২ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, শনিবার ১৭ নভেম্বর ২০১৮ , ৩:০০ পূর্বাহ্ণ

rabbhaban

ঈদের ছুটিতে প্রস্তুত না.গঞ্জের বিনোদন স্পটগুলো


স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৬:৩১ পিএম, ১৫ জুন ২০১৮ শুক্রবার


ঈদের ছুটিতে প্রস্তুত না.গঞ্জের বিনোদন স্পটগুলো

পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে নারায়ণগঞ্জবাসীকে বিনোদন দিতে প্রস্তুত নারায়ণগঞ্জের বিনোদন স্পটগুলো। নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে পার্ক ও বিনোদন স্পটগুলো সাজানো হয়েছে নতুন সাজে।

শহরের বরফকলে চৌরঙ্গী ফ্যান্টাসি পার্ক : নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুরের বরফকল খেয়াঘাট সংলগ্ন স্থানে চৌরঙ্গী ফ্যান্টাসী পার্কে শিশু ও বিনোদন প্রেমীদের জন্য বসানো হয়েছে ৮টি রাইড। সেগুলো হলো রোলার কোস্টার, বাম্পার কার, ওয়ান্ডার হুইল, সুইং চেয়ার, মিউজিক বোট, মেরীগোল্ড, ফ্রিজবী ও রকেট। এছাড়া রয়েছে নাইন ডি থিয়েটার ও নদীর তীরে রয়েছে ভাসমান জাহাজে খাবারের ব্যবস্থা। রয়েছে রেষ্টুরেন্ট ও আইসক্রিম পার্লার। ভ্রমন পিপাসুদের জন্য প্রবেশ ফি মাত্র ৫০ টাকা। মূল ফটকের সামনে গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা রয়েছে।

ফতুল্লায় অ্যাডভেঞ্চার ল্যান্ড পার্ক :

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার পঞ্চবটিতে অ্যাডভেঞ্চার ল্যান্ড এমিউজমেন্ট পার্কটিতে বাম্পারকার, টুইস্ট, মেরী-গো-রাউন্ড, ওয়ান্ডার হুইল, হানি সুইং, সান্তা মারিয়া, সোহান অ্যাডভেঞ্চার, প্যারাট্রুপার, ফ্যামিলি ট্রেন, মুভিং টাওয়ারের মতো জনপ্রিয় ১০টি রাইড ও কিডস রাইড সংবলিত কিডস জোন রয়েছে। সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য লেক, ফোয়ারা, ফুলের বাগান ছাড়াও দর্শনার্থীদের জন্য জুসবার, চাইনিজ রেস্টুরেন্ট ও রেস্টহাউস রয়েছে। মূল ফটকের সামনে গাড়ি পার্কিংয়েরও বিশাল জায়গা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রবেশ ফি ১৫০ টাকা।  প্রবেশ ফির সঙ্গে একটি রাইড ফ্রি।

নম পার্ক :

ফতুল্লার লামাপাড়ায় খান সাহেব ওসমান আলী জাতীয় স্টেডিয়ামের বিপরীতে স্বল্প পরিসরে গড়ে উঠেছে বিনোদনকেন্দ্র নম পার্ক। এতে রয়েছে নাইনডি থিয়েটারসহ বেশ কিছু শিশুদের রাইড। রয়েছে রেষ্টুরেন্ট ও আইসক্রিম পার্লার।

নৈসর্গিক পরিবেশ রূƒপগঞ্জের জিন্দাপার্কে : সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গড়ে উঠেছে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের জিন্দাপার্ক। শুধু পার্ক বলেই শেষ করা যায় না। এখানে রয়েছে শিক্ষার উপাদান। প্রকৃতির রূপ-রসেরও গবেষণার ক্ষেত্রও এটি। ঢাকার খুব কাছেই রূপগঞ্জে ৪০ একর ভূমির ওপর গড়ে ওঠা  জিন্দাপার্কের নামেই রয়েছে একটি গ্রাম। এ পার্কে ফলদ, বনজ ও ঔষধিসহ নানা প্রকার প্রায় ২০ হাজার গাছ-গাছালি রয়েছে। গ্রামের মানুষ সমবায়ের মাধ্যমে নিজের এবং ইজারা নেওয়া ও কেনা জমি দিয়ে তিলে তিলে প্রাণপ্রিয় করে গড়ে তুলেছে এই নিসর্গকে। নৈসর্গিক পরিম-লে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মুক্তিযুদ্ধের সংগ্রহশালা ও লাইব্রেরি স্থাপন করা হয়েছে। এখানে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণার কাজ করছে। শিশুদের ভাষা তৈরির জন্য কাজ করছে।

