ঈদ যাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ লঞ্চের রং চটা সাজ

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৩১ পিএম, ১২ জুন ২০১৮ মঙ্গলবার

ঈদ যাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ লঞ্চের রং চটা সাজ

ঈদকে সামনে রেখে ঝুঁকিপূর্ণ লঞ্চ মেরামত ও রঙ করার হিড়িক পড়েছে। এ জন্য চলছে ডকইয়ার্ডে বিশাল কর্মযজ্ঞ। ঈদের এই মৌসুমে ডকইয়ার্ডগুলোতে পুরনো নৌ যান সংস্কারের হিরিক পড়ে। লক্কর ঝক্কর লঞ্চ রংচং করে নতুন মোড়ক দেয়া হচ্ছে। এবারের ঈদযাত্রায় ৭টি রুটে নিয়মিত ৭০টির বাইরেও চলবে প্রায় ৩০টি ছোটো বড় নৌ যান। ঈদ যাত্রায় চলাচল করা নৌ যানের প্রায় অর্ধেক নৌ যান এখন রয়েছে বিভিন্ন ডকে। ফিটনেস জোগাড়ের জন্য চলছে তাদের সংস্কার।

আর এই লঞ্চগুলোদিয়ে ঝুঁকি নিয়েই বাড়ি ফেরার যুদ্ধ শুরু হবে ঘরমুখী মানুষের। ঈদ যাত্রায় যোগ করতে এসব নৌ যানে চলছে সংস্কার কাজ।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ যান মালিক সমিতির নেতা সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী ফিটনেস বিষয়ে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘প্রথমে টোকেন দেবে ৪০ দিনের, ৪৫ দিনের। এরপরে সার্ভে ডিক্লারেশনের জন্য পাঠায়। ৪০ দিনের মধ্যে যদি কোন ক্রটি থাকে, সেটা দেখে তারপরে ডিক্লারেশন দেয়। কোন সুযোগ নাই। সার্ভে ছাড়া, অথবা ফিটনেস ছাড়া কোন জাহাজ চলার সুযোগ নাই’।

বন্দর এবং কেরানীগঞ্জের কয়েকটি এলাকায় দেখা যায়, ওই এলাকায় পুরনো লঞ্চ নির্মাণ ও রং করার বিশাল এক কর্মযজ্ঞ চলছে। ফিটনেসবিহীন ও দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া লঞ্চগুলো মেরামত ও রং করার কাজ করছেন শ্রমিকরা। আসন্ন ঈদ উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারও বিভিন্ন রুটে ওই লঞ্চ নামানো হবে। অতিরিক্ত যাত্রীবহনের জন্য চলাচলে অনুপযোগী লঞ্চ অসাধু মালিকরা সেগুলোকে বিভিন্ন রুটে নামাবেন।

ডকইয়ার্ডের শ্রমিক নুরুল ইসলাম জানান, ঈদ এলে আমাদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। কোনো কোনো লঞ্চ নতুনভাবে নির্মাণ করা হয়। আবার যেসব লঞ্চ অতি পুরনো তা মেরামতে সময় লাগে। তিনি জানান, তাদের ডকইয়ার্ডে ৪ টি লঞ্চ মেরামতের কাজ চলছে। কাজ প্রায় ৮০ ভাগ শেষ। চলতি সপ্তাহে ডেলিভারি দিতে হবে।

আরেক শ্রমিক আজগর জানান, ঈদে বিভিন্ন রুটে অনেক যাত্রী চলাচল করে। লঞ্চের সংকটে অনেক যাত্রী তাদের গন্তব্যে যেতে পারে না। ঈদ উপলক্ষে ওই অতিরিক্ত যাত্রী বহনের জন্য ভাঙাচোরা ফিটনেসবিহীন লঞ্চমালিকেরা মেরামত করে নামান। কোনোটি রং করা হচ্ছে। আবার কোনোটির বডি ঠিক করা হচ্ছে। তাদের প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২০ জন শ্রমিক দিনরাত পরিশ্রম করছেন।

উল্লেখ্য সদর ঘাট থেকে ছেড়ে আসা কিছু লঞ্চ নারায়ণগঞ্জ থেকে যে যাত্রী বহন করে তার হিসেব বাদেও নারায়ণগঞ্জ থেকে ৭টি রুটে ৭০টির ন্যায় লঞ্চ চলাচল করে থাকে নিয়মিত। নারায়ণগঞ্জ থেকে মুন্সিগঞ্জ রুটে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা ৬-৭ টা পর্যন্ত ২০ মিনিট পর পর লঞ্চ ছেড়ে যায়। এই রুটে ২৫টি লঞ্চ চলাচল করে। নারায়ণগঞ্জ থেকে চাঁদপুর রুটে ১৫টি, মতলব-মাছুয়াখালী রুটে ১৯টি, হোমনা-রামচন্দ্রপুর ১টি, ওয়াবদা, সুরেশ্বর-নরিয়া (শরিয়তপুর) কয়েকটি লঞ্চ চলাচল করে থাকে।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও