিল্লাল।

এ মামলার তদন্তে বেরিয়ে আসে টেকনাফের ইয়াবা ব্যবসায়ী শফি ইসলাম ওরফে শফিকের সঙ্গে বিল্লালের যোগাযোগ রয়েছে। তারা ঢাকা, নারায়ণঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ৮-১০ জন চালকের মাধ্যমে নিয়মিত ইয়াবার ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। এসব চালকের মধ্যে রয়েছে, লোকমান, রহিম, মান্নান, সিদ্দিক, রাজ্জাক, হুমায়ূন ও সোহাগ। এই গ্রুপের প্রধানের নাম ইলিয়াছ। ৬ মার্চ ইলিয়াস তার বিশ্বস্ত সহযোগী ছোটনকে ৫০ হাজার ইয়াবা নেওয়ার জন্য চকরিয়ায় নিউমার্কেটের সামনে আসতে বলে। ওই দিন রাত ৯টার দিকে ইলিয়াছসহ চারজন মাইক্রোবাসে নিউমার্কেটে আসেন। তাদের মধ্যে তিনজন মুখোশ পরা ছিল। এরপর ছোটনের কাছে ইয়াবার একটি ব্যাগ দেয় ইলিয়াছ। ওই সময় তাকে জানানো হয়, রুনু নামে একজন তার সঙ্গে ইয়াবার জন্য যোগাযোগ করবে। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ চক্রের সঙ্গে এসআই বিল্লাল ও কনস্টেবল আসাদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জকেন্দ্রিক ইয়াবা ব্যবসায় পরিদর্শক ও এসআই পদমর্যাদার আরও কয়েকজন কর্মকর্তার নাম উঠে এসেছে। যারা বিভিন্ন সময় মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের ছেড়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রসঙ্গত গত ২৫ এপ্রিল রাত ২টার দিকে আরিফকে নিয়ে মাদকদ্রব্য ও অস্ত্র উদ্ধারে ইউনিয়নের গজারিয়াকান্দি এলাকায় গেলে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আরিফ নিহত হয়। তার বিরুদ্ধে ১২টি মামলা রয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, বুধবার রাতে শতাধিক ইয়াবাসহ সাইফুল ইসলাম আরিফ ওরফে বাবা আরিফকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্য মতে তাকে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধারে যায় পুলিশ। এ সময় ওৎপেতে থাকা তার সন্ত্রাসী বাহিনীরা আরিফকে ছাড়িয়ে নেয়ার জন্য পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছোড়ে। এ সময় আরিফ গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলিতে দুই পুলিশ সদস্যও আহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলিসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ইয়াবা ব্যবসার সূত্র ধরে আরিফরে স্ত্রী রুনুর সঙ্গে পরিচয় হয় পুলিশের এএসআই সোরয়ার্দী রুবেলের সঙ্গে। একসময় তাদের মধ্যে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে সে সম্পর্ক একটা সময় নষ্ট হয়ে যায়।

rabbhaban

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

মহানগর -এর সর্বশেষ