৩ আশ্বিন ১৪২৫, মঙ্গলবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , ১০:২৬ অপরাহ্ণ

ইফতারীতে ভেজাল আতঙ্কে নগরবাসী


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৪৮ পিএম, ২৪ মে ২০১৮ বৃহস্পতিবার


ইফতারীতে ভেজাল আতঙ্কে নগরবাসী

বাহারি রকমের আইটেমে ছাড়া রমজান মাসের ইফতারীতে যেন পূর্ণতা আসে না। তবে এসব খাবারের অধিকাংশেই ভেজালে ভরপুর থাকার নজির প্রায়শই দেখা যাচ্ছে। এদিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন স্থানের রেঁস্তোরা ও ভাসমান মৌসুমী ইফতারীর দোকানগুলোতে বিক্রি হচ্ছে ভেজার খাবার যা ইফতারীতে ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া ইফতারীতে স্বাস্থকর খাবার হিসেবে চিকিৎসকরা নানা রকমের ফল খাওয়ার পরামর্শ দিলে তাতেও ফরমালিয়ের ভয় সচেতন নাগরিক ও রোজাদারকে তাড়া করে বেড়ায়। তবে কাজের প্রয়োজনে বাইরে অবস্থান করা রোজাদাররা এসব ভেজাল খাবার খেতে বাধ্য হচ্ছেন। আবার অনেকে মুখরোচক খাবারের লোভ সামলাতে না পেরে ভেজাল খাবারে আসক্ত হয়ে পড়ছেন।

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন স্থানে ভেজাল ইফতারী বিক্রির নানা তথ্য পাওয়া গেলেও চোখের অন্তরালে রয়ে যাচ্ছে। আর ভেজার বিরোধী অভিযানের হানা না পড়ার ফলে এর প্রবণতা দিন দিন আরো বেড়ে যাচ্ছে। আবার অনেক সময় স্বল্প পরিমানে ভেজাল বিরোধী হানা পড়লেও তা সামলে নিয়ে ফের পুরো উদ্যোমে ব্যবসা চালু করে।

ইফতারীতে আমাদের দেশে মুড়ি, পেঁয়াজু, আলু চপ, বেগুণী সাধারণত ব্যবহত হয়। এর মধ্যে মুড়ি তৈরিতে রাসায়নিক সার ব্যবহৃত হয়। বিক্রেতারা বলছেন, ‘ক্রেতারা লাল শক্ত মুড়ি পছন্দ করেনা। তারা সাদা, মোটা ও লম্বা মুড়ি পছন্দ করে। আর মুড়ি সাদা মোটা সুন্দর করতে হলে ট্যানারিতে ব্যবহার্য রাসায়নিক সোডিয়াম হাইড্রোসালফাইড ব্যবহৃত হচ্ছে।

এছাড়া ভাজা পোড়া হিসেবে পেঁয়াজু, আলাুর চপ, বেগুণী ইত্যাদি আইটেম পোড়া তেলে ভাজা হয় অর্থাৎ যে তেল কড়াই থেকে কখনো  অব্যাহতি পেয়েছে কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। এসব খাবারকে আরো আকর্ষণীয় করতে বিভিন্ন ধরণের ক্যামিকেল রং ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া জিলাপী দীর্ঘক্ষম মচমচে রাখতে ব্যবহৃত হচ্ছে পোড়া মবিল।

এদিকে ইফতারীতে তৈলাক্ত খাবার পরিহার করে স্বাস্থসম্মত খাবার গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা। তাই অনেকে স্বাস্থসম্মত খাবার হিসেবে বিভিন্ন ধরণের ফল বেছে নেয়। কিন্তু ফলকে বেশি সময় তাজা রাখতে ফরে ফরমালিন ব্যবহার করে থাকে। ফলের মধ্যে আম, খেজুর, আপেল, কমলা, মাল্টা, আঙ্গুর সহ বিভিন্ন ধরণে ফলে ফরমালিন ব্যবহার করে থাকে।

একাধিক সূত্র বলছে, ‘ইফতারীর বাসি বা পুরনো খাবার পরের দিনে গরম করে কিংবা পুরনায় তেলে ভেজে ফের বিক্রি করা হয়। এতে করে অনেক সময় ইফতারীর বিভিন্ন ধরণের খাবার থেকে ভ্যাপসা ও দুর্গন্ধ ছড়ায়। কিন্তু ইফতারীতের এসব বাসি খাবার কিনে ভেঙ্গে ফেলার পর তা আর ফেরত দেয়ার জো থাকেনা। তাছাড়া বিক্রির পর ফেরত দিতে গেলে দোকানিরা অনেক সময় সুকৌশলে তা অস্বীকার করে। তাছাড়া এসব খাবারের অধিকাংশ অস্বাস্থকর পরিবেশে তৈরি করা হয়।’

আবুল হাসানা অভিযোগ করে বলেন,‘তৃতীয় রমজানের ইফতারীতে চাষাঢ়া নবাব সলিমুল্লাহ সড়কের স্বনামধন্য এক রেঁস্তোরা থেকে ১৩ টি ডিম চপ কিনে এসে খাওয়ার সময় তা থেকে দুর্গন্ধ বের হয়। এরপর তা খেতে না পেরে দোকানে নিয়ে গেলে এটা তাদের পণ্য নয় বলে দেকানি অস্বীকার করে। যেকারণে বাসি, পচা খাবার ইফতরীর আইটেমের সাথে অনায়াসে দোকানিরা বিক্রি করে যাচ্ছে।

সূত্র বলছে, ‘রমজান মাসে ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয় এসব ভেজাল কারবারীদের শায়েস্তা করতে। কিন্তু এ বছর এখন পর্যন্ত ইফতারীর এসব খাবারের ভেজার বিরোধী তেমন কোন অভিযান পরিচালনা করতে দেখা যায়নি। এতে করে ভেজাল খাবার প্রস্তুরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিশ্চিন্তে তাদের ব্যবসা করে যাচ্ছে। আরে রোজাদার ব্যক্তিরা এসব খাবার খেয়ে ক্যান্সার, কিডনি জনিত মারাতœক রোগ সব বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

ফিচার -এর সর্বশেষ