৭ শ্রাবণ ১৪২৫, সোমবার ২৩ জুলাই ২০১৮ , ৬:২৯ পূর্বাহ্ণ

৫ দিনের রিমাণ্ডে পিন্টু ও বাপেন, পুলিশ কেন ব্যর্থ?প্রশ্ন পরিবারের


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:৩৭ পিএম, ১০ জুলাই ২০১৮ মঙ্গলবার | আপডেট: ১০:৫৬ পিএম, ১০ জুলাই ২০১৮ মঙ্গলবার


বায়ে পিন্টু ডানে বাপেন

বায়ে পিন্টু ডানে বাপেন

নারায়ণগঞ্জ শহরের কালীরবাজার এলাকার স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রবীর ঘোষকে জীবিত উদ্ধার কিংবা মৃত উদ্ধারেরও বিলম্বের পেছনে পুলিশ প্রশাসনকে দায়ী করেছে নিহতের পরিবার। তাদের দাবী, ১৮ জুন নিখোঁজের পর থেকে বার বার পুলিশকে তাগাদা দিলেও কোন কাজ হয়নি। তবে শেষে ডিবি মাত্র ৩দিনেই ক্লু উদঘাটন করতে পেরেছে। কেন ব্যর্থ হলো পুলিশ সে প্রশ্নই এখন পরিবারের সামনে।

১৮ জুন কালীরবাজার স্বর্ণ মার্কেট ও বঙ্গবন্ধু সড়কের একটি বেসরকারি ব্যাংকের সিসি টিভি ফুটেজে দেখা গেছে, প্রবীর ঘোষ রাত ৯টা ২৫ মিনিটে কালীরবাজার রোড থেকে মূল সড়কে বেরিয়ে আসছেন। এরপর সর্বশেষ তাকে জাতীয় পার্টির কার্যালয় ঘেঁষা গলি দিয়ে রাত ৯টা ৩১ মিনিটে বের হতে দেখা গেছে।

নিখোঁজের ২১ দিন পর সোমবার ৯ জুলাই রাত ১১টায় শহরের আমলপাড়া এলাকার রাশেদুল ইসলাম ঠান্ডু মিয়ার ৪ তলা ভবনের নিচে সেপটিক ট্যাংক থেকে প্রবীরের লাশ উদ্ধার করা হয়। তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। টুকরো টুকরো করে লাশ ফেলে দেওয়া হয় ভবনের সেপটিক ট্যাংকে। পঁচন ধরে যায় লাশের মধ্যে। প্রবীরকে হত্যা করা হয়েছে মাথ, পা, হাত ও শরীরকে বিচ্ছিন্ন করে। হত্যার পর অংশগুলো সিমেন্টের ব্যাগে ভরে ফেলে দেওয়া হয়।

নিহতের ভাই বিপ্লব ঘোষ জানান, ১৮ জুনের পর ৯ জুলাই লাশ উদ্ধার হয়েছে যা অনেক লম্বা সময়। প্রথমে সদর মডেল থানা পুলিশকে জানালেও তেমন কোন অগ্রগতি হয়নি। বরং ৬ জুলাই তদন্তভার ডিবিকে দেওয়ার তিনদিন পরেই ক্লু উদঘাটন হয়েছে। পুলিশ এখানে ব্যর্থ।

এ ব্যাপারে মামলার কর্মকর্তা সদর মডেল থানার এসআই আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, আমরা বিষয়টির খুব কাছাকাছি ছিলাম। অবশেষে সদর থানা ও জেলা ডিবির যৌথ তদন্তে এর রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। মামলাটি ২ দিন আগে সদর থানা থেকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূরে আলম জানান, গত ১৮ জুন প্রবীর চন্দ্র ঘোষ নিখোঁজ হলে পরিবারের জিডির ভিত্তিতে সদর থানা পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করতে থাকে। কিন্তু পুলিশের তদন্তের অগ্রগতি না হলে গত ৫ জুলাই বিষয়টি তদন্তের ভার দেয়া হয় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশকে। গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করতে গিয়ে সোমবার সকালে পিন্টু ও বাবুকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে আটককৃতরা প্রবীর চন্দ্র ঘোষকে হত্যা করে লাশ গুম করেছে বলে স্বীকার করে। পরে তাদের সাথে নিয়ে গোয়েন্দা পুলিশ পিন্টুর ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে প্রবীরের লাশ উদ্ধার করে।

মঙ্গলবার বিকেলে গ্রেফতারকৃতদের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আফতাবুজ্জামানের আদালতে হাজির করা হলে আদালত শুনানী শেষে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের এসআই কামাল হোসেন এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

মহানগর -এর সর্বশেষ