৬ কার্তিক ১৪২৫, রবিবার ২১ অক্টোবর ২০১৮ , ৫:১৭ অপরাহ্ণ

UMo

ওয়াসার পানি সংকটে বিল আদায়ে নৈরাজ্য


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:২৬ পিএম, ২৩ মে ২০১৮ বুধবার


ওয়াসার পানি সংকটে বিল আদায়ে নৈরাজ্য

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ওয়াসার পানি সংকট সহ অনেক এলাকায় সরবরাহ একেবারে বন্ধ হয়ে গেলেও তা নিরসন না করে উল্টো পানির বিলের জন্য গ্রাহকদের চাপ দেয়া হচ্ছে। অথচ এমপি সেলিম ওসমান রমজানের আগে ওয়াসার পানি সংকট নিরসন করতে ওয়াসার প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলীকে নির্দেশ দিলেও এর তোয়াক্কা না করে উল্টো বিল আদায়ের নামে গ্রহকদের মুখ বন্ধ করার পাঁয়তারা করছে।

এদিকে গ্রাহকেরা বলছেন, পানির স্বাভাবিক সরবরাহ দিয়ে পানির বিল আদায় করলে কোন আপত্তি ছিলনা। কিন্তু সেবা না দিয়ে উল্টো বিল আদায়ে চাপ প্রয়োগ করলে এটা মরার উপর খাড়ার ঘা তে পরিণত হচ্ছে। আর পানি না পেলে আমরা বিল কেন দিব।

সম্প্রতি ধারাবাহিকভাবে ওয়াসার পানি সংকট থাকা সত্ত্বেও বিল আদায়ের নানা তথ্য পাওয়া যায়। বন্দর উপজেলার প্রায় সর্বত্রই ওয়াসার পানি সংকট রয়েছে। তবে সম্প্রতি ছালেহনগর, সোনাকান্দা সহ আশেপাশের আরো কয়েকটি এলাকায় পানি সরবরাহ একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে করে সেসব এলাকার মানুষজন পানি সংকটে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে। তবে এরুপ দুর্বিষহ জীবনযাপনে নতুন করে যুক্ত হয়েছে বিল আদায়ের চাপ প্রয়োগ।

গ্রাহকেরা অভিযোগ করে বলছেন, ‘ওয়াসা পানি সংকটে অনেকদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কিন্তু এই সংকট ধীরে ধীরে চরম আকার ধারণ করলেও ওয়সা অফিস এই সংকট নিরসনের কোন কিছুই করছেনা। আর কি কারণে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

সেবা না দিয়ে যদি এমনি এমনি পানি বিল আদায় করা যায় তাহলে কেন পানি সংকট নিরসনে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তাছাড়া পানি সংকট নিয়ে যাতে গ্রাহকেরা অভিযোগ দিতে না পারে সেজন্য তারা উল্টো বিল আদায়ে চাপ প্রয়োগ শুরু করেছে। কিন্তু সেবা না দিয়ে উল্টো বিল আদায় করবে এটা হতে পারেনা। তারা শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করছে, এটা কখনোই সম্ভব নয়। আগে পানি সরবরাহ স্বাভাবিক হোক তারপর বিল আদায় হবে। বিল দিতে আমাদের কোন আপত্তি নেই কিন্তু এমনিতে তারা পানি সংকট নিরসনে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেনা, এর মধ্যে যদি একবার বিল আদায় হয়ে যায় তাহলে আর আমাদের দিকে ফিরেও তাকাবেনা।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন গ্রাহক অভিযোগ করে বলেন, ‘ওয়াসার পানি সংকটের কারণে বিল আটকে দেই। কিন্তু এরপর ওয়াসার কর্মকর্তাদের চাপাচাপিতে বকেয়া বিলের অর্ধেকটা দিয়ে দিয়েছি। কিন্তু এখনতো পানি সরবরাহ একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। এখন কেন বিল দিব। কিন্তু তারা ওয়াসার পানি সংকটের কারণে দুর্ভোগের কথা শুনতেই চাচ্ছেনা। তারা শুধু বিল চায়। কিন্তু সেবা ছাড়া বিল আদায় করবে এটা হতে পারেনা।’

উল্লেখ্য গত ১ মার্চ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এক সভায় এমপি সেলিম ওসমান ওয়াসার প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলীর উপর প্রচন্ড ক্ষুব্ধ হয়ে এই মার্চ মাসের মধ্যে ওয়াসার পানির সকল সমস্যা সমাধানের নির্দেশ দেন। কিন্তু তার সেই নির্দেশনা সত্ত্বেও এখনো বন্দরবাসী কোন আশার আলো দেখেনি। উল্টো ওয়াসার পানি সংকট ধীরে ধীরে বেড়েই চলেছে। আর এর তীব্রতা দিন দিন বন্দবাসীর স্বস্তিকে অস্বস্তিতে পরিণত করছে। আর সবশেষে অনেক এলাকায় পানি সরবরাহ একেবারে বন্ধ হয়ে গেলে স্বস্তি অস্বস্তির সীমানা পেরিয়ে চরম দুর্ভোগের শেষ প্রান্তে পৌঁছে যায়।

বন্দরবাসী বলছে, ‘নির্বাচন আসলে আমাদের কাছে সকল জনপ্রতিনিধিরা আসে; অথচ ওয়াসার পানি সংকটের মত দুর্ভোগ দেখা দিলে জনপ্রতিনিধিদের কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়না। ওয়সার পানি সংকটে আর কতদিন দুর্ভোগ পোহালে জনপ্রতিনিধিদের টনক নড়বে। এ ব্যাপারে অভিযোগ করে আর কি হবে। একদিকে জনপ্রতিনিধিরা নিশ্চুপ; অন্যদিকে পানি সংকটের অভিযোগ এড়াতে ওয়াসার কর্মকর্তারা সেবা না দিয়ে উল্টো বিল আদায়ের মহোৎসবে মেতে উঠেছে। এটা তাদের একটা নতুন কৌশল, এই কৌশলে তাদের অভিযোগগুলো ঢাকতে তারা বিল ও বকেয়া বিল আদায়ের জন্য গ্রাহকদের চাপ দিয়ে আসছে। বিল দিতে গ্রহকদের কোন আপত্তি থাকার কথা না। কিন্তু যদি পানি সংকট থাকে তাহলে গ্রহকরা কেন বিল দিবে?

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

মহানগর -এর সর্বশেষ