১০ আষাঢ় ১৪২৫, রবিবার ২৪ জুন ২০১৮ , ১০:৫০ অপরাহ্ণ

ঈদ আনন্দের কেনাকাটায় ভোগান্তি ফিকে পড়ছে


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:৩০ পিএম, ১৩ জুন ২০১৮ বুধবার | আপডেট: ০৩:৩০ পিএম, ১৩ জুন ২০১৮ বুধবার


ঈদ আনন্দের কেনাকাটায় ভোগান্তি ফিকে পড়ছে

ঈদের কেনাকাটার আনন্দের চেয়ে বিড়ম্বনার পরিমাণ বেশি। একদিকে ঈদকে ঘিরে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়; অন্যদিকে ভ্যাপসা গরম কিংবা জলাবদ্ধতার চেয়ে জামা-কাপড় বাছাই ও দরদামের বিড়ম্বনা কোন অংশে কম নয়। যদিও পরিবার স্বজনদের আনন্দের কাছে এসব বিড়ম্বনা অনেকটা ফিকে পড়ে যায়। তাই বিড়ম্বনরা সত্ত্বেও কেনাকাটা করতে বিপণীবিতানগুলোতে ভিড় করছেন ক্রেতারা।

ঈদ উপলক্ষ্যে কেনাকাটায় ক্রেতাদের বিড়ম্বনার নানা চিত্র ফুটে উঠে।

৭ বছরের ছোট মেয়ে রিকীতা। বাবার সাথে ঈদের কেনাকাটা করতে এসে পড়েছে বিপাকে। মেয়ের জন্য বাবার পছন্দ করা জামা মেয়ের পছন্দ হচ্ছেনা। তাই অবশেষে মেয়ের বায়না রাখতে বেশি দাম দিয়ে মেয়ের পছন্দমত জর্জেটের জামা কিনতে হয়েছে রাজা মিয়াকে।

তাই রাজা মিয়া বেশ আক্ষেপ করে বলছেন, ‘রোজার শেষ অবস্থানে চলে আসাতে বিপণীবিতানগুলোতে ভিড় অনেকা বেড়ে গেছে। এদিকে প্রচন্ড ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে। আর এমনিতে দোকানগুলোতে গরম একটু বেশি লাগে। কিন্তু এসব কিছু উপেক্ষা করে কেনাকাটা করতে মেয়েকে নিয়ে বের হয়েছি। কিন্তু আমার পছন্দ আর মেয়ের পছন্দ কিছুতেই মিলছেনা। তাই বেশ বিপাকে পড়েছি। কিন্তু অবশেষে জর্জেটের গাউন পছন্দ হয়েছে। দামও ছিল বেশ চড়া। ৩ হাজার টাকা দিয়ে কিনতে হয়েছে। কিন্তু মেয়ের এটাই পছন্দ তাই বার বার এই ড্রেসটা কেনার জন্য বায়না করছিল। আরো অনেক পোশাক দেখিয়েছি। কিন্তু তার কোনটাই পছন্দ হচ্ছেনা। তাই মেয়ের পছন্দমত ড্রেস কিনে দিয়েছি।

এদিকে মায়ের হাত ধরে ঈদের কেনাকাটা করতে আসা ৪ বছরের ছোট শিশু রাজন বিপণি বিতানের এ দোকান ও দোকান করছে। কিন্তু তার কোন জামাই পছন্দ হচ্ছেনা। অবশেষে একটি দোকানের কটি দেওয়া শার্ট পছন্দ হয়েছে। কিন্তু এই গরমের কটি দেওয়া শার্ট একটুও পরিধান করতে পারবেনা। তাই রাজনের মা আরো কয়েকটি দোকান চষে বেড়িয়েছেন। কিন্তু রাজনের কিছুতেই অন্য কোন ড্রেস পছন্দ হচ্ছেনা। এদিকে রাজনের মা এদিকে সেদিক ছুটতে ছুটতে বেশ ক্লান্ত হয়ে উঠেছেন। তাই ছেলের পছন্দের কথা ভেবে অবশেষে সেই ড্রেসটি কিনে নিয়েছেন।

রাজনের মা বলছেন, ‘সন্তানদের আনন্দই আমাদের আনন্দ। তাই তাদের পছন্দ অনুসারে জামা-কাপড় কিনে দিয়েছি। তাদের আনন্দের জন্যই তো রমজান মাসে এতো ভিড় ঠেলে গরমের মধ্যে এতোসব ভোগান্তি পেরিয়ে কেনাকাট করতে এসেছি। আসলে কেনাকাটা করাটাই একটা ঝামেলার বিষয় তার উপরে ঈদের বাজারে ভিড় একটু বেশি থাকে। কিন্তু পরিবার স্বজনদের আনন্দের কাছে এসব ভোগান্তি ফিকে পড়ে যায়।’

বিক্রেতারা বলছেন, ‘ক্রেতাদের চাহিদা মত দেশি বিদেশি বিভিন্ন ব্যান্ডের কালেকশন উঠানো হয়েছে। মেয়ে শিশুদের চাহিদার শীর্ষে রয়েছে পার্টি ফ্রক, গাউন, লাসা আর ছেলে শিশুদের চাহিদার শীর্ষে রয়েছে কটি দেওয়া শার্ট বা গেঞ্জি সেট, পাঞ্চাবি ইত্যাদি। আর বড়দের জন্য বরাবরের মত বাহারি ব্যান্ডের শার্ট, প্যান্ট, পাঞ্জাবি, শর্ট পাঞ্জাবি, ফতুয়া ইত্যাদি। মেয়েদের জন্য বিভিন্ন ধরণের পোশাক রেয়েছে। তবে দেশিয় ব্যান্ডের চেয়ে বিদেশি ব্যান্ড বেশি দখল করে রেখেছে বিপণীবিতানগুলোর দোকান। তার মধ্যে ভারতীয় বিভিন্ন পোশাক, লেহেঙ্গো, জামা রযেছে। এছাড়া দেশি জামদানী, তাতের শাড়ী সহ বিভিন্ন ধরণের শাড়ী, থ্রী-পিস রয়েছে। আর ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসছে ক্রেতাদের ভিড় তত বাড়ছে।

এদিকে ক্রেতার বলছেন, ‘এক মার্কেটে পছন্দমত সব কিছু পাওয়া যাচ্ছেনা। তাই ভিড় ঠেলে এক মার্কেট থেকে অন্য মার্কেটে যেতে হচ্ছে। এর মধ্যে প্রচন্ড গরম অনুভূত হচ্ছে। আর বৃষ্টি আসলে সড়ক সহ বিভিন্ন স্থান জলাবদ্ধতায় তালিয়ে যাচ্ছে। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। কিন্তু তারপরও প্রিয়জনদের একটু আনন্দ দিতে পছন্দমত জামা-কাপড় খুঁজে বেড়াচ্ছি এখানে সেখানে। আর এই ঈদের তাদের মুখে হাসি ফুটিয়ে তুলতে পছন্দমত জামা-কাপড় সহ বিভিন্ন জিনিস কিনছি।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

মহানগর -এর সর্বশেষ