রূপগঞ্জের ফানল্যান্ড পার্ক :

ঈদকে ঘিরে বিনোদনপ্রেমী পর্যটক ও দর্শনার্থীদের হৃদয় আকৃষ্ট করতে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যপূর্ণ গাছ-গাছালি বেষ্টিত মনোরম পরিবেশে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ঐরাবো এলাকায় গড়ে উঠেছে ফানল্যান্ড পার্ক। যেখানে রয়েছে বাম্পারকার, স্লাইডিং, পান হর্স, পেটেল বোর্ড, উড়োাজাহাজ, ড্রাগনসহ বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তিসম্মত খেলনা সামগ্রীর মাধ্যমে আনন্দ উপভোগ করতে নতুন আঙিকে প্রস্তুত করা হয়েছে।

বাংলার তাজমহল :

প্রেমের জন্য অমর হয়ে আছেন মোঘল স¤্রাট শাহজাহান তারা বিবির জন্য তাজমহল নির্মান করে। বিশ্বের ক’জনই আছেন সেখানে যাওয়ার অভিলাস প্রকাশ করেনা? কিন্তু যেতেই পারেন বা ক’জন? ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য সুখবর হলো আমাদের দেশেই নির্মিত হয়েছে বিশ্বের দ্বিতীয় তাজমহল। ঠিক সম্রাট শাহজাহানের গড়া আসল তাজমহল না হলেও আগ্রার তাজমহলের আদলেই গড়ে তোলা হয়েছে এই তাজমহলটি। নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁওয়ের পেরাবো এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা আহসান উল্লাহ মণি গড়ে তুলেছেন বাংলার তাজমহল। এই তাজমহল দেখতে হলে আপনাকে যেতে হবে সোনারগাঁওয়ের পেরাবো গ্রামে। সেখানে প্রবেশ ফি ৫০ টাকা। এছাড়া তাজমহলের পাশেই রয়েছে কৃত্রিম পিরামিড।

সোনারগাঁ জাদুঘর ও পানাম নগরী :

বাংলার প্রাচীন রাজধানী সোনারগাঁয়ে লোকশিল্প জাদুঘরে বাংলার প্রাচীন সুলতানদের ব্যবহৃত অস্ত্র শস্ত্র, তৈজসপত্র, পোশাক, বর্ম, অলংকার, বিশাল আকৃতির ঢাল তলোয়ার, প্রাচীন মুদ্রা ইত্যাদি। বড় সর্দার বাড়ি প্রাসাদটা দেখতে ঠিক রূপকথার প্রাসাদের মতো। সামনে রয়েছে পাথরের ঘোড়ায় চড়া সেপাই। লোকশিল্প জাদুঘরে রয়েছে জামদানি, নকশিকাঁথা, কাপড়ের পুতুল, পাটের ব্যাগ ও নানা রকম সামগ্রী, কাঠের কারুকাজ করা বিভিন্ন জিনিস, বাঁশ, বেত, শোলাসহ বিভিন্ন ধরনের কারুপণ্য। এখানে রয়েছে একটি বিশাল লেক। লেকে নৌকা ভ্রমণের ব্যবস্থা আছে। লোকশিল্প জাদুঘরের কাছেই পানামনগরী। প্রতœতত্ব বিভাগের অধীনে পুরো পানামনগরী সংরক্ষিত রয়েছে। কারুকার্য করা বিশাল সব প্রাসাদ, ভেতরে সিরামিকের কারুকার্যশোভিত দেয়াল, নাচঘর, ঝুল বারান্দা। সোনারগাঁওর সদর ও পানামনগরীর মধ্যে যোগাযোগের জন্য  তিনটি সেতু  রয়েছে। এই সেতু তিনটি মোগল আমলে নির্মাণ করা হয়েছিল। পানাম সেতু, দালালপুর সেতু এবং পানামনগর সেতু নামে পরিচিত এ তিনটি সেতু মোগল স্থাপত্যরীতির নিদর্শন। এ সেতুগুলো এখনও ব্যবহৃত হচ্ছে।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

মহানগর -এর সর্বশেষ